1. admin@avasmultimedia.com : Kaji Asad Bin Romjan : Kaji Asad Bin Romjan
ভারতবর্ষে আহলে হাদিসদের প্রকৃত ইতিহাস: ১ম পর্ব - Avas Multimedia ভারতবর্ষে আহলে হাদিসদের প্রকৃত ইতিহাস: ১ম পর্ব - Avas Multimedia
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গোশতের টুকরায়, গাছের পাতায়, মাছের গায়ে, রুটিতে, বাচ্চার শরীর ইত্যাদিতে আল্লাহর নাম: একটা ঘটনা প্রায় শোনা যায় যে, ইবলিস মুসা আলাইহিস সালাম-এর কাছে তওবা করতে চেয়েছিল। মুহররম মাসের ফজিলত ও করণীয় সম্পর্কে বর্ণিত ১৪টি সহিহ হাদিস অতিরিক্ত দামীও নয় আবার ছেঁড়া-ফাটাও নয় বরং মধ্যম মানের পোশাক পরা উচিৎ সুন্নতি পোশাক (পুরুষ-নারী) আশুরা তথা মুহররমের ১০ তারিখে রোযা রাখার ফযিলত কি? হুসাইন রা. এর শাহাদাত এবং আশুরার শোক পালন প্রসঙ্গে এক ঝলক ইবাদত শব্দের অর্থ ও ব্যাখ্যা কি? ব্যবসা, চাকুরী, সাংসারিক কাজ-কারবার ইত্যাদি দুনিয়াবি কাজে কি সওয়াব পাওয়া যায়? অনুমতি ছাড়া স্বামী-স্ত্রী একে অপরের অর্থ-সম্পদ খরচ করা রাতের বেলায় যে সকল সূরা ও আয়াত পড়ার ব্যাপারে হাদিস বর্ণিত হয়েছে

ভারতবর্ষে আহলে হাদিসদের প্রকৃত ইতিহাস: ১ম পর্ব

প্রতিবেদকের নাম:
  • আপডেটের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১
  • ৬৩ বার
ভারতবর্ষে আহলে হাদিসদের প্রকৃত ইতিহাস: ১ম পর্ব
রচনায়: ওয়ার্ল্ড এসেম্বলি অফ মুসলিম ইয়োথ (WAMY)
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
❑ আহলে হাদিসের পরিচয়:
ভারতবর্ষে প্রাচীনতম ইসলামী আন্দোলনের নাম হল আহলে হাদিস আন্দোলন। এই আন্দোলনের ভিত্তি হল, সাহাবী, তাবেয়ী ও তাদের অনুসারী পূর্ববর্তী মনিষীদের বুঝ ও ব্যাখ্যার আলোকে কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ করা এবং এই দুটো জিনিসকে আকিদা, ইবাদত, মুয়ামালাত, নীতি-নৈতিকতা, রাজনীতি তথা জীবনের সকল ক্ষেত্রে অন্য কোন মানুষের মতামত, চিন্তা-চেতনা ও আদর্শের উপর অগ্রাধিকার দেয়া। সেই সাথে শিরক, বিদআত ও সকল প্রকার অপসংস্কৃতি মূলোৎপাটনে কাজ করা।
❑ ভারতবর্ষে আহলে হাদিসের প্রতিষ্ঠা ও উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব:
ভারতবর্ষে আহলে হাদিস আন্দোলনের ইতিহাস ইসলামের সূচনা লগ্নের সাথে সম্পর্কিত। আরব বনিক ও মুজাহিদগণ ভরতের সমুদ্রতীরবর্তী কতিপয় অঞ্চল যেমন, সিন্ধু, মালাবার (বর্তমান কেরালা) ও গুজরাতে পৌঁছলে তাদের প্রচেষ্টায় সে সকল এলাকা ইসলামের আলোকে আলোকিত হয়ে উঠে। ফলে সিন্ধের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং মুলতানে আহলে হাদিসদের বেশ কিছু মারকায (কেন্দ্র) গড়ে উঠে এবং সেখানে আরব-অনারব মুহাদ্দিসগণ আগমন করেন।
বিখ্যাত পরিব্রাজক আবুল কসেম আল মাকদেসি ৩৭৫ হিজরিতে অত্র এলাকা পরিভ্রমণে এসে তার আহসানুত তাকাসীম গ্রন্থে সিন্ধের বিভিন্ন এলাকার ধর্মীয় অবস্থা বর্ণনা গিয়ে লিখেন:
“সেখানকার অধিকাংশ জন-সাধারণের মাজহাব হল,তারা আহলে হাদিস। তবে গুটি কয়েক ফকীহ হানাফি মাজহাব থেকে মুক্ত ছিলেন না। সেখানকার অধিবাসীগণ সঠিক পথ,প্রশংসনীয় মাজহাব, নির্ভেজাল ও পরিচ্ছন্ন নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে মাজহাবি গোঁড়ামি, বাড়াবাড়ি ও ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে মুক্ত রেখেছিলেন।“
হিজরি চতুর্থ শতকের শেষ দিকে এসে আহলে হাদিস আন্দোলনে দুর্বলতা শুরু হয় এবং হিজরি নবম শতকে এসে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে। এর কারণ ছিল, রাজনৈতিক দলাদলি, গোঁড়ামি, বাতেনি ইসমাইলি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আহলে সুন্নতের উপর বিভিন্ন ধরণের ফিতনা-ফ্যাসাদ, তাকলিদ ও মাজহাবি গোঁড়ামি, ইউনানি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ব্যাপকতা ইত্যাদি নানা সমস্যা।
কিন্তু এতদসত্বেও তখনও ভারত উপমহাদেশে ইবনে হাজার আসকালানি রহ., ইমাম সাখাবি এবং শাইখুল ইসলাম জাকারিয়া আনসারি প্রমুখের বেশ কতিপয় আহলে হাদিস ছাত্র ও বিশিষ্ট আলেম বিদ্যমান ছিলেন যারা আহলে হাদিস মানহাজকে সংরক্ষণ করে যাচ্ছিলেন।
❑ আধুনিক যুগে আহলে হাদিস:
হিজরি এগারো শতকের সূচনা লগ্নে শুরু হয় আহলে হাদিসদের নতুনভাবে পথ চলা।
শাইখ আহমদ সিন্ধ (মৃত্যু: ১০৩৪ হি:) এর মাধ্যমে এই আন্দোলন পুনর্জীবিত হয়। আর শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী (মৃত্যু: ১১৭৫ হি:) এর জমানায় তা শক্তিশালী হয়। বিশেষ করে তার বড় ছেলে শাহ আব্দুল আজিজ দেহলবী (জন্ম: ১১৫৯-মৃত্যু: ১২৩৯ হি:) এর জমানায় তা আরও শক্তিশালী রূপ পরিগ্রহ করে। তিনি দাওয়াত, তাবলিগ, তাদরীস, তালীফ ইত্যাদি ক্ষেত্রে তাঁর পিতার রীতি অনুসরণ করেন। তিনি মাযহাবী গোঁড়ামি ও দীনি গবেষণায় স্থবিরতা বর্জন করেন।
পর্যায়ক্রমে তাঁর নাতী দাওয়াত ও জিহাদের সিপাহসালার এবং বিখ্যাত তাকবিয়াতুল ঈমান গ্রন্থের লেখক আল্লামা শাহ ইসমাইল বিন আব্দুল গনী দেহলবী (মৃত্যু: ১২৪৩ হি:) এর সময় আহলে হাদিস আন্দোলন আরও শক্তিশালী ভাবে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
বালাকোটের যুদ্ধে (মৃত্যু: ১২৪৩ হি:) ইমাম শাহ ইসমাইল (রহঃ) নিহত হলে আহলে হাদিসগণ পূর্ণ আমানত ও ইখলাসের সাথে দাওয়াত ও জিহাদের দায়িত্ব নিজ স্কন্ধে তুলে নেয়।
এই পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম মৌলিকভাবে তিনটি ময়দানে সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। সেগুলো হল, জিহাদ, তালীফ-তাসনীফ (বই-পুস্তক রচনা) এবং তাদরীস (শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ)।
❂ ১. জিহাদের ময়দানে আহলে হাদিস:
শাহ ইসমাইল দেহলবী রাহ. এর আন্দোলন কুরআন-সুন্নাহর উপর আমল করার আহ্বানকে পুনর্জীবন দান, খিলাফাহ আলা মিনহাজিন নবুওয়াহ (নবুওয়তের ধারায় খিলাফত) প্রতিষ্ঠা, মাযহাবি গোঁড়ামি ও চিন্তা-ধারায় স্থবিরতা,বিদআত ও বাতিল আকীদাকে মূলোৎপাটন করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং তার জিহাদি আন্দোলন শিখ ও সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান করেছে। বিশেষ করে ভারতের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকা সমূহে তার সংগ্রাম বিশাল ভূমিকা পালন করেছে। ইংরেজগণ ১৯৪৭ খৃষ্টাব্দে ভারত থেকে বিতাড়িত হওয়া পর্যন্ত তার এ আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত ছিল।
অতঃপর ভারত-পাকিস্তান বিভক্ত হওয়ার পরেও তার নেতৃত্বে মুজাহিদগণ জিহাদ অব্যাহত রাখে এবং তাদের একটি বাহিনী মুযাফফরাবাদ শহর জয় করে।
শাইখ ফজলে এলাহি ওয়াজিরাবাদী এর নেতৃত্বে উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য কয়েকটি শহর অধিকৃত হয় যেগুলোর সমন্বয়ে বর্তমানে আজাদ কাশ্মীর গঠিত।
জিহাদের ময়দানে আরও উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব হল শাইখ বেলায়াত আলী সাদেকপুরী (মৃত্যু: ১২৬৯ হি.), তার ভাই এনায়েত আলী সাদেকপুরী [মৃত্যু: ১২৭৪ হি.] ও সাদেকপুরী পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ-যারা এই জিহাদের ঝাণ্ডাকে উড্ডীন রাখেন এবং এ ক্ষেত্রে তারা অনেক কষ্ট ও ত্যাগ তিতিক্ষা শিকার করেন।
❂ ২. তালীফ-তাসনীফ (বই-পুস্তক রচনা) এর ময়দানে আহলে হাদিসগণ:
আহলে হাদিসগণ তালীফ-তাসনীফের মাধ্যমে ইসলামী সংস্কৃতির পুনর্জীবন দানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। উলুমুল কুরআন, উলূমুল হাদিস, হাদিসের ভাষ্য গ্রন্থ রচনা, বিশুদ্ধ আকীদা ও তার বিরুদ্ধাচরণ কারীদের জবাব, বিদআত ও বাতিল আকীদা পন্থীদের প্রতিবাদ ইত্যাদি ক্ষেত্রে আহলে হাদিস আলেম ও মুহাদ্দিসগণ লিখনির মাধ্যমে পর্যাপ্ত ভূমিকা পালন করেন।
এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্যে অন্যতম হলেন,ভূপালের শাসক নওয়াব সিদ্দিক খান ভূপালী (মৃত্যু: ১৩০৭ হি:)। তিনি গ্রন্থ রচনা,গবেষণা, প্রকাশনা এবং হাদিসের বড় বড় কিতাব লিখনিতে বিশাল অবদান রাখেন। বিভিন্ন বিষয়ে তিনি তিনশ’র অধিক গ্রন্থ রচনা করেন। জ্ঞান-গবেষণার পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করেন এবং সালাফি আলেমগণের সমন্বয়ে বই-পুস্তক রচনা, অনুবাদ ও শিক্ষকতার জন্য একটি বোর্ড গঠন করেন এবং নিজ খরচে সালফে-সালেহিনের লিখিত বই পুস্তক বিশেষ করে আকিদার মূলনীতি,তাফসীর ও হাদিসের গ্রন্থাদি প্রকাশ ও বিতরণের জন্য কয়েকটি ছাপাখানা তৈরি করেন।
❂ ৩. দারস-তাদরিসের ময়দানে আহলে হাদিস:
দারস-তাদরীস (পাঠ, পঠন ও শিক্ষাদান) এর ময়দানে আহলে হাদিসগণ পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেন এবং দাওয়াহ, তাদরিস, মাদরাসা, জামেয়া ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করেন। এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব হল. আল্লামা শাইখ নাজির হুসাইন মুহাদ্দিসে দেহলভি [মৃত্যু: ১৩২০ হি.]।
তিনি ছিলেন ভারত উপমহাদেশে ইলমে হাদিস চর্চায় পথিকৃৎ। তিনি দিল্লিতে প্রায় ৬০ বছর যাবত ইলমে হাদিস ও অন্যান্য দীনি বিষয়ে দারস ও তাদরীসের খেদমত আঞ্জাম দেন। পাশাপাশি তিনি সঠিক আকীদা ও বিশুদ্ধ ইসলামের দাওয়াতেও অবদান রাখেন।
বলা হয়ে থাকে, তার সময়কালে প্রায় দুই মিলিয়ন মুসলিম শিরক-বিদআত থেকে তওবা করে সহীহ আকীদা গ্রহণ করে। এই মহা মনিষীর মাধ্যমে আধুনিক যুগের অনেক বড় বড় মুহাদ্দিস ও দাঈ তৈরি হয়। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন:
১) প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা আব্দুল্লাহ গজনবী [মৃত্যু: ১২৯৮ হি.]
২) শামসুল হক আজিমাবাদী [মৃত্যু: ১৩২৯ হি:] (সুনান আবু দাউদের ভাষ্য গ্রন্থ আউনুল মাবুদের প্রণেতা)
৩) আল্লামা আব্দুর রহমান মুবারক পুরী [মৃত্যু: ১৩৫৭ হি.] (সুনানে তিরমিযীর ভাষ্য গ্রন্থ তুহফাতুল আহওয়াযী এর প্রণেতা)
৪) আল্লামা বাশীর সাহসাওয়ানী [মৃত্যু: ১৩২৬ হি.] (সিয়ানাতুল ইনসান আ’ন ওয়াসওয়াসাতিশ শাইখ দাহলান’ গ্রন্থের প্রণেতা)।
৫) শাইখ আব্দুল্লাহ বিন ইদরীস সানুসী মাগরিবী।
৬) শাইখ সাদ বিন হামাদ বিন আতীক নাজদী। যিনি তাঁর শাইখ আল্লামা নযীর হুসাইন মুহাদ্দিসে দেহলভির হাদিসের সনদ হেজায ও নজদ সহ আরবের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রসারিত করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদরাসায়ে নাযির হুসাইন দেহলভী অদ্য বধী দিল্লীতে বিদ্যমান রয়েছে। সেখান থেকে এখনও অনেক আলেম ও দায়ী ইলাল্লাহ বের হয়ে ইসলামের খেদমতে অবদান রাখছে।
(চলবে ইনশাআল্লাহ)

এই পোষ্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও পোস্ট...

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (সকাল ১১:৫৯)
  • ১০ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি
  • ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত avasmultimedia.com ২০১৯-২০২২ ‍

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD