1. admin@avasmultimedia.com : Kaji Asad Bin Romjan : Kaji Asad Bin Romjan
জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মা-হুয়া আহলুহ” হাদিসটি সহিহ সূত্রে প্রমাণিত নয় - Avas Multimedia জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মা-হুয়া আহলুহ” হাদিসটি সহিহ সূত্রে প্রমাণিত নয় | Avas Multimedia
শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কবিতা ::: আমি চাই ::: জুনাইরা নুহা নাকের ছিদ্রের পশম তুলে ফেলা জায়েজ কি? আব্দুল কাদের জিলানীর কারণে কি বাগদাদ শহরের কবর আজাব মাফ? কেউ যদি বুঝতে পারে যে, কিছুদিনের মধ্যে তার মৃত্যু হবে তাহলে তার জন্য ১০টি করণীয় ও দিক নির্দেশনা​ সুললিত কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত কারীর জন্য কতিপয় দিক নির্দেশনা এবং কণ্ঠের ‘রিয়া’ থেকে মুক্তির ১০ উপায় দাম্পত্য জীবনে ভালবাসা বৃদ্ধির কয়েকটি সহজ উপায় গান-বাজনা শোনার ক্ষতি, বাঁচার ১০ উপায় এবং সাবলিমিনাল সালাতে মনে বিনয়-নম্রতা ও ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং মনস্থির রাখার উপায় গুলো কি কি? কুরআন ভুলে যাওয়ার সমস্যা থেকে উত্তরণের ১০টি কার্যকরী উপায় সালাতে অলসতা দূর করার ১৩ উপায়
ঈদ মোবারক
শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মা-হুয়া আহলুহ” হাদিসটি সহিহ সূত্রে প্রমাণিত নয়

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১
  • ১৮ বার
“জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মা-হুয়া আহলুহ” হাদিসটি সহিহ সূত্রে প্রমাণিত নয়
নিম্নোক্ত হাদিসটি আমাদের দেশে খুবই প্রসিদ্ধ:
ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
مَنْ قَالَ: جَزَى اللَّهُ عَنَّا مُحَمَّدًا بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ، أَتْعَبَ سَبْعِينَ كَاتِبًا أَلْفَ صَبَاحٍ
“যে ব্যক্তি একবার এই দুআ পাঠ করবে, সত্তর জন ফেরেশতা এক হাজার দিন পর্যন্ত বিরতি হীনভাবে উহার সাওয়াব লিখতে থাকবে।” [মুজামুল কাবির লিত ত্ববারানি, হা/ ১১৫০৯, আওসাত, হা/২৩৫, হিলিয়া লি আবি নুয়াইম ৩/২০৬]
এ দুআটি অনেক ফজিলতের কিতাবে লেখা হয়েছে এবং অনেক আলেম জনগণকে তা আমল করার জন্য উৎসাহিত করেন। কিন্তু হাদিসটি যে সহিহ সনদে প্রমাণিত নয় সে বিষয়ে তারা কথা বলেন না বা মানুষকে সচেতন করেন না। অথচ আলেমদের জন্য তা অপরিহার্য ছিল।
যাহোক, নিম্নে এ হাদিসটির গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের অভিমত ও বিশ্লেষণ তুলে ধরা হল:
◍ ইমাম সাখাবী বলেন, এর সনদে ‘হানী ইবনুল মুতাওয়াক্কিল’ নামক একজন বর্ণনাকারী আছে। তিনি জয়ীফ (দুর্বল)। [সূত্র: আল কাওলুল বাদি/৬৬]
একই কথা বলেছেন,
◍ ইমাম যাহাবী [মিযানুল ইতিদাল ৪/২৯১]
◍ ইমাম হায়সামী [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/১৬৬]
◍ ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী [লিসানুল মিযান: ৮/৩২১]
এই ‘হানি ইবনুল মুতাওয়াক্কিল’ মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে متروك الحديث (হাদিসের ক্ষেত্রে পরিত্যাজ্য)
قال ابن حبان كانت تدخل عليه المناكير وكثرت ، فلا يجوز الاحتجاج به بحال ، وقال أبو حاتم الرازي أدركته ولم أكتب عنه “لسان الميزان” (6 /186)
◍ দিময়াতী বলেন: সাকীম (রোগাক্রান্ত/দুর্বল) [সূত্র: আল মাতজার আর রাবিহ, ২৪৭]
◍ শাইখ আলবানি বলেন: ضعيف جداً অত্যন্ত দুর্বল। [যঈফুর তারগিব, হা/১০৩৬] অন্যত্র তিনি এটিকে ‘মুনকার’ বলেছেন।
এ হাদিসের সনদ সম্পর্কে বিজ্ঞ মুহাদ্দিসীনদের বিশ্লেষণ ও অভিমত বিস্তারিত নিম্নরূপ:
هذا الحديث رواه الطبراني في “المعجم الأوسط” (235) ، وفي “المعجم الكبير” (11509) ، وأبو نعيم في “الحلية” (3/206) ، وإسماعيل الأصبهاني في “الترغيب والترهيب” (2/331) ، والخلعي في “الفوائد المنتقاة” (2/153) ، والخطيب في “تاريخه” (9/295) كلهم من طريق هَانِئ بْن الْمُتَوَكِّلِ قَالَ: نا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ( مَنْ قَالَ: جَزَى اللَّهُ عَنَّا مُحَمَّدًا بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ، أَتْعَبَ سَبْعِينَ كَاتِبًا أَلْفَ صَبَاحٍ ) .
وقال الطبراني عقبه : ” لَمْ يَرْوِ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عِكْرِمَةَ إِلَّا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، وَلَا عَنْ جَعْفَرِ إِلَّا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، تَفَرَّدَ بِهِ : هَانِئُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ ” .
وقال أبو نعيم عقبه : ” هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ عِكْرِمَةَ وَجَعْفَرٍ وَمُعَاوِيَةَ ، تَفَرَّدَ بِهِ هَانِي بْنُ الْمُتَوَكِّلِ الْإِسْكَنْدَرَانِيُّ ” .
وهانئ بن المتوكل هذا متروك الحديث ، قال ابن حبان كانت تدخل عليه المناكير وكثرت ، فلا يجوز الاحتجاج به بحال ، وقال أبو حاتم الرازي أدركته ولم أكتب عنه “لسان الميزان” (6 /186) .
وأورد الشيخ الألباني رحمه الله هذا الحديث في “الضعيفة” (5109) من هذا الطريق وقال ” منكر ” .
وله طريق آخر :
أخرجه محمد بن خلف وكيع في “أخبار القضاة” (3/ 273) ، وقوام السنة في “الترغيب والترهيب” (2/331) من طريق جعفر بْن عيسى الْحَسَني القاضي قَالَ: حَدَّثَنَا رشيد بْن سعد عَن معاوية بْن صالح ، به .
وهذا إسناد واه أيضا ، جعفر بن عيسى : قال أبو حاتم: جهمى ضعيف ، وقال أبو زرعة : صدوق .
“ميزان الاعتدال” (1 /413) .
وذكره الذهبي في “الضعفاء” (1/133) .
ورُشَيد بن سعد : ، قال ابن معين : ” ليس حديثه بشيء” اهـ من “تاريخ يحي بن معين، رواية ابن محرز” (1/51) .
فهذا الحديث ضعيف الإسناد جدا بطريقيه ، لا يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم.
(Source: Islamqa)
উপরোক্ত আলোচনা এবং বিজ্ঞ হাদিস বিশারদগণের মতামতের আলোকে প্রমাণিত হল যে, এ হাদিসটি সহিহ নয় বরং তা ‘মুনকার’ ও ‘অত্যধিক দুর্বল’। তা সাধারণ সামান্য দুর্বলতা সম্পন্ন কোনও হাদিস নয় যে ব্যাপারে কতিপয় আলেম ‘ফজিলতের ক্ষেত্রে জয়ীফ হাদিস আমলযোগ্য’ বলে মত দিয়েছেন। বরং তা ‘মুনকার’ (মারাত্মক পর্যায়ের দুর্বল) এবং ‘যাইফ জিদ্দান’ (অত্যধিক দুর্বল)-যা উসুলে হাদিসের বিধান অনুযায়ী আমল যোগ্য নয়।
হাদিসের কিতাবগুলোতে আমলযোগ্য অসংখ্য বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত হাদিস রয়েছে-আল হামদুলিল্লাহ। আমাদের কর্তব্য হল, সে সকল সহিহ হাদিসের আমলের প্রতি অধিক যত্নশীল হওয়া এবং অপ্রমাণিত, জাল, জইফ, মুনকার ইত্যাদি হাদিসগুলো পরিত্যাগ করা।
আল্লাহ তওফিক দান করুন। আমিন।
– আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার,সৌদি আরব

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মাধ‌্যমগুলোতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর..

আজকের দিন-তারিখ

  • শুক্রবার (রাত ৩:৪৬)
  • ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ৩রা সফর, ১৪৪৩ হিজরি
  • ২৬শে ভাদ্র, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল)
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত-২০২০-২০২১ ‍avasmultimedia.com
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD