1. admin@avasmultimedia.com : Kaji Asad Bin Romjan : Kaji Asad Bin Romjan
  2. melisenda@indexing.store : david06w10 :
  3. tilly@itchydog.store : karolynchappell :
  4. joannleslie6562@b.cr.cloudns.asia : magdacollick53 :
  5. hannasoliz3758@qiott.com : sheetaldubay7658gse :
দর্জিদের জন্য কাস্টমারকে টাইট-ফিট, ছোট ও পাতলা ফিনফিনে পোশাক বানিয়ে দেওয়ার বিধান - Avas Multimedia
বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন

দর্জিদের জন্য কাস্টমারকে টাইট-ফিট, ছোট ও পাতলা ফিনফিনে পোশাক বানিয়ে দেওয়ার বিধান

কাজী আসাদ বিন রমজান
  • প্রকাশের সময়ঃ বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৪৮ বার দেখেছে
দর্জিদের জন্য কাস্টমারকে টাইট-ফিট, ছোট ও পাতলা ফিনফিনে পোশাক বানিয়ে দেওয়ার বিধান
প্রশ্ন: আমি একজন দর্জি। আমার প্রশ্ন হল, যদি কোনও মহিলা কাস্টমার খুব টাইট-ফিট-স্টাইলিশ পোশাক বানিয়ে দিতে বলে আর আমি তা বানিয়ে দেই তাহলে কি আমার গুনাহ হবে?
বি. দ্র. আমি যদি আবার তার মতো করে না বানিয়ে দেই তাহলে তো আমার কাছে কাস্টমর আসবেও না। এ ক্ষেত্রে আমার করণীয় কি?
উত্তর:
যদি কোনও মহিলার ব্যাপারে প্রবল ধারণা জন্মে বা নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন যে, সে টাইপ-ফিট, ছোট বা পাতলা ফিনফিনে পোশাক পরিধান করে পর্দা হীনভাবে পরপুরুষের সামনে চলাফেরা করবে বা সবার সামনে তা প্রদর্শনী করে বেড়াবে তাহলে কোনও ইমানদার দর্জির জন্য তাকে এই জাতীয় পোশাক সেলাই করে দেওয়া জায়েজ নাই। কারণ পরপুরুষের সামনে এমন পোশাক পরিধান করা হারাম। সুতরাং তা গুনাহের কাজে সহযোগিতার শামিল। আর আল্লাহ তাআলা গুনাহের কাজে পরস্পরকে সহায়তা করতে নিষেধ করেছেন।
মহান আল্লাহ বলেন,
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
“তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সহায়তা করো। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না।” [সূরা মায়িদা: ২]
কিন্তু যদি তা নিশ্চিতভাবে জানা না যায় বা এমন কিছু মনে না হয় তাহলে বানানো জায়েজ। কারণ হতে পারে, সে কেবল তার স্বামীর সামনে তা পরিধান করবে বা বাইরে গেলেও বোরকার নিচে তা পরিধান করবে। কেননা মানুষের প্রতি সুধারণা পোষণ করাটাই কর্তব্য। এ পোশাক সে কোথায় কিভাবে পরিধান করবে তা তাকে জিজ্ঞাসা করাটাও জরুরি নয়। বরং সাধারণ সুধারণার উপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিবে।
◈ শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তায়মিয়া রাহ. বলেন,
وكل لباس يغلب على الظن أنه يستعان به على معصية ، فلا يجوز بيعه وخياطته لمن يستعين به على المعصية والظلم ” انتهى .
“যে সকল পোশাকের ব্যাপারে মনে প্রবল ধারণা হয় যে, তা আল্লাহর নাফরমানির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে তাহলে যে ব্যক্তি তা আল্লাহর নাফরমানি ও পাপাচারে ব্যবহার করবে তাকে তা সেলাই করে দেওয়া বা তার কাছে বিক্রয় করা জায়েজ নাই।” [শারহুল উমদাহ /৪৩৮৬]
◈ সৌদি স্থায়ী ফতোয়া বোর্ডের ফতোয়া হল,
كل ما يستعمل على وجه محرم ، أو يغلب على الظن ذلك ، فإنه يحرم تصنيعه واستيراده وبيعه وترويجه بين المسلمين ، ومن ذلك ما وقع فيه كثير من نساء اليوم هداهن الله من لبس الملابس الشفافة والضيقة والقصيرة ، ويجمع ذلك كله : إظهار المفاتن والزينة ، وتحديد أعضاء المرأة أمام الرجال الأجانب ” انتهى
“যে সব জিনিস হারাম কাজে ব্যবহার করা হয় অথবা এ ব্যাপারে মনে প্রবল ধারণা তৈরি হয় তা তৈরি করা, আমদানি করা, বিক্রি করা এবং মুসলিমদের মাঝে তার প্রচার-প্রসার করা হারাম। এমনই একটা বিষয় হল, স্বচ্ছ, সংকীর্ণ ও ছোট পোশাক পরিধান করা-যেটাতে অনেক মহিলাই পড়ে গেছে। (আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েত করুন)। এ সবগুলোই তাদের শরীরের সৌন্দর্য ও আকর্ষণীয় স্থানগুলো প্রকাশ করে এবং পরপুরুষদের সামনে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ফুটিয়ে তোলা। ” [১৩/১০৯]
◈ সৌদি আরবের সাবেক প্রধান মুফতি আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন,
فالواجب على المسلمين التعاون على البر والتقوى وأن لا يتعاونوا على الإثم والعدوان، وكل امرأة تعرفين عنها لبس القصير لا تخطين لها، وكل امرأة تعرفين عنها تلبس الشفاف وليس تحته ساتر لا تعينها على ذلك، وانصحيها وعلميها وامتنعي من مساعدتها،
وأبشري بالخير، وسوف يعوضك الله خيراً منها، وسوف يأتي الله برزق طيب تعويضاً لكِ عما فعلتِ من الخير
لأنه سبحانه يقول: ومن يتق الله يجعل له مخرجاً، ويرزقه من حيث لا يحتسب، ويقول سبحانه:ومن يتق الله يجعل له من أمره يسراً، فعليك أن تتقي الله وأن لا تساعدي النساء اللاتي يتعمدن المعصية، لا في اللباس ولا في غيره. »
“সুতরাং মুসলিমদের জন্য নেকি ও আল্লাহ ভীতির ব্যাপারে পারস্পারিক সহযোগিতা করা এবং গুনাহ ও সীমালঙ্ঘন মূলক কাজে সহায়তা না করা ওয়াজিব। আর যে মহিলার ব্যাপারে তুমি জানবে যে, সে (পর পুরুষদের সামনে) ছোট পোশাক পরিধান করে তাকে এমন কাপড় সেলাই করে দিবে না, যে মহিলার ব্যাপারে জানবে যে, স্বচ্ছ বা পাতলা ফিনফিনে পোশাক পরিধান করে যার নিচে কোনও আবরণ নেই তাকে এ ক্ষেত্রে সহায়তা করবে না। তাকে নসিহত করবে, শেখাবে এবং এ ক্ষেত্রে সহায়তা করা থেকে বিরত থাকবে।
তবে সুসংবাদ নাও, আল্লাহ তোমাকে এর থেকে উত্তম বিকল্প ব্যবস্থা করে দিবেন এবং যে ভালো কাজ করেছো তার বিনিময়ে তিনি তোমাকে পবিত্র রিজিকের ব্যবস্থা করবেন।”
কারণ আল্লাহ বলেন,
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا ‎‏ وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
“আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিষ্কৃতির পথ করে দেন। এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেন।” [সূরা তালাক: ২ ও ৩]
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا
“যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন।” [সূরা তালাক: ৪]
অত:এব, তোমার জন্য আবশ্যক হল, আল্লাহকে ভয় করা এবং যে সব মহিলা ইচ্ছাকৃত ভাবে আল্লাহর নাফরমানি করে তাদেরকে সহায়তা না করা পোশাকের ক্ষেত্রে নয়, অন্য কোনও (হারাম) ক্ষেত্রেও নয়।” [binbaz]
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

এই পোষ্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সর্ম্পকিত আরোও দেখুন
© আভাস মাল্টিমিডিয়া সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯-২০২৪