1. admin@avasmultimedia.com : Kaji Asad Bin Romjan : Kaji Asad Bin Romjan
আত্মসমালোচনা: গুরুত্ব ও পদ্ধতি - Avas Multimedia আত্মসমালোচনা: গুরুত্ব ও পদ্ধতি | Avas Multimedia
শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কবিতা ::: আমি চাই ::: জুনাইরা নুহা নাকের ছিদ্রের পশম তুলে ফেলা জায়েজ কি? আব্দুল কাদের জিলানীর কারণে কি বাগদাদ শহরের কবর আজাব মাফ? কেউ যদি বুঝতে পারে যে, কিছুদিনের মধ্যে তার মৃত্যু হবে তাহলে তার জন্য ১০টি করণীয় ও দিক নির্দেশনা​ সুললিত কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত কারীর জন্য কতিপয় দিক নির্দেশনা এবং কণ্ঠের ‘রিয়া’ থেকে মুক্তির ১০ উপায় দাম্পত্য জীবনে ভালবাসা বৃদ্ধির কয়েকটি সহজ উপায় গান-বাজনা শোনার ক্ষতি, বাঁচার ১০ উপায় এবং সাবলিমিনাল সালাতে মনে বিনয়-নম্রতা ও ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং মনস্থির রাখার উপায় গুলো কি কি? কুরআন ভুলে যাওয়ার সমস্যা থেকে উত্তরণের ১০টি কার্যকরী উপায় সালাতে অলসতা দূর করার ১৩ উপায়
ঈদ মোবারক
শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন

আত্মসমালোচনা: গুরুত্ব ও পদ্ধতি

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৪ আগস্ট, ২০২১
  • ১০ বার
আত্মসমালোচনা: গুরুত্ব ও পদ্ধতি
▬▬▬🔸💠🔸▬▬▬
প্রশ্ন: নিজে নিজের সমালোচনা ও পর্যালোচনার গুরুত্ব কতটুকু এবং কিভাবে করব?
উত্তর:
নিন্মে আত্মসমালোচনার গুরুত্ব ও পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হল:
♻ ক. আত্মসমালোচনার গুরুত্ব:
আত্ম সংশোধনের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল, আত্মসমালোচনা বা আত্মপর্যালোচনা। অর্থাৎ কেউ যদি নির্জনে-একান্ত একাকীত্বে নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য, করণীয়-বর্জনীয়, সফলতা-ব্যর্থতা এবং দোষত্রুটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও হিসাব-নিকাশ করে তাহলে তার কাছে তার নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়বে।
আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মানুষকে বিবেক নামক এটি আয়না দিয়েছেন। মানুষ যদি সে আয়নার সামনে নিজেকে দাঁড় করায় তাহলে তার মধ্যে কোথায় কী সমস্যা আছে তা সে পরিষ্কার দেখতে পায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
بَلِ الْإِنسَانُ عَلَىٰ نَفْسِهِ بَصِيرَةٌ
“বরং মানুষ নিজেই নিজের ব্যাপারে খুব ভালো জানে।” (সূরা কিয়ামাহ: ১৪)
তাই তো উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলতেন:
حَاسِبُوا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُحَاسَبُوا وَزِنُوا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُوزَنُوا فَإِنَّهُ أَهْوَنُ عَلَيْكُمْ فِي الْحِسَابِ غَدًا أَنْ تُحَاسِبُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ ، وَتَزَيَّنُوا لِلْعَرْضِ الأَكْبَرِ ، يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ
“তোমরা নিজরা নিজেদের হিসাব নাও (পরকালে) হিসেবের সম্মুখীন হওয়ার পূর্বে এবং তোমরা নিজেরা নিজেদের মেপে নাও (পরকালে) তোমাদেরকে মাপার পূর্বে। কেননা, আজকের তোমার এই নিজে নিজে হিসাব-নিকাশ করাটা আগামী কালকে হিসাব দেয়ার চেয়ে অনেক সহজ। আর তোমরা বড় পরীক্ষা দেয়ার সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত হও। (আল্লাহ তাআলা বলেন)
يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ
“সেদিন তোমাদেরকে (আল্লাহর সামনে হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদান প্রদানের জন্য) পেশ করা হবে, তখন তোমাদের কোনকিছুই গোপন থাকবে না” (সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত নং ১৮)।”
(দ্রষ্টব্য : মুহাসাবাতুন নাফস-ইবনু আবিদ দুনিয়া, ২৯ পৃষ্ঠা, হাদিস নং ২/ আয-যুহুদ লিল ইমাম আহমাদ, ১২০ পৃষ্ঠা/ আবু নাঈম-হিলইয়া, ১ম খণ্ড, ৫২ পৃষ্ঠা/ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, ১৩ খণ্ড, ২৭০ পৃষ্ঠা/ মুআত্তা ইমাম মালিক, ২য় খণ্ড, ১১১ পৃষ্ঠা প্রভৃতি)
আরবিতে একটা প্রবাদ আছে:
أبصر الناس من نظر إلى عيوبه
“সবচেয়ে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন বা বিচক্ষণ মানুষ হল ঐ ব্যক্তি যে নিজের দোষ-ত্রুটি দেখে।”
তাই আমাদের কর্তব্য, নিজেদের দোষগুলো অনুসন্ধান করা এবং মৃত্যু দূত আমাদের দরজায় করাঘাত করার পূর্বে তওবা করে নিজেদেরকে সংশোধন করা।
♻ খ. আত্মসমালোচনা বা পর্যালোচনা করার পদ্ধতি:
▪ ১. যে কোন আমল করার পূর্বে নিশ্চিত হওয়া যে, উক্ত আমলটা শরিয়ত সম্মত কি না বা এ পেছনে সহিহ দলিল আছে কি না। দলিল না থাকলে তা হতে বিরত থাকা। কারণ দলিল বিহীন আলম বিদআত হিসেবে আল্লাহর নিকট প্রত্যাখ্যাত হবে।
▪ ২. আমল করার সময় মনে মনে ভাবা যে, আমলটি করার পেছনে আমার উদ্দেশ্য কি? আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন না কি লোকদেখানো? লোক দেখানো নিয়ত থাকলে নিয়তকে খালিস ভাবে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করা। কেননা, কেউ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত ছাড়া কোনো আমল করে তাহলে তা রিয়া হিসেবে আল্লাহর নিকট প্রত্যাখ্যাত হবে। (এটি শিরকে আসগার বা ছোট শিরক)।
▪ ৩. আমল করার পর পর্যালোচনা করা যে, আমি কি আল্লাহর হক যথাযথভাবে আদায় করতে পেরেছি? বা আমলটা কি যেভাবে করা দরকার সেভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে? অত:পর এ ক্ষেত্রে যদি ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়ে তাহলে আল্লাহর নিকট তওবা করে তা সংশোধন করা এবং পরবর্তীতে আরও সতর্ক হওয়া।
▪ ৪.এ ছাড়া সামগ্রিক জীবনের দোষত্রুটি, পাপাচার, আল্লাহর নাফরমানী, দায়িত্ব-কর্তব্য, করণীয়-বর্জনীয় ইত্যাদি নিজে নিজে হিসাব করার পর দোষত্রুটি সংশোধন করা, সে জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়া এবং আগামী দিনে আরও
যত্মসহকারে ও সুন্দরভাবে আল্লাহর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
পরিশেষ বলব, প্রতিটি মানুষ তার নিজের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানে এবং প্রতিটি মানুষ তার বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ। সুতরাং মানুষ যদি নিজ কর্মের হিসাব-নিসাব নিজে নিজে করে আত্মশুদ্ধি করে তাহলে নিশ্চিতভাবে আশা যায়, তার দুনিয়ার জীবন যেমন সুন্দর হবে ঠিক তেমনি আখিরাতের জীবন হবে আরও বেশি সাফল্যমণ্ডিত এবং রক্ষা পাওয়া যাবে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে।
আল্লাহু তাওফিক দান করুন। আমীন।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আবদুল জলীল
জুবাইল, সৌদি আরব

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মাধ‌্যমগুলোতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর..

আজকের দিন-তারিখ

  • শুক্রবার (রাত ৮:৩৯)
  • ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ৩রা সফর, ১৪৪৩ হিজরি
  • ২৬শে ভাদ্র, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল)
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত-২০২০-২০২১ ‍avasmultimedia.com
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD