1. admin@avasmultimedia.com : Kaji Asad Bin Romjan : Kaji Asad Bin Romjan
শহর ছেড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলে যাওয়া প্রসঙ্গে কুরআনের অপব্যাখ্যা এবং ভ্রান্ত বক্তব্যের খণ্ডন | Avas Multimedia শহর ছেড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলে যাওয়া প্রসঙ্গে কুরআনের অপব্যাখ্যা এবং ভ্রান্ত বক্তব্যের খণ্ডন | Avas Multimedia
শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

শহর ছেড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলে যাওয়া প্রসঙ্গে কুরআনের অপব্যাখ্যা এবং ভ্রান্ত বক্তব্যের খণ্ডন

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৩ জুন, ২০২১
  • ১৩ বার দেখেছে
শহর ছেড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলে যাওয়া প্রসঙ্গে কুরআনের অপব্যাখ্যা এবং ভ্রান্ত বক্তব্যের খণ্ডন
প্রশ্ন: জনৈক বক্তা বলেছেন, “শহর কেন্দ্রিক জীবন ব্যবস্থা ত্যাগ করতে হবে। শহরে বাঁচা যাবে না। শহরগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে। এ কথার পক্ষে তিনি সূরা ইসরা এর ৫৮ নং আয়াত উল্লেখ করে দলিল পেশ করেছেন। এর পরিবর্তে প্রত্যন্ত অঞ্চলে-গ্রামে চলে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ কথা কি ঠিক?
——————
উত্তর:
এ বক্তব্য সঠিক নয়। বরং তা কুরআনের মনগড়া ব্যাখ্যা। মহান আল্লাহ বলেন,
وَإِن مِّن قَرْيَةٍ إِلَّا نَحْنُ مُهْلِكُوهَا قَبْلَ يَوْمِ ٱلْقِيَٰمَةِ أَوْ مُعَذِّبُوهَا عَذَابًا شَدِيدًاۚ كَانَ ذَٰلِكَ فِى ٱلْكِتَٰبِ مَسْطُورًا
“এমন কোন জনবসতি নেই যাকে আমি কিয়ামত দিনের পূর্বে ধ্বংস করব না কিংবা তাকে কঠিন শাস্তি দিব না, এটা (আল্লাহর) কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।” [সূরা ইসরা: ৫৮]
কিয়ামতের পূর্বে কেবল শহরগুলো ধ্বংস হবে না বরং শহর, নগর, বন্দর, প্রত্যন্ত অঞ্চল, গ্রাম-গঞ্জ ইত্যাদি প্রতিটি জনপদ ধ্বংস হবে। হয় মানুষের পাপাচারের কারণে আল্লাহর শাস্তি এসে সমস্ত জনপদ ধ্বংস করে দিবে অথবা কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার কারণে সেগুলো সব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। এমনকি পাহাড়-পর্বত সবকিছুই ধ্বংস হবে। যেমন:
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَيَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡجِبَالِ فَقُلۡ يَنسِفُهَا رَبِّي نَسۡفٗا
“আর তারা আপনাকে পর্বতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, ’আমার রব এগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দেবেন।” [সূরা ত্বা-হা: ১০৫]
এ জাতীয় আরও আয়াত রয়েছে।
(শায়খ আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. এর তাফসীর অবলম্বনে)
মক্কা-মদিনাও শহরে অবস্থিত। মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনে শহরের কসম খেয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَهَٰذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ ‎
“আর এই নিরাপদ নগরের কথা!” [সূরা ত্বীন: ৩]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও শহরের অধিবাসী ছিলেন। তিনি কখনো বড় হওয়ার পর শহর ছাড়া পল্লী-গ্রামে বসবাস করেন নি (বাল্যকালে দুধ মা হালিমা সাদিয়া এর দুগ্ধ পান কালীন সময় ছাড়া)। হিজরতের পরে তিনি মদিনায় বসবাসের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তিনি একটি বারও শহর ছেড়ে গ্রামে যেতে বলেন নি।
তাছাড়া বর্তমানে প্রত্যন্ত অঞ্চলে- গ্রামে-গঞ্জে শহরের প্রায় সব সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে গেছে। পাকা রাস্তা, বিল্ডিং, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, ওয়াইফাই সংযোগ, ডিশ এন্টেনা সংযোগ ইত্যাদি সব কিছু। গ্রামে-গঞ্জে পাপাচার, জিনা, ব্যভিচার, গান-বাজনা, চুরি, ডাকাতি, শিরক-বিদআত ইত্যাদি কিছুর কমনি নেই। বরং পল্লী অঞ্চলে শিক্ষার হাত কম হওয়ায়-বিশেষ করে দীন শিক্ষা থেকে দূরে থাকার ফলে সেখানকার লোকদের মাঝে কুসংস্কার, শিরক, বিদআত এবং নানা ভ্রান্ত কার্যক্রম শহরের তুলনায় বেশি। ইত্যাদি কারণে ইসলামে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করাকে অনুৎসাহিত করা হয়েছে।
نْ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ( مَنْ سَكَنَ البَادِيَةَ جَفَا) رواه الترمذي (2256) وقال: ” هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ “، ورواه أبو داود (2859 )، والنسائي (4309)، وصححه الألباني في “صحيح سنن الترمذي” (2256).
قال الملا علي القاري رحمه الله تعالى:
” ( مَنْ سَكَنَ البَادِيَةَ جَفَا )؛ أي جهل، قال تعالى: ( الْأَعْرَابُ أَشَدُّ كُفْرًا وَنِفَاقًا وَأَجْدَرُ أَلَّا يَعْلَمُوا حُدُودَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ ).
وقال القاضي: جفا الرجل إذا غلظ قلبه وقسا، ولم يرق لبر وصلة رحم، وهو الغالب على سكان البوادي لبعدهم عن أهل العلم وقلة اختلاطهم بالناس ” انتهى، من “مرقاة المفاتيح” (7 / 279).
وهذا الحديث يدل على كراهة الإقامة بالبادية وملازمتها.
আর শহর ছেড়ে এত মানুষ গ্রামে গিয়ে কোথায় বসবাস করবে? এর ফলে গ্রামই তো শহরে রূপান্তরিত হবে। কারণ শহরের মানুষ গ্রামে এসে বসবাস শুরু করলে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, আদালত, মন্ত্রণালয়, প্রচার কেন্দ্র (রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি) কূটনৈতিক অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ (যদি সেগুলো ইসলামি বানিয়ে দেয়া হয়) ইত্যাদি সব কিছু গ্রামে স্থাপন করতে হবে। আর বড় বড় কলকারখানা ইত্যাদি গ্রামে টেনে আনতে হবে অথবা সব বন্ধ করে দিতে হবে। তাহলে মানুষের জীবন যাত্রা কিভাবে সম্ভব হবে?
যাহোক, এমন হাজারও বড় বড় সমস্যা তৈরি হবে যদি মানুষ উক্ত বক্তার কথা অনুযায়ী শহর ছেড়ে গ্রামে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করার শুরু করে।
সুতরাং এ বক্তব্য কেবল কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী নয় বরং বিবেক ও বাস্তবতা বিবর্জিতও।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভবিষ্যতবাণীই সত্য হচ্ছে, কারণ তিনি বলেছেন, কেয়ামতের পূর্বে একশ্রেণী রুওয়াইবিযা বা তুচ্ছ-নির্বোধ মানুষ জাতীয় ইস্যুতে বক্তব্য দিবে। তাছাড়া তিনি আরও বলেছেন, কেয়ামতের পূর্বে এলেম উঠিয়ে নেয়া হলে মানুষ জাহিলদেরকেই নেতা বানিয়ে নেবে। অতঃপর তারা এলেম বিহীন ফতোয়া দিয়ে নিজেরা পথভ্রষ্ট হবে, অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমীন।
الله اعلم
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মাধ‌্যমগুলোতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর..

আজকের দিন-তারিখ

  • শনিবার (রাত ১:৪৮)
  • ৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২১শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত-২০২০-২০২১ ‍avasmultimedia.com
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD