প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৫
স্বামী তার স্ত্রীর যোনি এবং স্ত্রী তার স্বামীর পুরুষাঙ্গ চুষতে পারবে কি?
||
▪️প্রশ্নঃ স্ত্রীর মুখে লিঙ্গ দেওয়া জায়েজ আছে কি?
▪️প্রশ্নঃ বউয়ের যোনিতে কি মুখ দেওয়া যাবে?
▪️প্রশ্নঃ স্বামী তার স্ত্রীর যোনি এবং স্ত্রী তার স্বামীর পুরুষাঙ্গ চুষতে পারবে কি?
উপরের প্রশ্ন ৩ টির কিন্তু মূল জবাব
একটি। তাই তিনটি প্রশ্নের জবাব এক
সাথে দিয়ে দিলাম।
? উত্তরঃ
✔️ প্রথমতঃ মা আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) বলেছেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি আমার
লজ্জাস্থান দেখেন নি এবং আমিও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের লজ্জাস্থান দেখিনি। তাছাড়া নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন লজ্জাস্থানের দিকে না তাকাতে। কেননা তাতে চোখের জ্যোতি কমে যায়, মর্মের হাদীছটি যঈফ (ইবনু মাজাহ হা/৬৬২; মিশকাত হা/৩১২৩; ইরওয়া হা/১৮১২)।
শরীয়তে তাতে কোন বাধা নেই। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তুমি তোমার লজ্জাস্থান ঢেকে রাখ। তবে তোমার স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত (ইবনু মাজাহ হা/২৭৯৪; মিশকাত হা/৩১১৭)। স্বামী স্ত্রী উভয়েই উভয়ের সর্বাঙ্গ নগ্নবস্থায় দেখতে পারে। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৭৬৬) এতে স্বাস্থ্যগত কোন ক্ষতিও নেই। ‘স্বামী স্ত্রীর একে অন্যের লজ্জাস্থান দেখতে নেই, বা হযরত আয়েশা (রঃ) কখনও স্বামীর গুপ্তাঙ্গ দেখেননি, উলঙ্গ হয়ে গাধার মত সহবাস করো না, বা উলঙ্গ হয়ে সহবাস করলে সন্তান অন্ধ হবে। সঙ্গমের সময় কথা বললে সন্তান তোৎলা বা বোবা হয়’ ইত্যাদি বলে যে সব হাদীস বর্ণনা করা হয়, তার একটিও সহীহ ও শুদ্ধ নয়। (দেখুন, তুহফাতুল আরুশ ১১৮ – ১১৯ পৃঃ)
স্বামী স্ত্রী একে অন্যের লেবাস। উভয়ে উভয়ের সব কিছু দেখতে পারে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
“(সফল মুমিন তারা) যারা নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে। নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যাতিত; এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। সুতরাং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে, তারা হবে সীমালংঘনকারী। (মু’মিনূনঃ ৫-৬, মাআরিজঃ ২৯-৩১)”
নবী (সঃ) বলেছেন, “তুমি তোমার স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া অন্যের নিকটে লজ্জাস্থানের হেফাযত কর।” সাহাবী বললেন, ‘হে আল্লাহ্র রাসুল! লোকেরা আপসে এক জায়গায় থাকলে?’ তিনি বললেন, “যথাসাধ্য চেষ্টা করবে, কেউ যেন তা মোটেই দেখতে না পায়।” সাহাবী বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! কেউ যদি নির্জনে থাকে।’ তিনি বললেন, “মানুষ অপেক্ষা আল্লহ এর বেশী হকদার যে, তাকে লজ্জা করা হবে।” ৬১৭ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মিশকাত ৩১১৭ নং)
আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, সম্পুর্ন উলঙ্গ হওয়া যাবে না, রুম অন্ধকার রাখতে হবে ইত্যাদি, ইত্যাদি। উপরের বর্ননা থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় রুম অন্ধকার না করলে এবং উভয়ে সম্পূর্ণ উলঙ্গ হলে কোন দোষ নেই। (ইবনে উষাইমীন)
✔️ দ্বিতীয়ত্বঃ যৌনাঙ্গতে মুখ লাগানো এটি একটি পুশুভিক্তিক আচরণ। যৌনাঙ্গতে মুখ লাগানো এটা সভ্য মানুষের আচরণ হতে পারেনা। পুশুদের হাত নেই বলেই তার সঙ্গীনিকে মুখ দ্বারা উত্তেজিত করে। কিন্তু আপনার তো হাত আছে। আপনার হাত থাকতে কেনো আপনি (পুরুষ ও নারী) যৌনাঙ্গতে মুখ লাগিয়ে আপনার সঙ্গীনিকে উত্তেজিত করবেন? আমার জানা মতে পশুরাও তো যৌনাঙ্গতে মুখ লাগায় না। তবে আপনি কেনো সৃষ্টির সেরা মাখলুক হয়ে যৌনাঙ্গতে মুখ লাগাবেন?
এটা তো প্রসাবের রাস্তা। আপনি যে পাত্রে প্রসাব করেন সে পাত্রে কি খাদ্য রেখে খাবেন?
আপনার রুচিতে হলে খেতে পারেন আমার কোনো আপত্তি নেই।
আমার এই কথার বিপরীতে যদি আপনি বলেন এটা (যৌনাঙ্গ) তো ধোয়া ও পরিস্কার থাকে। জবাবে আমি আপনাকে বলবো আপনি কারো বাসায় মেহমান হয়ে গেলেন। আপনার সামনে সে বাসার মালিকের ছোট্ট ছেলে ফল রাখার পাত্রতে প্রসাব করে দিল এবং বাসার মালিক তা ধুয়ে সে পাত্রে আপনাকে ফল বা খাবার দিল আপনি কি সে খাবার খাবেন? অবশ্য আপনার রুচিতে হলে খেতে পারেন।
?আপনি তাকান তো আপনার নিজের দিকে। আপনি যখন আপনার মায়ের গর্ভে ছিলেন, তখন মহান আল্লাহ আপনার মায়ের মাসিকের রক্ত বন্ধ করে সে রক্ত দিয়ে আপনার প্রাণ বাঁচিয়েছেন।
❓সে মাসিকের রক্ত কি আপনাকে মুখ দিয়ে পান করিয়েছেন নাকি নাড়ী দিয়ে?
উত্তর হচ্ছে মহান আল্লাহ মাসিকের রক্ত নাড়ী দিয়ে আপনার দেহে প্রবেশ করিয়ে আপনার প্রাণ (জীবন) রক্ষা করেছেন।
❓কেনো করেছেন?
উত্তর হচ্ছে এই রক্ত যদি আপনার মুখ দিয়ে আপনার দেহে প্রবেশ করাতেন তাহলে আপনার মুখ টা নাপাক হয়ে যেত। তা হলে আপনি দুনিয়াতে এসে অপবিত্র মুখ দিয়ে মহান আল্লাহর নাম নিতেন। আপনি যাতে পবিত্র মুখ দিয়ে মহান আল্লাহর নাম নিতে/ইবাদাত করতে পারেন সে জন্য মহান আল্লাহ এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মায়ের গর্ভে আপনার প্রাণ বাঁচিয়েছেন।
✔️ তৃতীয়তঃ যৌনাঙ্গতে মুখ লাগালে যৌনাঙ্গতে লেগে থাকা জীবাণু আপনার দেহে প্রবেশ করবে। তাতে আপনি অসুস্থ হওয়ার সম্ভবনা আছে।
তাছাড়া আপনি যৌনাঙ্গতে মুখ লাগাবেন সে যদি যৌন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে তখন আপনি কি
করবেন?
❓ এখন আপনি যদি প্রশ্ন করেন, ডাক্তারেরা তো বলে যৌনাঙ্গতে মুখ লাগাতে।
?উত্তরে আমি বলতে চাই,
ডাক্তারেরাতো বলে পানি ফুটালে পানিতে থাকা জীবাণু মারা যায়। কিন্তু পানিতে থাকা জীবাণু মরে
কি উড়ে যায় নাকি সে জীবাণু পানিতেই থেকে যায়?
এখন আপনি যদি সে পানি খান তাহলে মরা জীবাণুর সাথেই সে পানি খাচ্ছেন। যাইহোক পানি ফুটানোর ফলে অন্তত মরা জীবানু আপনার পেটে প্রবেশ করল কিন্তু আপনি যে আপনার স্ত্রীর যৌনাঙ্গে মুখ লাগালেন তাতে থাকা জীবানু কি মৃত?
?️♂️ এই পোস্ট টি যারা পড়েছেন তাদের মনে আবার এই প্রশ্ন জাগতে পারে যে লোকদের মনে এ রকম প্রশ্ন আসে কেন?
? উত্তর হচ্ছে পর্ণ ভিডিওর প্রভাব। মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখার সুবিধা থাকার কারণে পর্ণ ভিডিও এখন সবার হাতে হাতে চলে এসেছে।
পর্ণ ভিডিওতে বিশ্ব-বেশ্যারা যা করে তা দেখে তাদের মনে এই ধরণের প্রশ্ন জাগে। যারা এই প্রশ্ন গুলো করেছে আমি তাদের কে সাধুবাদ
জানাই।
কেনোনা তারা এই প্রশ্ন গুলো করার কারনে এই পোস্ট ট লিখতে পেরেছি যার কারণে তারা হয়ত এই কাজ করা থেকে বিরত থাকবে। তারা যদি এই প্রশ্ন না করতো তাহলে তারাও ঐ বেশ্যাদের মতো কাজ চালিয়ে যেত তাহলে মানুষ এই সত্যটা জানতে পারতো না।
? বিঃদ্রঃ....
স্বামী-স্ত্রী পরস্পর পরস্পরের সমস্ত অঙ্গ দ্বারা ফায়দা/লাভ নিতে পারবে।উপভোগ করতে পারবে। কিন্তু একে অপরের লজ্জাস্থানকে মুখে নেওয়া বেহায়াপনা ও চুড়ান্ত পর্যায়ের অশ্লীলতা বিধায় ফুকাহায়ে কেরাম মাকরুহ বলেছেন। যদি স্ত্রী নিজের যৌন অনুভূতিকে মুখে প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করে বা যৌন আখাংকায় বেহুশ হয়ে স্বামীর গোপনাঙ্গকে মুখে নিয়ে নেয়, এক দুইবার হলে মাফ। ঠিক তেমনি স্বামী যৌন আখাংকায় বেহুশ হয়ে যদি স্ত্রীর গোপনাঙ্গকে মুখে নিয়ে নেয়, এক দুই বার হলে মাফ। নিয়মিত অভ্যাস বানিয়ে ফেলা মাকরুহ। বীর্যকে মুখে প্রবেশ করানো যাবে না। এবং গিলে ফেলা মাকরুহে তাহরীমি (ফাতাওয়ায়য়ে মাহমুদিয়্যাহ-১৮/৬২৪, জামেউল ফাতাওয়া-৩/২৩৪, ফাতাওয়ায়ে রাহিমিয়্যাহ-৬/৩৭০)।
স্বামী-স্ত্রীর লজ্জাস্থানে মুখ লাগানো নাজায়েয। যাকে বর্তমানে ‘ওরাল সেক্স’ বলে। মুখ গহ্বর কিংবা জিহ্বা দ্বারা একে অপরের যৌনাঙ্গ চুষা (Suck) বা লেহন করা। যা কোন সভ্য ও রুচিশীল মানুষের আচরণ হতে পারে না। এটা অপবিত্র এবং অন্যজন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা অপবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম করেছেন (সূরা আল-আ‘রাফ : ১৫৭)। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘নিজের কোন অনিষ্টতা বা ক্ষতি এবং পরস্পরে কারোর ক্ষতি করা যাবে না’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৩৪০,২৩৪১; সনদ ছহীহ, ছহীহুল জামে‘, হা/৭৫১৭; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৫০; বিস্তারিত দ্র. : ইসলাম ওয়েব, ফাতাওয়া নং-২১৪৬, ৫০৭০৮)। এটা রুচিহীন, বিকারগ্রস্ত বেহায়া জাতির অপকর্ম।
বর্তমান লক্ষ্য করা যায় অনেক যুবক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন এবং বন্ধু মহলে তাদের যৌন মিলনের কথা শেয়ার করছেন, অথচ এই বিষয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সুতরাং যৌন মিলনের গোপন রহস্য ফাঁস করা হারাম (ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৩৭; বিস্তারিত দ্র. : ইসলাম সুওয়াল জাওয়াব, ফাতাওয়া নং-৫৫৬০)।
আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সবাইকে বুঝার এবং আমল করার তৌফিক দান করুন।
আমীন।
Fonuder & Director: Kaji Asad Bin Romjan
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আভাস মাল্টিমিডিয়া