1. admin@avasmultimedia.com : Kaji Asad Bin Romjan : Kaji Asad Bin Romjan
মহিলাদের দাওয়াত ও তালিমের কাজ করা এবং এ উদ্দেশ্যে তাদের নিজ বাড়ি ছেড়ে দূরে গমন করার বিধান - Avas Multimedia মহিলাদের দাওয়াত ও তালিমের কাজ করা এবং এ উদ্দেশ্যে তাদের নিজ বাড়ি ছেড়ে দূরে গমন করার বিধান - Avas Multimedia
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গোশতের টুকরায়, গাছের পাতায়, মাছের গায়ে, রুটিতে, বাচ্চার শরীর ইত্যাদিতে আল্লাহর নাম: একটা ঘটনা প্রায় শোনা যায় যে, ইবলিস মুসা আলাইহিস সালাম-এর কাছে তওবা করতে চেয়েছিল। মুহররম মাসের ফজিলত ও করণীয় সম্পর্কে বর্ণিত ১৪টি সহিহ হাদিস অতিরিক্ত দামীও নয় আবার ছেঁড়া-ফাটাও নয় বরং মধ্যম মানের পোশাক পরা উচিৎ সুন্নতি পোশাক (পুরুষ-নারী) আশুরা তথা মুহররমের ১০ তারিখে রোযা রাখার ফযিলত কি? হুসাইন রা. এর শাহাদাত এবং আশুরার শোক পালন প্রসঙ্গে এক ঝলক ইবাদত শব্দের অর্থ ও ব্যাখ্যা কি? ব্যবসা, চাকুরী, সাংসারিক কাজ-কারবার ইত্যাদি দুনিয়াবি কাজে কি সওয়াব পাওয়া যায়? অনুমতি ছাড়া স্বামী-স্ত্রী একে অপরের অর্থ-সম্পদ খরচ করা রাতের বেলায় যে সকল সূরা ও আয়াত পড়ার ব্যাপারে হাদিস বর্ণিত হয়েছে

মহিলাদের দাওয়াত ও তালিমের কাজ করা এবং এ উদ্দেশ্যে তাদের নিজ বাড়ি ছেড়ে দূরে গমন করার বিধান

প্রতিবেদকের নাম:
  • আপডেটের সময়: শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১
  • ৪১ বার
মহিলাদের দাওয়াত ও তালিমের কাজ করা এবং এ উদ্দেশ্যে তাদের নিজ বাড়ি ছেড়ে দূরে গমন করার বিধান
▬▬▬▬ ◆𖣔◆ ▬▬▬▬
প্রশ্ন: মেয়েরা যে বিভিন্ন হালকায় বসে তা কি জায়েজ? একজন বললেন যে, আয়েশা রা., খাদিজা রা. ওনারা কখনও এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গিয়ে দাওয়াত দিতেন না। অনেক সময় পাশের জেলা বা আশে-পাশে কোথাও মেয়েরা কি দাওয়াতি কাজের উদ্দেশ্যে যেতে পারে? এ ক্ষেত্রে কি মাহরাম সাথে থাকা আবশ্যক? দেখা যায়, যে এসব মেয়েলি প্রোগ্রামে ছেলে মানুষ থাকাতেও সমস্যা আর দূরত্বও তো একদিন একরাতেরও সমান নয়।
উত্তর:
পুরুষ-নারী প্রতিটি মানুষের জন্য দাওয়াতি কাজ করা ফরজ তার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী। একজন নারীর দাওয়াতি কাজের সর্ব শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র হল তার পরিবার ও সন্তান-সন্ততি। তাকে স্বামীর প্রতি দায়িত্ব পালন, তার ঘর গোছানো, সম্পদ হেফাজত, সন্তান-সন্ততিদের লালন-পালন ইত্যাদি নানা কাজে সময় দিতে হয়। এগুলো তার প্রধানতম দায়িত্ব।
সুতরাং এ সকল দায়িত্ব ফেলে দিয়ে দূর দূরান্তে তাকে দাওয়াতের কাজ করে বেড়াতে হবে- ইসলাম তাকে এ দায়িত্ব দেয় নি।
আনাস রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ”কোনো নারী যখন
◈ ১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে,
◈ ২. রমাদানের সিয়াম পালন করে,
◈ ৩. লজ্জা স্থানের হেফাজত করে ও
◈ ৪) স্বামীর আনুগত্য করে। তখন সে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।” (মিশকাত, হা/৩২৫৪ সনদ হাসান)
শর্ত হল, শিরক-বিদআত মুক্ত আমল করতে হবে এবং মানুষের হক নষ্ট করা যাবে না।
এ কাজগুলো করলে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতের ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে কেউ যদি উপরোক্ত কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পাদন করার পর স্বামী বা মাহরাম পুরুষ সহকারে দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার জন্য দূরে কোথাও গমন করে তাহলে তাতে কোন অসুবিধা নেই ইনশাআল্লাহ।
সে ইচ্ছে করলে সে নিজ বাড়িতেও দীনী তালিমের হালাকা করতে পারে সেখানে তার প্রতিবেশী মহিলারা অংশ গ্রহণ করবে অথবা স্বামী বা অভিভাবকের অনুমতি সাপেক্ষে বাড়ির আশে পাশে অন্য কোথাও তালিমি বৈঠক করতে পারে যদি এতে নিজের বাড়ির দায়িত্বে ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয় এবং ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকে।
তবে বর্তমান যুগে দেখা যায়, কিছু মহিলা স্বামী বা মাহরাম পুরুষ ছাড়া একসাথে কয়েকজন মহিলা মিলে দাওয়াত, তালীম আর ইসলামী সংগঠনের নামে এক জেলা থেকে আরেক জেলা ছুটে বেড়াচ্ছেন অথচ অনেক ক্ষেত্রে তারা স্বামীর অনুমতিরও প্রয়োজন অনুভব করে না! অথবা স্বামীকে একপ্রকার চাপে ফেলে অনুমতি দিতে বাধ্য করে!!
একাজগুলো অবশ্যই শরীয়ত অনুমোদন করে না।
তাই দাওয়াতি কাজে আগ্রহী মহিলাদের কর্তব্য হল, তারা নিজ স্বামী ও পরিবারের প্রতি আরও অধিক যত্নশীল হবেন। তারপর সাধ্যানুযায়ী দাওয়াতি কাজ করবেন।
বর্তমান যুগে ঘরে বসেই নানা ধরণের দাওয়াতি কাজের সুযোগ আছে। সেগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন। আর দূরে কোথাও যেতে হলে (যদিও তা সফরের দূরত্ব নাও হয়) অবশ্যই স্বামী বা মাহরাম পুরুষ সহকারে যাবেন এবং সব ধরণের ফিতনা থেকে দুরে অবস্থান করবেন। কেননা, বর্তমান যুগে কারও অজানা নেই যে, একজন মহিলা তার বাড়ির বাইরে যাওয়টাই কতটা অনিরাপদ ও ফেতনার কারণ।
❖ দাওয়াত ও তালিমের পূর্বে জ্ঞানার্জনের আবশ্যকতা:
তালীমের পূর্বে একজন পুরুষ/নারী যে বিষয়ে মানুষকে শিক্ষা দিতে চায় সে বিষয়ে যথাযথ জ্ঞানার্জন করা আবশ্যক। ইলম বা জ্ঞান ব্যতিরেকে তালিম করা মানুষকে পথভ্রষ্ট করার শামিল।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
قُلْ هَـٰذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّـهِ ۚ عَلَىٰ بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي ۖ
“(হে নবী) আপনি বলে দিন: এই আমার পথ। আমি এবং আমার অনুসারীরা আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেই সুস্পষ্ট জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে ।” (সূরা ইউসুফ: ১০৮)
জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব বুঝাতে ইমাম বুখারী (রহঃ) অনুছেদ রচনা করেছেন باب الْعِلْمُ قَبْلَ الْقَوْلِ وَالْعَمَلِ ‘কথা এবং কাজের পূর্বে জ্ঞানার্জন করা’ অনুচ্ছেদ। এর পর তিনি এর প্রমাণে কুরআনের আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করেছেন।
দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, বর্তমানে তালিমের নামে, দ্বীনের মেহনতের নামে বহু মানুষ সারা দেশ চষে বেড়াচ্ছে; এমনকি দেশ ছেড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেশ ঘুরছে অথচ তার কাছে দ্বীনের ন্যূনতম জ্ঞান নেই। সম্পূর্ণ অজ্ঞতা ও মূর্খতার উপর ভিত্তি করে এদের দাওয়াত ও তালিমের কাজ চলছে। এটি দ্বীনের জন্য মারাত্মক হুমকি। আল্লাহ হেফাজত করুন। আমীন।
সুতরাং কোন মহিলা যদি দ্বীনের তালিমী বৈঠক করতে চায় বা দূর দূরান্তে গিয়ে দাওয়াতের কাজ করতে চায় কিন্তু তার কাছে যদি দ্বীনের সঠিক জ্ঞান না থাকে তাহলে স্বামী বা মাহরাম পুরুষের অনুমতি থাকলেও তা বৈধ হবে না। কারণ ইলম হীন দাওয়াত যেমন নিজের পথভ্রষ্টতার কারণ তেমনি অন্যদেরও পথ ভ্রষ্টতার কারণ। আল্লাহ তাআলা মুসলিম জাতিকে সুপথে পরিচালিত করুন এবং ভ্রষ্টতার কবল থেকে রক্ষা করুন। আমীন।
আল্লাহু আলাম।
——–উত্তর প্রদানে——–
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

এই পোষ্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও পোস্ট...

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (ভোর ৫:১৪)
  • ১০ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি
  • ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত avasmultimedia.com ২০১৯-২০২২ ‍

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD