1. admin@avasmultimedia.com : Kaji Asad Bin Romjan : Kaji Asad Bin Romjan
সুদী ব্যাংকে চাকরি করার বিধান - Avas Multimedia
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন

সুদী ব্যাংকে চাকরি করার বিধান

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১
  • ১৭১ বার দেখেছে
সুদী ব্যাংকে চাকরি করার বিধান
————————————–
প্রশ্ন: আমার এক relative ব্যাংক এ জব করতে চায়। আমি তাকে বলছি যে, ব্যাংক এ জব করা হারাম কিন্তু সে দলিল চাইছে যে, কেন ব্যাংক এ জব করা হারাম হবে? আমি তাকে উপযুক্ত দলিল দিতে পারি নি। কারণ আমি নিজেও সঠিক ভাবে জানি না।
তাই আমি জানতে চাই যে, ব্যাংক সুদের সাথে কিভাবে জড়িত? ব্যাংক এর সাথে সুদ এর সম্পর্ক কি? কেন ব্যাংক এ জব করা হারাম হবে? জব করার সাথে সুদ এর কি সম্পর্ক? কারণ সে তো কাজ করবে টাকা পাবে?
উত্তর: সুদী কারবার করে এমন ব্যাংকে চাকুরী করা হারাম। কারণ, এতে গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। কেননা, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ অর্থ: “ পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না।” (সূরা মায়িদাহ: ২)
সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, জাবের রা. হতে বর্ণিত:
أنه لعن آكل الربا وموكله وكاتبه وشاهديه، وقال: هم سواء
“সুদ গ্রহীতা, সুদ দাতা, সুদের লেখক এবং স্বাক্ষীদ্বয়কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অভিশম্পাত করেছেন এবং বলেছেনو তারা সকলেই সমান (গুনাহগার)।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯৯৫, শামেলা)
তবে যে সকল ইসলামী ব্যাংক সুদ মুক্তভাবে কার্যক্রম করে সে সকল ব্যাংকে কাজ করায় দোষ নাই।
আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে সুদের গুনাহ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
⭕⭕⭕⭕⭕⭕⭕
প্রশ্ন:
সুদী ব্যাংকে চাকুরী করা কিভাবে ইসলামী শরীয়ত এর পরিপন্থী? পরিবারের সদস্যদেরকে এটা বলতে গেলে তারা তা না মেনে বিভিন্ন রকম যুক্তি দেয়। যেমন, মহানবী সা. এর সময় তো ব্যাংক ছিলো না। সেজন্য সুদের ব্যাপারগুলো ব্যাংকে চাকুরীর বিষয়ে প্রযোজ্য নয়। এরকম নানা যুক্তি। দয়া করে এ বিষয়ে জানালে উপকৃত হবো।
উত্তর:
ইসলামে সুদী কারবার করা কাবীরা গুনাহ বা বড় পাপ। এ মর্মে কুরআন-হাদীসে বহু সর্তকবাণী উচ্চারিত হয়েছে। সুতরাং সুদ সংশ্লিষ্ট সব কিছু থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা মুসলিমের জন্য আবশ্যক।
সুদী বাংকে চাকুরী করা গুনাহর কাজে সহযোগিতা করার শামিল। আল্লাহ বলেন:
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّـهَ ۖ إِنَّ اللَّـهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
“সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা।” (সূরা মায়িদাহ: ২)
রাসূল সা. এর যুগে ব্যাংক না থাকলেও সুদের ব্যাপাক প্রচলন ছিল। ইহুদীরা সূদী কারবারে ছিল অগ্রগামী। সেই প্রেক্ষাপটে কুরআন-সুন্নায় সুদ হারাম হওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা শক্তভাবে উচ্চারিত হয়েছে। এ মর্মে প্রমাণের অভাব নাই। সেই সাথে হারাম ও অন্যায় কর্মে সহযোগিতা করার ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে এ ধরণের যুক্তি মোটেও টেকে না যে, রাসুল সা. এর যুগে ব্যাংক ছিল না! কিন্তু বর্তমান যুগে আছে বলে তা জায়েয। রাসূল সা. এর যুগে তো বর্তমান যুগের নানা ধরণের মাদকদ্রব্য পাওয়া যেত না তাই বলে কি সেগুলো এখন হালাল? মোটেই না। ইসলামের বিধিবিধান সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য। ইসলামী শরিয়ার মূলনীতির আলোকে তা কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে নাম ও পরিস্থিতি যাই হোক না কেন।
যে সংশোধন হতে চায় সে কুরআন-হাদীসের একটি দলীল পেলেই সংশোধিত হয়ে যায় কিন্তু যে চায় না সে হাজারও দলীল পাওয়ার পরও কেবল কুযুক্তি ও ওজুহাতের আশ্রয় নেয়!
আল্লাহই হেদায়েতের মালিক।
—————————-
উত্তর দাতা:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলিল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

এই পোষ্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সর্ম্পকিত আরোও দেখুন
© আভাস মাল্টিমিডিয়া সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯-২০২৪