1. admin@avasmultimedia.com : Kaji Asad Bin Romjan : Kaji Asad Bin Romjan
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট শাফায়াত চাওয়া শিরক - Avas Multimedia নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট শাফায়াত চাওয়া শিরক - Avas Multimedia
বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ১২:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গোশতের টুকরায়, গাছের পাতায়, মাছের গায়ে, রুটিতে, বাচ্চার শরীর ইত্যাদিতে আল্লাহর নাম: একটা ঘটনা প্রায় শোনা যায় যে, ইবলিস মুসা আলাইহিস সালাম-এর কাছে তওবা করতে চেয়েছিল। মুহররম মাসের ফজিলত ও করণীয় সম্পর্কে বর্ণিত ১৪টি সহিহ হাদিস অতিরিক্ত দামীও নয় আবার ছেঁড়া-ফাটাও নয় বরং মধ্যম মানের পোশাক পরা উচিৎ সুন্নতি পোশাক (পুরুষ-নারী) আশুরা তথা মুহররমের ১০ তারিখে রোযা রাখার ফযিলত কি? হুসাইন রা. এর শাহাদাত এবং আশুরার শোক পালন প্রসঙ্গে এক ঝলক ইবাদত শব্দের অর্থ ও ব্যাখ্যা কি? ব্যবসা, চাকুরী, সাংসারিক কাজ-কারবার ইত্যাদি দুনিয়াবি কাজে কি সওয়াব পাওয়া যায়? অনুমতি ছাড়া স্বামী-স্ত্রী একে অপরের অর্থ-সম্পদ খরচ করা রাতের বেলায় যে সকল সূরা ও আয়াত পড়ার ব্যাপারে হাদিস বর্ণিত হয়েছে

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট শাফায়াত চাওয়া শিরক

কাজী আসাদ বিন রমজান
  • আপডেটের সময়: বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০২২
  • ৭ বার
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট শাফায়াত চাওয়া শিরক
▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬
প্রশ্ন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু কিয়ামতের মাঠে শাফায়াত করবেন সেহেতু তাঁর কাছে কি শাফায়াত চাওয়া যাবে?
উত্তর:
আল্লাহর অনুমতি ক্রমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য শাফায়াত (সুপারিশ) করবেন। তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে আল্লাহর দরবারে কোন নবী-রাসূল, ফেরেশতা, শহিদ, ওলি-আউলিয়া কেউ শাফায়াত (সুপারিশ) করার সুযোগ পাবে না। আল্লাহ তাদেরকে অনুমতি দিবেন তারপর তারা সুপারিশ করবেন। কেননা এর মালিকানা সম্পূর্ণ আল্লাহ তাআলার হাতে। যেমন:
● আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُلْ لِلَّهِ الشَّــفَاعَةُ جَمــِيعًا
“বলুন, সমস্ত শাফায়াত কেবলমাত্র আল্লাহরই ক্ষমতাধীন।” [সূরা জুমার: ৪৪]
● আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন,
مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ
“তাঁর (আল্লাহর) অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট কে শাফায়াত (সুপারিশ) করতে পারে?” [সূরা বাকারা: ২৫৫]
● আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলেন,
وَكَمْ مِنْ مَلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَى
“আসমান সমূহে কতইনা ফেরেশতা রয়েছে। তাদের শাফায়াত কোন কাজেই আসবে না। তবে হ্যাঁ, তাদের শাফায়াত যদি এমন কোন ব্যক্তির পক্ষে হয় যার আবেদন শুনতে তিনি ইচ্ছা পোষণ করেন এবং তাতে সম্মত হোন (তাহলে ভিন্ন কথা।)” [সূরা নাজম: ২৬]
এমনকি স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও আল্লাহর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করতে পারবেন না। যেমন: হাদিসে এসেছে:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবেন। অতঃপর তাঁর রবের উদ্দেশ্যে তিনি সেজদায় লুটিয়ে পড়বেন এবং তাঁর প্রশংসায় মগ্ন হবেন। প্রথমেই তিনি শাফায়াত বা সুপারিশ করা শুরু করবেন না। অতঃপর তাঁকে বলা হবে,
يا مُحَمَّدُ، ارْفَعْ رَأْسَكَ، قُلْ تُسْمَعْ، سَلْ تُعْطَهْ، اشْفَعْ تُشَفَّعْ
“হে মুহাম্মদ, তোমার মাথা উঠাও। তুমি তোমার কথা বলো, শ্রবণ করা হবে। তুমি চাও, তোমাকে দেওয়া হবে। তুমি সুপারিশ করো তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।” [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]
সুতরাং যিনি শাফায়াতের মালিক তার কাছেই তা চাইতে হবে। (অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহর কাছে শাফায়াতের জন্য দুআ করতে হবে। এভাবে বলতে হবে আল্লাহ, তুমি আমাকে কিয়ামতের দিন প্রিয় নবীর শাফায়াত লাভে ধন্য করিও অথবা হে আল্লাহ, আমি যেন কিয়ামতের দিন তোমার নবীর শাফাআত লাভ করি সে তাওফিক দান করো..ইত্যাদি। কিন্তু সরাসরি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তিরোধানের পর তাঁর নিকট বা কোন ওলি-আউলিয়া, ফেরেশতা, শহিদ ইত্যাদি আল্লাহর প্রিয়ভাজন বান্দাদের নিকট শাফাআত চাওয়া জায়েজ নয়। বরং তা শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
◯ বিংশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রাহ. কে প্রশ্ন করা হয়,
শাইখ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এখন কবরে আছেন। এমতাবস্থায় তাঁর নিকট শাফায়াত (সুপারিশ) চাওয়া কি জায়েজ। যেমন: এভাবে বলা, “হে আল্লাহর রসূল, আমি আপনার কাছে সুপারিশ চাই। আমি একজন পাপী বান্দা-যাকে আপনার হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে?”
উত্তর:
لا يجوز، هذا حرام بل قد يكون من الشرك؛ لأن هذا دعاء للنبي عليه الصلاة والسلام، وبدلاً من أن يقول: أسألك يا رسول الله! أن تشفع لي، يقول: يا رب! شفع فيَّ رسولك، حتى يكون الدعاء موجه إلى الله عز وجل، أما الرسول الآن لا يستطيع أن يشفع لك، ثم حتى يوم القيامة لا يستطيع أن يشفع لأحد إلا بإذن الله، فهذه الكلمة حرام، وقد تكون شركاً بالله عز وجل.
“এটা জায়েজ নয়। এটা হারাম বরং এটা শিরক (অংশী স্থাপন)ও হতে পারে। কেননা এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট একটি দুআ। “হে আল্লাহর রসূল, আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি যে, আপনি আমার জন্য সুপারিশ করবেন।”- এভাবে বলার পরিবর্তে বলুন, “হে আমার প্রতিপালক, আমার ব্যাপারে আপনার নবীর সুপারিশ কবুল করুন।” যাতে দুআটা হয় আল্লাহর তাআলাকে উদ্দেশ্য করে। যেহেতু রসূল এখন আপনার জন্য সুপারিশ করতে পারবেন না, এমনকি কিয়ামতের দিনও তিনি আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারো জন্য সুপারিশ করতে পারবেন না। সুতরাং এই বাক্যটি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট সরাসরি শাফায়াত/সুপারিশ প্রার্থনা মূলক বাক্য) হারাম এবং তা মহান আল্লাহর সাথে শিরক (অংশী স্থাপন)ও হতে পারে।”
সূত্র: [আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসামিন রহ. এর নিজ গৃহে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর মূলক অনুষ্ঠান-‘লিকউল বাবিল মাফতুহ (ওপেন ডোর মিটিং)’ পর্ব: ৭৫-এর ভয়েস রেকর্ড থেকে সংগৃহীত]
◯ সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বাজ রাহ. বলেন,
فالحاصل: أن طلب الشفاعة من النبي ﷺ، أو من غيره من الأموات؛ أمر لا يجوز، وهو على القاعدة الشرعية من الشرك الأكبر؛ لأنه طلب من الميت شيئًا لا يقدر عليه، كما لو طلب منه شفاء المريض، أو النصر على الأعداء، أو غوث المكروبين، أو ما أشبه ذلك، فكل هذا من أنواع الشرك الأكبر، ولا فرق بين طلب هذا من النبي ﷺ، أو من الشيخ عبدالقادر ، أو من فلان، أو فلان، أو من البدوي، أو من الحسين، أو غير ذلك، طلب هذا من الموتى أمر لا يجوز، وهو من أقسام الشرك، وإنما الميت يترحم عليه، إذا كان مسلمًا، ويدعى له بالمغفرة والرحمة، والنبي ﷺ إذا سلم عليه مسلم يصلي عليه -عليه الصلاة والسلام-، ويدعو له، أما أن يطلبه المدد، أو الشفاعة، أو النصر على الأعداء، كل هذا لا يجوز، وهذا من عمل أهل الجاهلية، ومن عمل أهل الشرك.
فيجب على المسلم أن ينتبه لهذا، وأن يحذر مثل هذا
“সুতরাং সার সংক্ষেপ কথা হল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা অন্য কোনও মৃত ব্যক্তির নিকট শাফায়াত/সুপারিশ চাওয়া-এটা জায়েজ নয়। শারিয়তের মূলনীতির আলোকে এটা বড় শিরক। কারণ তা মৃতদের কাছে এমন কিছু প্রার্থনা করার অন্তর্ভুক্ত যা করতে তিনি সক্ষম নন। যেমন: কেউ যদি তাঁর কাছে রোগীকে আরোগ্য করার জন্য অথবা শত্রুদের উপর বিজয়ী করার জন্য, অথবা দুর্দশাগ্রস্তদেরকে সাহায্য করার জন্য বা এ জাতীয় কোন কিছু প্রার্থনা করে তবে এগুলো সবই বড় শিরকের প্রকারভেদ। তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট অথবা শায়খ আব্দুল কাদির জিলানি অথবা অমুক, অমুক অথবা বাদাভী অথবা হুসাইন রা. অথবা অন্য কারও নিকট প্রার্থনা করার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। মৃত ব্যক্তির নিকট থেকে তা চাওয়া জায়েজ নয়। এটা শিরকের একটি প্রকার।
বরং করণীয় হল, মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে রহমতের দুআ, তার জন্য রহমত ও মাগফিরাত কামনা করা যদি সে মুসলিম হয় এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করা এবং তার জন্য দুআ করা। কিন্তু তার কাছে সাহায্য ও শাফায়াত প্রার্থনা করা বা শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করা- এগুলো কোনটাই জায়েয নয়। বরং এগুলো জাহেলিয়াত ও এবং শিরক পন্থীদের কাজের অন্তর্ভুক্ত। মুসলিমকে অবশ্যই এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং এ ধরনের বিষয় থেকে সতর্ক থাকতে হবে।”
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী।
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

এই পোষ্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও পোস্ট...

আজকের দিন-তারিখ

  • বৃহস্পতিবার (দুপুর ১২:২২)
  • ১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৩ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি
  • ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত avasmultimedia.com ২০১৯-২০২২ ‍

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD