প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
চিনি খেলে কি ক্যানসার হয়, যা জানালেন চিকিৎসক
কাজী আসাদ বিন রমজান ||
চিনি সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টি করে না। সব সক্রিয় কোষেরই বেঁচে থাকার জন্য গ্লুকোজের প্রয়োজন হয়। সাধারণ কোষের মতো ক্যানসার কোষও গ্লুকোজ ব্যবহার করে থাকে। এর মানে এই নয় যে, চিনি খেলেই ক্যানসার হবে। তবে অতিরিক্ত চিনি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার ও প্রক্রিয়াজাত পানীয় শরীরে ক্যালোরির পরিমাণ বাড়িয়ে ওজন বৃদ্ধি করে। যেমন— স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন স্তন, কোলন, পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের বড় একটি ঝুঁকি। এ ছাড়া রক্তে উচ্চ সুগার লেভেল ক্যানসার কোষের বিস্তার ও বেঁচে থাকার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। কিন্তু চিনি বন্ধ করলেই ক্যানসার ভালো হয় না। অনেকেরই ধারণা— ডায়েট থেকে চিনি পুরোপুরি বাদ দিলে ক্যানসার কোষগুলোকে অনাহারে মেরে ফেলা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এ ধারণাকে খণ্ডন করেছেন। কারণ গ্লুকোজের অভাব হলে ক্যানসার কোষগুলো প্রোটিন ও ফ্যাট থেকে বিকল্প শক্তি সংগ্রহ করে নিজেদের বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, ক্যানসার ও অন্যান্য ক্রনিক রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে অতিরিক্ত মিষ্টি, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং কৃত্রিম চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নারীর দৈনিক ২৫ গ্রাম এবং পুরুষের দৈনিক ৩৬ গ্রামের বেশি 'অ্যাডেড সুগার' গ্রহণ করা উচিত নয়।বর্তমান সময়ে সুস্থ থাকতে চিনি খাওয়া বাদ দিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে ‘নো সুগার’ ট্রেন্ড দারুণ জনপ্রিয় আর চিকিৎসকরাও এ বিষয়ে সচেতন করছেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে বলছেন, চিকি থেকে ক্যানসার হতে পারে। কেক, পেস্ট্রি, চকলেট থেকে শুরু করে গুড়-মিষ্টি সব কিছুকেই অনেকে ক্যানসারের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।এ ধারণা নিয়ে কথা বলেছেন ভারতীয় অনকোলজিস্ট ডা. বর্তিকা বিশ্বানি। তিনি বলেন, এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। চিনি সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টি করে এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। সম্প্রতি একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার কারণে সরাসরি ক্যানসার হয়। তিনি বলেন, আমি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ হয়েও বলতে পারি না যে, চকলেট বা কেক খেলে ভবিষ্যতে ক্যানসার হবেই। আরও পড়ুনআরও পড়ুনকাশির সময় বুকে ব্যথা—সাধারণ সমস্যা নাকি বড় বিপদের সংকেতডা. বিশ্বানি বলেন, শরীরের প্রতিটি সক্রিয় কোষ, মস্তিষ্ক, কিডনি বা অন্ত্র সবাই শক্তির জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে থাকে। তাই চিনি একেবারে বাদ দিলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তির অভাবে পড়তে পারে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় চিনি বা কার্বোহাইড্রেট একেবারে বন্ধ করলে শরীর শক্তির জন্য পেশি টিস্যু ভাঙতে শুরু করতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ক্যানসার কোষ দ্রুত বাড়ে বলে তারা তুলনামূলক বেশি শক্তি ব্যবহার করে। তবে এর মানে এই নয় যে, চিনি বন্ধ করলে ক্যানসার কোষ মারা যাবে বা উপবাস ক্যানসারের চিকিৎসা হতে পারে।তিনি বলেন, সমস্যা চিনি নয়, সমস্যা হলো— এটি অতিরিক্ত খাওয়ায়। বেশি চিনি, স্থূলতা বা মেটাবলিক রোগ ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কিন্তু শুধু এই কারণে ফল, শস্য বা ঘরের খাবার বাদ দেওয়া ঠিক নয়। অল্প মিষ্টি বা স্বাভাবিক খাবার খাওয়া সমস্যা নয়, কিন্তু অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই আসল ঝুঁকি। আর ক্যানসারের ঝুঁকি একক কোনো খাবার থেকে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
Fonuder & Director: Kaji Asad Bin Romjan
কপিরাইট © ২০১৯-২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আভাস মাল্টিমিডিয়া