মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৬:০৩ অপরাহ্ন

ছোটদের মাথায় হাত বুলিয়ে দুআ করা সুন্নত
রিপোর্টারের নাম / ২১১ কত বার
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১

ছোটদের মাথায় হাত বুলিয়ে দুআ করা সুন্নত
▬▬▬◍❂◍▬▬▬
প্রশ্ন: কারও‌ মাথার ওপরে হাত দিয়ে দুআ করে দেওয়া যাবে?
উত্তর:
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ هِشَامٍ وَكَانَ قَدْ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَذَهَبَتْ بِهِ أُمُّهُ زَيْنَبُ بِنْتُ حُمَيْدٍ إِلَى رَسُولِ اللهِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَايِعْهُ فَقَالَ هُوَ صَغِيرٌ فَمَسَحَ رَأْسَهُ وَدَعَا لَهُ
আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম রা. হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। তার মা যয়নব বিনতে হুমাইদ রা. একবার তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট নিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! একে বায়াত করে নিন। তিনি বললেন, সে তো ছোট। তখন তিনি তার মাথায় হাত বুলালেন এবং তার জন্য দুআ করলেন।” [সহিহ বুখারি (তাওহীদ), অধ্যায়: ৪৭/ অংশীদারিত্ব পরিচ্ছেদ: ৪৭/১৩. খাদ্য-দ্রব্য প্রভৃতিতে অংশীদারিত্ব]

এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, ছোটদের মাথায় হাত বুলিয়ে দুআ করা সুন্নত। আমরা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণে এমনটি করলে নেকি পাব।

– তাছাড়া হাদিসে বিশেষ করে পিতৃস্নেহ বঞ্চিত এতিম শিশুর মাথায় হাত বুলানোকে অন্তরের কঠোরতা এবং অভাব দূর হওয়ার একটি কারণ হিসেব উল্লেখ করা হয়েছে।

যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এক ব্যক্তি অন্তর শক্ত হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করলে তিনি তাকে বললেন,
أَتُحِبُّ أَنْ يَلِينَ قَلْبُكَ وَتُدْرِكَ حَاجَتَكَ؟ ” ارْحَمِ الْيَتِيمَ وَامْسَحْ بِرَأْسِهِ وَأَطْعِمْهُ مِنْ طَعَامِكَ يَلِنْ قَلْبُكَ وَتُدْرِكْ حَاجَتَكَ “.رواه الطبراني وله شواهد
“তুমি কি চাও তোমার অন্তর নরম হোক এবং অভাব দূর হোক? এতিমের প্রতি দয়া কর, তার মাথায় হাত বুলিয়ে দাও এবং তাকে তোমার খাবার থেকে খাওয়াও তবে তোমার অন্তর নরম হবে এবং অভাব দূর হবে।” (ত্ববারানী, এ হাদিসের সমর্থনে আরও একাধিক হাদিস রয়েছে, হাসান লি গাইরিহী, সহীহুত তারগীব, হা/২৫৪৪)

আমাদের সমাজেও এর প্রচলন রয়েছে-আল হামদুলিল্লাহ। আমাদের মুরুব্বীরা কম বয়সীদেরকে দোয়া দেয়ার জন্য তাদের প্রতি স্নেহ ও মমতা বশত: তাদের হাত বুলিয়ে দেন। এটা খুবই ভালো। বড়দের হাতের পরশে ছোটরা খুশি হয়। সত্যিকার অর্থেই ছোটরা বড়দের স্নেহ, মমতা, দুআ ও ভালবাসা পাওয়ার হকদার। এটি একজন মানুষের চারিত্রিক সৌন্দর্য এবং মমতা পূর্ণ হৃদয়ের পরিচয় বহন করে।
▬▬▬◍❂◍▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর..
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট