মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৭:০২ অপরাহ্ন

পিতামাতার নিকট দাওয়াতি কাজ এবং তাদের অন্যায় নির্দেশ পালন করার বিধান
রিপোর্টারের নাম / ২৩৪ কত বার
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ, ২০২১

প্রশ্ন: ইসলাম বলে, বাবা-মাকে কখনোই কষ্ট দেওয়া যাবে না। এখন প্রশ্ন হল,
– বাবা-মা যদি নামাজ না পড়ে তাহলে আমি সন্তান হয়ে তাদেরকে কি নামাজ পড়ার জন্য বলতে পারব?
– তারা যদি শিরক করে (যেমন: তাবিজ-কবজের ব্যবহার) এবং আমাকেও মানতে বাধ্য করে তাহলে আমি যদি না মানি তাহলে কি গুনাহ হবে?
এটা বলার কারণ, আমাদেরকে তো মা-বাবার অবাধ্য হতে নিষেধ করা হয়েছে।

উত্তর:

বাবা-মাকে কষ্ট দেয়া, তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা বা তাদের সাথে কটু কথা বলা হারাম ও কবিরা গুনাহ এবং তাদের নির্দেশ শোনা ও আনুগত্য করা ফরজ যতক্ষণ না তা সাধ্যের অতিরিক্ত ও শরিয়ত বিরোধী হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاهُمَا فَلا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلاً كَرِيماً

“আর তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে; তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং ধমক দিও না এবং তাদের সাথে বলো সম্মান জনক কথা।” (সূরা ইসরা/ বনী ইসরাঈলঃ ২৩)
হাদিসে এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:رَضَىَ الرَّبِّ فِىْ رِضَى الْوَالِدِ وَسُخْطُ الرَّبِّ فِىْ سُخْطِ الْوَالِدِ

আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি পিতার সন্তুষ্টিতে এবং প্রতিপালকের অসন্তুষ্টি পিতার অসন্তুষ্টিতে।”
(তিরমিযী ১৮৯৯, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৫১৫, মুসনাদুল বাযযার ২৩৯৪, আল মুসতাদরাক ৭২৪৯)

সুতরাং সন্তানের জন্য পিতা-মাতার প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করা ফরজ এবং তাদেরকে কষ্ট দেয়া হারাম।

কিন্তু তারা যদি আপনাকে তাবিজ-কবজ ব্যবহার করতে, দাড়ি কাটতে, পর্দা না করতে, সুদ খেতে বা অন্য কোন হারাম কাজ করতে নির্দেশ দেয় তাহলে এ ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করা জায়েজ নাই। কারণ আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে সৃষ্টিজগতের কারও আনুগত্য করা যাবে না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق،
“স্রষ্টার অবাধ্য হয়ে সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না।”
إن الطاعة في المعروف
“নিশ্চয়ই আনুগত্য হবে কেবলমাত্র সৎকাজের বেলায়।” (সহিহ বুখারী)

এতদাসত্বেও তাদের সাথে সুন্দর আচরণ করতে হবে এবং নম্র ও ভদ্র ভাষায় তাদেরকে দাওয়াত দিতে হবে, সালাতের কথা বলতে হবে, ইসলামি জীবন-যাপনের ব্যাপারে উপদেশ দিতে হবে এবং তারা কোন গুনাহ বা শরিয়া বিরোধী অন্যায়-অপকর্মে লিপ্ত থাকলেে সাধ্যানুযায়ী বুঝিয়ে তাদেরকে সংশোধন করার চেষ্টা করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَىٰ أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا ۖ وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا ۖ
“পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে শিরক করতে জোর-জবরদস্তি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহবস্থান করবে।” (সূরা লোকমান: ১৫)

এ ক্ষেত্রে আল্লাহর সম্মানিত নবী ইবরাহিম-আলাইহিস সালাম- তাঁর মূর্তি পূজারী পিতা আজরকে কিভাবে দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং কি ভাষায় তার সাথে কথোপকথন করেছিলেন তা কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির সামনে এক অনন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পড়ুন সূরা মারয়ামের ৪১ থেকে ৪৮ নং আয়াতগুলো।

আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরও পড়ুন:
পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার: এক অবশ্য পালনীয় ঐশী নির্দেশ
https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/845018029251077
▬▬▬✪✪✪▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর..
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট