মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৫:২৫ অপরাহ্ন

ইমান-আক্বীদাগত প্রশ্নোত্তর
কাজী আসাদ বিন রমজান / ১৩৪ কত বার
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

প্রশ্ন (১) : হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, خَلَقَ ‌اللهُ ‌آدَمَ ‌عَلَى ‌صُورَتِهِ আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। এখানে তার বলতে কি আল্লাহ না-কি আদমকে বুঝানো হয়েছে?

-মাহফুজুর রহমান
রাজশাহী।

উত্তর : আল্লাহ তাআলা আদমকে তার আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। এটি একটি ছহীহ হাদীছ। আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী a বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ তার অন্য ভাইয়ের সাথে মারামারি করে, তখন সে যেন তার ভাইয়ের মুখমণ্ডলে আঘাত করা হতে বিরত থাকে। কেননা আল্লাহ তাআলা আদম e-কে তার নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬১২)। এটি মুতাশাবিহ এর অন্তর্ভুক্ত। এগুলোর প্রকৃত অর্থ আল্লাহই ভালো জানে। অন্যে পক্ষে এটি জানা সম্ভব নয়। তবে আমাদের সালাফদের কারো কারো মতে, এখানে صورة শব্দের অর্থ হলো গুণাবলি। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা আদম e-কে তার নিজের গুণাবলিতে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাআলা যেমন শুনেন, দেখেন এবং যখন ইচ্ছা কথা বলেন, ঠিক আদমকেও সেভাবেই সৃষ্টি করা হয়েছে। আদম eও দেখেন, শুনেন এবং যখন ইচ্ছা কথা বলেন। আল্লাহ তাআলার মুখমন্ডল আছে, আদম e-এরও মুখমন্ডল আছে। তবে আল্লাহর দেখা, শুনা ও কথা বলার ধরণ আদম e -এর দেখা, শুনা ও কথা বলার মতো নয়। কেননা কোন কিছুই আল্লাহর সদৃশ নয় (আশ-শুরা, ৪২/১১)। বরং আল্লাহর ‍গুণাবলি তার মর্যাদা ও মহত্বের জন্য যেমনটি মানায় তেমনই।

প্রশ্ন (২) : মসজিদের ইমাম তাবীয দ্বারা চিকিৎসা করলে তার পিছনে ছালাত হবে কি?

-মো. জহিরুল ইসলাম, ঢাকা।

উত্তর : তাবীয ঝুলানো শিরক। উক্ববা ইবনু আমের c হতে বর্ণিত, রাসূল a-এর নিকট (বায়আত করার উদ্দেশ্যে) ১০ জন লোক উপস্থিত হলো। তিনি নয় জনের নিকট থেকে বায়আত নিলেন। আর মাত্র একজন লোকের নিকট হতে বায়আত নিলেন না। ছাহাবীগণ বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি নয় জনের বায়আত গ্রহণ করলেন, কিন্তু এই ব্যক্তির বায়আত গ্রহণ করলেন না কেন?’ উত্তরে তিনি বললেন, এর শরীরে তাবীয রয়েছে তাই। অতঃপর সে নিজ হাতে তা ছিঁড়ে ফেললো। তারপর রাসূল a তার নিকট থেকেও বায়আত নিলেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি তাবীয ঝুলায়, সে ব্যক্তি শিরক করে (মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৪২২, সিলসিলা ছহীহা, হা/৪৯২)। রাসুল a বলেছেন, ঝাড়ফুঁক, তাবীয ও জাদুটোনা শিরকী কাজ (আবূ দাউদ, হা/৩৮৮৩; ইবনু মাজাহ, হা/৩৫৩০; মিশকাত, হা/৪৫৫২)। তিনি a আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তাবীয ঝুলালো, সে শিরক করলো’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৪২২)। তিনি a আরো বলেছেন, ‘যে লোক কোনকিছু ঝুলিয়ে রাখে. তাকে তার উপরই সোপর্দ করা হয়’ (তিরমিযী, হা/২০৭২, মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৭৮৬)। যদি ইমাম সাহেব এমন তাবীয দ্বারা চিকিৎসা করে যাতে শিরকী কথা আছে যেমন আল্লাহ ছাড়া কোন ফিরিশতা, নবী অথবা সৎ ব্যক্তির কাছে দুআ করা তাহলে এমন ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে না। এমনকি কুরআন মাজীদের আয়াত দিয়ে তাবীয লিখলেও তার পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে না।

প্রশ্ন (৩) : ‘মুমিনের হৃদয় আল্লাহর আরশ’ এবং ‘অন্তর রবের ঘর’। উক্ত বর্ণনা দুটি কি সঠিক?

উত্তর : বর্ণনাটি মিথ্যা ও উদ্ভট (কাশফুল খাফা, হা/১৮৮৬; ইমাম ছাগানী, আল-মাওযূ‘আত, হা/৭০; আল-মাছনূ ফী মা‘রেফাতিল হাদীছিল মাওযূ‘ হা/২১৭, পৃ. ১৩১)। উক্ত ভিত্তিহীন বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয় যে, আল্লাহ সব মুমিনের অন্তরে বিরাজমান। যেহেতু পবিত্র কুরআন দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, আল্লাহ আরশের উপর আছেন। তাই মুমিনের অন্তরকে আল্লাহর আরশ কল্পনা করা হয়েছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

(খ) অনুরূপ দ্বিতীয় বর্ণনাটিও মিথ্যা ও বাতিল (আল-মাছনূ ফী মা‘রেফাতিল হাদীছিল মাওযূ‘ হা/২১৭, পৃ. ১৩১)। উক্ত বর্ণনা দ্বারা বুঝানো হয় যে, যার অন্তর আছে তার মধ্যেই আল্লাহ আছে। সুতরাং ‘যত কল্লা তত আল্লাহ’ (নাঊযুবিল্লাহ)। এভাবে সবকিছুর মধ্যেই আল্লাহর অস্তিত্ব ও উপস্থিতি সাব্যস্ত করা হয়েছে। সঠিক আক্বীদা হল, মহান আল্লাহ সপ্তম আকাশের উপরে আরশে সমুন্নত (ত্ব-হা, ৫)। তাঁর ক্ষমতা ও দৃষ্টি সর্বত্র পরিব্যাপ্ত (ত্ব-হা, ৪৬)।

প্রশ্ন (৪) : আল্লাহর ছিফাতসমূহকে কুদরত বলা এমন ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করলে ছালাত হবে কি?

-মো. সামিউল ইসলাম
উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : আল্লাহ তাআলার ছিফাতগুলোকে কুরআন ও সুন্নাহর দলীল ছাড়া খেয়ালখুশি মতো ব্যাখ্যা করা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বৈশিষ্ট্য নয়। বরং এটি হলো ভ্রান্ত আকীদার বহিঃপ্রকাশ। আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বৈশিষ্ট্য হলো তারা আল্লাহ তাআলার সকল ছিফাতকে কুরআন ও সুন্নাহতে যেভাবে এসেছে সেভাবেই সাব্যস্ত করে, কোনটির অপব্যাখ্যা করে না। তবে কোন ব্যক্তি যদি আল্লহর ছিফাতকে অস্বীকার না করে, বরং সংশয় সন্দেহের কারণে কোন কোন ছিফাতের অপব্যাখ্যা করে যেমন আল্লাহর হাত মানে কুদরত ইত্যাদি, তাহলে এর দ্বারা সেই ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবে না (মাজমু ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়া, ৭/৫০৭)। আহলে সুন্নাতের কোন ইমাম পাওয়া গেলে আল্লাহর ছিফাতকে অপব্যাখ্যাকারী কোন ব্যক্তিকে নির্ধারিত ইমাম বানানো উচিত নয়। তবে যদি এমন ব্যক্তিই ইমাম নিযুক্ত থাকে আর এর পিছনে ছালাত আদায় করে তবে তার ছালাত ছহীহ হবে ইনশা-আল্লাহ। আর আল্লাহই অধিক অবগত।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর..
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট