1. admin@avasmultimedia.com : Kaji Asad Bin Romjan : Kaji Asad Bin Romjan
আল্লাহ, রাসূল, কুরআন বা ইসলামের কোন বিধানকে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ ও গালমন্দ করার বিধান ও শাস্তি​ এবং এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের করণীয় - Avas Multimedia আল্লাহ, রাসূল, কুরআন বা ইসলামের কোন বিধানকে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ ও গালমন্দ করার বিধান ও শাস্তি​ এবং এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের করণীয় - Avas Multimedia
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গোশতের টুকরায়, গাছের পাতায়, মাছের গায়ে, রুটিতে, বাচ্চার শরীর ইত্যাদিতে আল্লাহর নাম: একটা ঘটনা প্রায় শোনা যায় যে, ইবলিস মুসা আলাইহিস সালাম-এর কাছে তওবা করতে চেয়েছিল। মুহররম মাসের ফজিলত ও করণীয় সম্পর্কে বর্ণিত ১৪টি সহিহ হাদিস অতিরিক্ত দামীও নয় আবার ছেঁড়া-ফাটাও নয় বরং মধ্যম মানের পোশাক পরা উচিৎ সুন্নতি পোশাক (পুরুষ-নারী) আশুরা তথা মুহররমের ১০ তারিখে রোযা রাখার ফযিলত কি? হুসাইন রা. এর শাহাদাত এবং আশুরার শোক পালন প্রসঙ্গে এক ঝলক ইবাদত শব্দের অর্থ ও ব্যাখ্যা কি? ব্যবসা, চাকুরী, সাংসারিক কাজ-কারবার ইত্যাদি দুনিয়াবি কাজে কি সওয়াব পাওয়া যায়? অনুমতি ছাড়া স্বামী-স্ত্রী একে অপরের অর্থ-সম্পদ খরচ করা রাতের বেলায় যে সকল সূরা ও আয়াত পড়ার ব্যাপারে হাদিস বর্ণিত হয়েছে

আল্লাহ, রাসূল, কুরআন বা ইসলামের কোন বিধানকে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ ও গালমন্দ করার বিধান ও শাস্তি​ এবং এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের করণীয়

প্রতিবেদকের নাম:
  • আপডেটের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১
  • ৪৭ বার
আল্লাহ, রাসূল, কুরআন বা ইসলামের কোন বিধানকে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ ও গালমন্দ করার বিধান ও শাস্তি​ এবং এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের করণীয়
▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬
প্রশ্ন: কেউ যদি আমার আল্লাহ অথবা নবী অথবা কুরআনকে গালমন্দ করে ইসলামের দৃষ্টিতে তার বিধান কি এবং একজন সাধারণ মুসলিম হিসেবে তার প্রতি আমার কী করণীয়?
উত্তর:
এ কথায় কোন সন্দেহ নাই যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে গালাগালি করা, কুরআন, হাদিস, সালাত, হজ্জ, পর্দা ইত্যাদি ইসলামের বিধিবিধানকে উপহাস ও ঠাট্টা-মশকরা করা ইসলামের দৃষ্টিতে মারাত্মক অন্যায় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোন মুসলিম নামধারী অজ্ঞ ব্যক্তি যদি এমনটি করে তাহলে সে ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত কাফির-মুরতাদ বলে গণ্য হবে।
ইসলামের বিধিবিধান নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করার ভয়াবহতা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُلْ أَبِاللَّـهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ – لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ ۚ
“আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তার আয়াত (নিদর্শন ও বিধিবিধান) এর সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে হাসি-ঠাট্টা করছিলে? ওজর পেশ করো না, নিশ্চিতভাবে তোমরা যে কাফের হয়ে গেছো ঈমান আনার পর।” (সূরা তওবা/৬৫-৬৬)
তিনি আরও বলেন,
وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآَخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
“আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তার দীন (ইসলাম) থেকে ফিরে যায় আর সে অবিশ্বাসী অবস্থায় মারা যায়, তাহলে দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সকল নেক আমল বরবাদ হয়ে যাবে। এই লোকেরাই হল জাহান্নামের অধিবাসী। তারা চিরকাল সেখানে থাকবে।” (সূরা বাকারা: ২১৭)
❑ ইসলামি ফৌজদারি দণ্ডবিধি মোতাবেক ইসলাম ত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড যদি সে তওবা না করে:
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلاَّ بإِحْدَى ثَلاثٍ: الثَّيِّبُ الزَّانِي، وَالنَّفْسُ بِالنَّفْسِ، وَالتَّاركُ لِدِينه المُفَارِقُ للجمَاعَةِ
“তিন কারণের কোনও একটি ব্যতীত কোন মুসলিমের রক্ত প্রবাহিত করা হালাল নয়:
ক. বিবাহিত জিনাকারী।
খ. হত্যার বিনিময়ে হত্যা।
গ. যে ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করে (মুসলিমদের) জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।” (সহীহ বুখারি, হাদিস ৬৮৭৮, জামে তিরমিযী, হাদিস ১৪০২, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হাদিস ১৮৭০৪, বায়হাকী ৮:১৯৪ ইত্যাদি)
এছাড়াও এ মর্মে একাধিক হাদিস রয়েছে।
তাছাড়া মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে ইসলামি স্কলারদের মাঝে কোন দ্বিমত নাই আল হামদুলিল্লাহ।
ইবনে আব্দুল বার (মৃত্যু: ৪৬৩ হিজরি) লিখেছেন,
إن من ارتد عن دينه حل دمه، وضربت عنقه، والأمة مجتمعة على ذلك
“যে তার দীন (ইসলাম) ত্যাগ করে তাকে হত্যা করা বৈধ হয়ে যাবে এবং তার শিরশ্ছেদ করা হবে। এ বিষয়ে পুরো উম্মতের মতৈক্য রয়েছে।” [আত তামহীদ ৫/৩০৬]
❑ এ ক্ষেত্রে একজন সাধারণ মুসলিমের জন্য করণীয় হল:
◆ ১) প্রথমত: তাকে নসিহত করা এবং সুন্দরভাবে বুঝানো যে, এসব কথাবার্তা ভ্রষ্টতা ও কুফরি। কেউ এসব কথা বললে মুরতাদ বা ইসলাম চ্যুত হিসেবে গণ্য হয়। ইসলামি আইনে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এতে তার অন্তরে পরিবর্তন আসতে পারে এবং ভুল পথ থেকে তওবা করে ইসলামের পথে ফিরে আসতে পারে যদি তার ভাগ্য ভালো হয়।
◆ ২) ইসলাম, আল্লাহ, রসূল, কুরআন ইত্যাদি সম্পর্কে তার সংশয় বা প্রশ্ন থাকলে উত্তর দেয়ার এবং তার সংশয় দূর করার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। নিজে না পারলে আলেমদের সহায়তা নিতে হবে। পাশাপাশি তার হেদায়েতের জন্য আল্লাহর নিকট দুআও করতে হবে।
◆ ২) ক্ষমতা থাকলে তার অন্যায় কথাবার্তার প্রতিবাদ করতে হবে এবং বিভ্রান্তির যথোপযুক্ত জবাব দিতে হবে।
◆ ৩) সে যেখানে এ সব খারাপ কথা বলবে সেখানে বসে বসে তার কথা শুনবে না। বরং তার প্রতিবাদ করার পরও সে তার কথা অব্যাহত রাখলে স্থান ত্যাগ করতে হবে।
(দেখুন: সূরা আনআম: ৮৬)
◆ ৪) তারপর আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হবে। যদি ইসলামি আদালত হয় তাহলে তাকে প্রথমত: সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হলে তওবা করার মাধ্যমে সংশোধন করার চেষ্টা চালাবে। কিন্তু সে তওবা করতে অস্বীকৃতি জানালে শরিয়ার নির্দেশনা মোতাবেক তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে।
আর ইসলামি আদালত না হলে দেশীয় আইনে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ বা ‘কোন ধর্মকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা’র আইনে তার বিরুদ্ধে সাজা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
❑ মুরতাদ (ইসলাম ত্যাগী) বা আল্লাহর-রাসূল, কুরআন ইত্যাদিকে গালমন্দকারীকে হত্যা করার দায়িত্ব কার?
ইসলামের সব ধরণের হুদুদ কায়েম বা ফৌজদারি দণ্ডবিধি (যথা: মৃত্যুদণ্ড, বেত্রাঘাত, জেল, জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ) বাস্তবায়ন করার একমাত্র অধিকারী সরকার বা তার স্থলাভিষিক্ত; সাধারণ কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়।
ইবনে রুশদ (Averroes) কুরতুবি [জন্ম: ১১২৬, মৃত্যু: ১১৯৮ খৃ] বলেন:
وأما من يقيم هذا الحد – أي : جلد شارب الخمر – فاتفقوا على أن الإمام يقيمه وكذلك الأمر في سائر الحدود
“আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, এই হদ (তথা মদ পানকারীর উপর চাবুক মারার বিধান) বাস্তবায়ন করবে ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান)। সকল হুদুদ (দণ্ড প্রয়োগ) এর ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য।” (বিদায়াতুল মুজতাহিদ ২/২৩৩)
তবে কেবল মনিব কর্তৃক দাস-দাসীর উপর দণ্ড প্রয়োগের বিষয়টি ভিন্ন। কারণ তা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
—————–
◯ প্রশ্ন:
“বিড়াল কুকুর মেরো না।
নাস্তিক পেলে ছেড়ো না।”
“রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধে কথা বললে জিহ্বা কেটে নেব।”
এ জাতীয় কথাবার্তা বলা কি ইসলাম সমর্থন করে?
উত্তর:
সাধারণ মানুষের এমন কথা-বার্তা বলা শরিয়ত সম্মত নয়। কেননা এটি আইন নিজের হাত তুলে নেয়ার প্রতি উস্কানি মূলক বক্তব্য।
মনে রাখতে হবে, ইসলাম বিনা বিচারে হত্যা, মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ বা কোন ধরণের শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার দেয় না। কারণ এতে হিংসার বশবর্তী হয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিকে ফাঁসিয়ে দেয়ার এবং অন্যায় রক্তপাত, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পর্যাপ্ত সম্ভাবনা রয়েছে। এতে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হতে পারে।
তা ছাড়া আইনকে নিজের হাতে তুলে নেয়া দেশের প্রচলিত আইনেও একটি অপরাধ।
ইসলামের নামে এমনটি করা হলে, ইসলাম বিদ্বেষীরা ইসলামকে একটি বিশৃঙ্খল ধর্ম হিসেবে বদনাম করার সুযোগ হাতে পাবে অথচ ইসলাম সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুসভ্য জীবনাদর্শের নাম।
ইসলামের বিধান হল, এ জাতীয় মামলায় ইসলাম ত্যাগী মুরতাদ বা আল্লাহ, রাসূল, কুরআন বা ইসলামের কোন বিধিবিধানকে গালাগালি বা কুটুক্তি কারীকে শরঈ আদালতের মাধ্যমে প্রথমত: তওবার সুযোগ দেয়াা হবে। তাতে সে পরিবর্তন না হলে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগতভাবে সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) প্রদান করা হবে।
শরঈ আদালত না থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জেল-জরিমানা যতটুকু হয় ততটুকু হবে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মুসলিমদেরকে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করত: ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। কেননা হদ বা দণ্ডবিধি প্রয়োগের একমাত্র অধিকারী হল, মুসলিম শাসক বা তার স্থলাভিষিক্ত; কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠি নয়। শাসক যদি তার উপর অর্পিত ফরজ দায়িত্ব পালন না করে তাহলে কিয়ামতের দিন তাকে আল্লাহর বিচারের কাঠ গড়ায় দাণ্ডয়মান হতে হবে। কিন্তু কোন দল বা গোষ্ঠী কর্তৃক বা সাধারণ কোন মানুষ ব্যক্তিগতভাবে প্রকাশ্যে বা গোপনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হত্যা বা আক্রমণ করতে পারবে না। ইসলাম তার অনুমতি দেয় না বরং এটি হবে আরেকটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ বিষয়ে বিস্তারিত পড়ুন:
কোনও অপরাধী বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেয়া এবং ইসলাম বিদ্বেষী, ধর্মদ্রোহী বা নাস্তিকদেরকে গোপনে হত্যা করার বিধান
▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

এই পোষ্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও পোস্ট...

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (সন্ধ্যা ৭:৩৪)
  • ১০ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি
  • ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত avasmultimedia.com ২০১৯-২০২২ ‍

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD