1. admin@avasmultimedia.com : Kaji Asad Bin Romjan : Kaji Asad Bin Romjan
মনের মধ্যে দ্বীন-ইসলাম, আল্লাহ, রাসূল ইত্যাদি সম্পর্কে সংশয়, সন্দেহ ও কুচিন্তা জাগ্রত হলে তা থেকে মুক্তির উপায় - Avas Multimedia মনের মধ্যে দ্বীন-ইসলাম, আল্লাহ, রাসূল ইত্যাদি সম্পর্কে সংশয়, সন্দেহ ও কুচিন্তা জাগ্রত হলে তা থেকে মুক্তির উপায় - Avas Multimedia
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গোশতের টুকরায়, গাছের পাতায়, মাছের গায়ে, রুটিতে, বাচ্চার শরীর ইত্যাদিতে আল্লাহর নাম: একটা ঘটনা প্রায় শোনা যায় যে, ইবলিস মুসা আলাইহিস সালাম-এর কাছে তওবা করতে চেয়েছিল। মুহররম মাসের ফজিলত ও করণীয় সম্পর্কে বর্ণিত ১৪টি সহিহ হাদিস অতিরিক্ত দামীও নয় আবার ছেঁড়া-ফাটাও নয় বরং মধ্যম মানের পোশাক পরা উচিৎ সুন্নতি পোশাক (পুরুষ-নারী) আশুরা তথা মুহররমের ১০ তারিখে রোযা রাখার ফযিলত কি? হুসাইন রা. এর শাহাদাত এবং আশুরার শোক পালন প্রসঙ্গে এক ঝলক ইবাদত শব্দের অর্থ ও ব্যাখ্যা কি? ব্যবসা, চাকুরী, সাংসারিক কাজ-কারবার ইত্যাদি দুনিয়াবি কাজে কি সওয়াব পাওয়া যায়? অনুমতি ছাড়া স্বামী-স্ত্রী একে অপরের অর্থ-সম্পদ খরচ করা রাতের বেলায় যে সকল সূরা ও আয়াত পড়ার ব্যাপারে হাদিস বর্ণিত হয়েছে

মনের মধ্যে দ্বীন-ইসলাম, আল্লাহ, রাসূল ইত্যাদি সম্পর্কে সংশয়, সন্দেহ ও কুচিন্তা জাগ্রত হলে তা থেকে মুক্তির উপায়

প্রতিবেদকের নাম:
  • আপডেটের সময়: বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৭০ বার
মনের মধ্যে দ্বীন-ইসলাম, আল্লাহ, রাসূল ইত্যাদি সম্পর্কে সংশয়, সন্দেহ ও কুচিন্তা জাগ্রত হলে তা থেকে মুক্তির উপায়
▬▬▬🔹♦🔹▬▬▬
প্রশ্ন: কখনো কখনো মনে সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি হয় যে, আমি যে ধর্ম পালন করছি, সেটা আসলে সঠিক নাকি সঠিক নয়। যদি মনে এ ধরণের কু চিন্তা উঁকি দেয় তাহলে কী করণীয়? এ থেকে মুক্তির উপায় কি?
কারো মধ্যে যদি এই ধরণের সংশয় দেখা যায় তাহলে কি সে এর মাধ্যমে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে মানে মুরতাদ হয়ে যাবে?
উত্তর:
নিম্নে কয়েকটি পয়েন্টে বিষয়গুলো আলোচনা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।
❐ আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা হল ইসলাম:
আমাদের জানা আবশ্যক যে, দ্বীন-ইসলাম হচ্ছে বিশ্ব মানবতার জন্য আল্লাহ তা’আলার নিকট একমাত্র মনোনীত ও গ্রহণীয় জীবন ব্যবস্থার নাম। ইসলাম ছাড়া যত ধর্ম এবং মতাদর্শ রয়েছে সবই বাতিল- মিথ্যা। আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّـهِ الْإِسْلَامُ
“আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন (জীবন ব্যবস্থা) ইসলাম।” (সূরা আলে ইমরান: ১৯)
তিনি আরও বলেন:
وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
“যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য দ্বীন (ধর্ম, মতাদর্শ,জীবন ব্যবস্থা) অনুসন্ধান করবে তার নিকট থেকে তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না এবং সে ব্যক্তি হবে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা আলে ইমরান: ৮৫)
সুতরাং আমাদের মনের মধ্যে এই দৃঢ় বিশ্বাস প্রথিত করা অপরিহার্য যে, আল্লাহ তা’আলার নিকট একমাত্র পছন্দনীয়, নির্বাচিত এবং গ্রহণযোগ্য দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থার নাম হচ্ছে ইসলাম। ইসলাম ছাড়া যত ধর্ম, মতামত ও মতাদর্শ আছে সবই বাতিল, ভ্রান্ত এবং মিথ্যা।
কেউ যদি ইসলামের প্রতি সন্দেহ পোষণ করে বা ইসলামকে প্রত্যাখ্যান করে সে নিশ্চিতভাবে কাফির হয়ে যাবে। আর কাফিরের পরিণতি চিরস্থায়ী জাহান্নাম।
♻ মানুষের ঈমান হরণের দুটি ভয়ানক শত্রু এবং সেগুলো থেকে আত্মরক্ষার উপায়:
❖ ১) শয়তান:
আমাদেরকে এ বিষয়ে সর্তক থাকা অপরিহার্য যে, আমাদের ঈমান (বিশ্বাস) এর মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করার জন্য আমাদের প্রকাশ্য শত্রু বসে নেই। সে হল, আমাদের পরীক্ষিত দুশমন বিতাড়িত শয়তান। শয়তান মানুষের হৃদয় পটে নানা সংশয়-সন্দেহ ও ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) সৃষ্টি করে, যেন মানুষ আল্লাহর দ্বীন থেকে দূরে সরে যায়।
এই জন্য আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সুস্পষ্ট ভাষায় এই শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন যেমন আমরা এই শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আত্মরক্ষা করতে পারি। তিনি বলেন,
الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ
“(সেই শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি) যে মানুষের হৃদয় পটে কুমন্ত্রণা দিয়ে আত্মগোপন করে।” (সূরা নাস: ৫)
তবে এ ধরণের চিন্তা যদি এসে যায়, শয়তান যদি কুমন্ত্রণা দিয়েই বসে, তাহলে সেক্ষেত্রে এর সমাধান কি এবং কী করণীয় এটা আল্লাহ কুরআনে আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা বলছেন:
إِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّـهِ ۚ
“আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে’আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো।” (সূরা আ’রাফ: ২০০)
অর্থাৎ আউযুবিল্লাহি মিনাশ শয়ত্বানির রাজীম (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি) পাঠ করো।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এ সমস্যার সমাধান দিলেন যে, যখনই আমাদের মনের মধ্যে কোনও কুচিন্তা জাগ্রত হবে, দ্বীন ইসলাম নিয়ে সংশয় এবং সন্দেহ সৃষ্টি হবে, আল্লাহ, নবী বা ইসলামের কোন বিষয়ে কোন ধরণের সংশয় তৈরি হবে আমাদেরকে তৎক্ষণাৎ বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। যখনই আমরা ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শয়তানির রাজীম পাঠ করবো, আমাদের মনের ভিতর থেকে এ ধরণের খারাপ চিন্তা দূর হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ।
❖ ২) নফসে আম্মারাহ বা কু প্রবৃত্তি:
আমাদের মনে সংশয় সৃষ্টির আরেকটি গোপন শক্তি দায়ী। আর তা হল, নফসে আম্মারা বা কু প্রবৃত্তি। এই নফসে আম্মারা বা কু প্রবৃত্তি মানুষকে খারাপ কাজের দিকে প্ররোচিত করে এবং সংশয় ও সন্দেহের দিকে ধাবিত করে। এর কারণেও মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে যাই-বিপথে চলে যায়।
তাই তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই কু প্রবৃত্তির অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন। তিনি বলেছেন,
وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا
“আমরা আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমাদের নফস (কু প্রবৃত্তি) এবং কৃত কর্মের অনিষ্ট থেকে।” (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিখ্যাত খুতবাতুল হাজাহ)
সেই সাথে তিনি নিম্নোক্ত দুয়াটিও পাঠ করতেন:
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
“হে অন্তরের পরিবর্তনকারী, তুমি আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখো।” (সহীহ তিরমিযী, অধ্যায়: তকদীর, অনুচ্ছেদ: বান্দার অন্তরগুলো রয়েছে দয়াময় আল্লাহর আঙ্গুলের মাঝে, হা/২১৪০- আলবানী)
সুতরাং আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা ও দুআ করতে হবে, তিনি যেন আমাদের অন্তরগুলোকে তার দ্বীনের উপর সুদৃঢ় রাখেন, যেন আমাদের পরীক্ষিত শত্রু ইবলিস ওয়াসওয়াসা দিয়ে আমাদের হৃদয়ের রাজপ্রাসাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ঈমান হরণ করতে না পারে এবং কু প্রবৃত্তির প্ররোচনায় আমরা যেন দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে বিপথে চলে না যাই।
মনের সংশয় দূর করার অন্যতম উপায় হল কুরআন অধ্যয়ন করা:
সব ধরণের সংশয়, সন্দেহ, কুচিন্তা ও কু প্রবৃত্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর নিকট দুআ ও আশ্রয় প্রার্থনার পাশাপাশি আমাদের উচিৎ, আল কুরআন গভীরভাবে স্টাডি করা। আমরা কুরআনুল কারিমের সাথে যত বেশি সুসম্পর্ক তৈরি করবো এবং কুরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি তার তরজমা ও ব্যাখ্যা বুঝার চেষ্টা করবো ততই আমাদের অন্তরগুলো আলোকিত হয়ে উঠবে। একটা একটা করে খুলে যাবে হৃদয়ের বদ্ধ তালা আর আলোকিত হয়ে উঠবে ভেতরের সকল অন্ধকার।
সুতরাং আমরা যদি আমাদের মনকে কলুষমুক্ত রাখতে চাই এবং সকল সংশয় ও সন্দেহ রোগ থেকে মুক্তি পেতে চাই তাহলে আমাদের করণীয় হল, আল কুরআনের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করা, বেশি বেশি কুরআন পাঠ করা, তার অর্থ ও তাফসীর জানা এবং কুরআনের আলোয় আলোকিত হওয়ার চেষ্টা করা। এর মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ আমাদের ভেতরটা আলোকিত হবে। সেখানে শয়তান বাসা বাঁধতে পারবে না এবং কোনো রূপ সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।
❐ দ্বীন-ইসলাম বা আল্লাহ-রাসূল ইত্যাদি সম্পর্কে সন্দেহ, সংশয় ও কুচিন্তা থেকে মুক্তির জন্য করণীয় সমূহ সংক্ষেপে :
▪১) আল্লাহর নিকট বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা বা আউযুবিল্লাহি মিনাশ শয়তানির রাজীম পাঠ করা।
▪২) এই সন্দেহ রোগ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করা।
▪৩) সন্দেহ ও বাজে চিন্তা-ভাবনা না করা এবং আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী অব্যাহত রাখা, ইস্তিগফার ও যিকির-আযকারগুলো পড়া।
▪৪) তরজমা ও তাফসীর সহকারে কুরআন অধ্যয়ন করা।
▪৫) কোন বিষয়ে সন্দেহ বা প্রশ্ন সৃষ্টি হলে বড় আলেমদেকে জিজ্ঞেস করা এবং তাদের নিকট দীনী ইলম অর্জন করা।
▪৬) নাস্তিক ও ধর্ম বিদ্বেষীদের নানা অভিযোগের উত্তর সম্পর্কিত ইসলামী স্কলারদের বই পড়া এবং লেকচার শোনা।
▪ ৭) ইসলাম সম্পর্কে পরিপক্ব জ্ঞান ছাড়া নাস্তিক, ধর্মদ্রোহী ও সংশয়বাদীদের বই-পুস্তক না পড়া বা তাদের সংশ্রব থেকে দূরে থাকা।
▬▬▬▬▬▬▬▬
❐প্রশ্ন: কারো মনে যদি ইসলাম বা আল্লাহর সম্পর্কে খারাপ চিন্তা সৃষ্টি হয় তাহলে সে কি মুরতাদ বা দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে?
উত্তর:
🔸 কেউ যদি মনে মনে ইসলাম, ঈমান, আল্লাহ, রাসূল বা দ্বীনের কোন বিষয়ে ধরণের কুচিন্তা অনুভব করে, অন্তরে দ্বীনের ব্যাপারে সংশয় ও সন্দেহ দেখা যায় কিন্তু পরক্ষণেই যদি এ থেকে মুক্তির জন্য মনে অস্থিরতা অনুভব করে বা এ ভয়ে আতঙ্কিত হয় যে, এতে করে সে পাপের মধ্যে ডুবে গেলো কি না,ইসলাম থেকে বের হয়ে গেল কি না, সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেল কিনা.. তাহলে বুঝতে হবে, সে একজন ইমানদার। এই মনের অস্থিরতা ও পাপবোধ তার সুস্পষ্ট ঈমানের পরিচায়ক। আল হামদুলিল্লাহ।
যেমন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
🔸 আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত,
جَاءَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلُوهُ إِنَّا نَجِدُ فِي أَنْفُسِنَا مَا يَتَعَاظَمُ أَحَدُنَا أَنْ يَتَكَلَّمَ بِهِ قَالَ وَقَدْ وَجَدْتُمُوهُ قَالُوا نَعَمْ قَالَ ذَاكَ صَرِيحُ الْإِيمَانِ
“সাহাবীদের একদল লোক রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে আগমন করে জিজ্ঞাসা করল, আমরা আমাদের অন্তরে কখনো কখনো এমন বিষয় অনুভব করি, যা মুখ দিয়ে উচ্চারণ করা আমাদের কাছে খুব কঠিন মনে হয়। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন যে, সত্যিই কি তোমরা এরকম পেয়ে থাক? তাঁরা বললেন হ্যাঁ, আমরা এরকম অনুভব করে থাকি। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটি তোমাদের ঈমানের স্পষ্ট প্রমাণ”। (সহীহ মুসলিম)
🔸 মনে মনে কোন বিষয়ে খারাপ চিন্তা-ভাবনা করলেই সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে না যতক্ষণ না মুখে প্রকাশ করে বা কাজে পরিণত করে।
যেমন:
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لأُمَّتِي عَمَّا وَسْوَسَتْ أَوْ حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا، مَا لَمْ تَعْمَلْ بِهِ أَوْ تَكَلَّمْ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা আমার উম্মতের সে সমস্ত ওয়াসওয়াসা মাফ করে দিয়েছেন যা তাদের মনে উদয় হয় বা যে সব কথা মনে মনে বলে থাকে; যতক্ষণ না তা কাজে পরিণত করে বা সে সম্পর্কে কারও কাছে কিছু বলে।” [(সহীহ বুখারী ও মুসলিম। সহীহ বুখারী হাদিস নম্বরঃ [6209] অধ্যায়ঃ ৭১/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور) ইসলামিক ফাউন্ডেশন]
ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত,
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إنِّى اُحَدِّثُ نَفْسِى بِالشَّيْءِ لَأَنْ يَكُونَ حُمَمَةً أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَن ْ يَتَكَلَّمَ بِهِ فَقَالَ النبي صلى الله عليه وسلم الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَدَّ أَمْرَهُ إِلَى الْوَسْوَسَةِ
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে একজন লোক আগমন করে বলল, আমার মনে কখনো এমন কথার উদয় হয়, যা উচ্চারণ করার চেয়ে আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া আমার কাছে বেশী ভাল মনে হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি এই বিষয়টিকে নিছক একটি মনের ওয়াস্‌ওয়াসা (কুমন্ত্রণা) হিসাবে নির্ধারণ করেছেন।” (সুনানে আবু দাউদ)
পরিশেষে দুআ করি, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সব ধরণের সন্দেহ, সংশয় ও শয়তানী কুমন্ত্রণা থেকে হেফাজত করুন এবং মৃত্যু অবধি ইসলাম ও ঈমানকে বুকে ধারণ করে জীবন অতিবাহিত করা তাওফিক দান করুন। আমীন।
▬▬▬🔹♦🔹▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

এই পোষ্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও পোস্ট...

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (সন্ধ্যা ৭:৩৮)
  • ১০ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি
  • ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত avasmultimedia.com ২০১৯-২০২২ ‍

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD