প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
সন্তানদেরকে অভিশাপ, বদদুআ ও গালাগালি করা থেকে বিরত থাকুন
কাজী আসাদ বিন রমজান ||
প্রশ্ন: মা জাতিরা প্রায়ই বাচ্চাদের জ্বালায় বিরক্ত হয়ে বিভিন্ন সময়ে অনেক গালাগালি ও অভিশাপ দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কি আল্লাহ পাক সে অভিশাপগুলো কবুল করে ফেলেন?উত্তর: সন্তান প্রতিপালন আল্লাহর পক্ষ থেকে পিতা-মাতার প্রতি অর্পিত একটি গুরু দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে প্রচুর ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রয়োজন। সুতরাং রাগ, বিরক্তি বা অন্য কোন কারণে সন্তানদেরকে গালাগালি ও অভিশাপ দেয়া বৈধ নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:لَعْنُ المُؤْمِنِ كَقَتْلِهِ“মুমিন ব্যক্তিকে অভিসম্পাত করা তাকে হত্যা করার সমান।’’ (বুখারী ও মুসলিম)তিনি আরও বলেন:سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ“মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসেকী কাজ।” (বুখারী ও মুসলিম)আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ وَلَا بِاللَّعَّانِ وَلَا الْفَاحِشِ وَلَا الْبَذِيْءِ‘“মুমিন ব্যক্তি ভৎর্সনাকারী, অভিসম্পাৎকারী, অশ্লীল গালমন্দ কারী ও নির্লজ্জ হতে পারে না’ (তিরমিযী, বায়হাক্বী, মিশকাত হা/৪৮৪৭; বাংলা মিশকাত হা/৪৬৩৪, সনদ সহীহ)।)।পিতা-মাতার সুদুআ ও বদদোয়া কোনটাই ফিরিয়ে দেয়া হয় না:জেনে রাখা দরকার, লানত বা অভিশাপ একটি বদ দুআ। কাউকে লা’নত বা অভিশাপ দেয়ার অর্থ হল, আল্লাহর দয়া ও করুণা থেকে দূরে সরানোর জন্য আল্লাহর নিকট বদ দুআ করা। আর তা যদি বাবা-মার পক্ষ থেকে সন্তানের প্রতি হয় তাহলে তার কবুল হয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে-চাই তা রাগ বা বিরক্তি বশত: হোক অথবা ঠাণ্ডা মাথায় হোক। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ثَلاَثُ دَعَوَاتٍ يُسْتَجَابُ لَهُنَّ لاَ شَكَّ فِيهِنَّ دَعْوَةُ الْمَظْلُومِ وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ وَدَعْوَةُ الْوَالِدِ لِوَلَدِهِ“তিন ব্যক্তির দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়। মজলুমের দোয়া, মুসাফিরের দোয়া ও সন্তানের জন্য পিতার দোয়া।” (সুনানে ইবনে মাজাহ অধ্যায়ঃ ২৮/ দোয়া (كتاب الدعاء) হাদিস নম্বরঃ [3862] তাওহীদ পাবলিকেশন-শাইখ আলবানী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন)সুতরাং রাগের বশবর্তী হয়ে বাবা-মা যদি সন্তানকে অভিসম্পাত দেয় বা তাদের জন্য বদ দুআ করে তবুও তা কবুল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।যতই রাগ হোক না কেন-যে কারণেই হোক না কেন তা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে হবে। কেননা রাগ নিয়ন্ত্রণ করার ফযিলতে কুরআন-হাদিসে অনেক আলোচনা এসেছে। তাই সতর্ক হতে হবে যেন, রাগের অবস্থায় যেন এমন কোন আচরণ সংঘটিত না হয় বা এমন কোন কথা মুখ দিয়ে বের না হয় যা তার নিজের জন্য বা তার সন্তান-সন্ততির জন্য ধ্বংসাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।অত:এব, প্রতিটি বাবা-মার উচিৎ, রাগের বশবর্তী হয়ে সন্তানদেরকে গালাগালি, বদদুআ ও অভিশাপ বর্ষণের পরিবর্তে তাদের হেদায়েত ও সুবুদ্ধির জন্য দুআ করা। হতে পারে এই দুআর কারণে আল্লাহ তাকে হেদায়েত দান করবেন এবং তার আচরণ সংশোধন করে দিবেন। আল্লাহু আলাম।উত্তর প্রদানে:আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীলদাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব
Fonuder & Director: Kaji Asad Bin Romjan
কপিরাইট © ২০১৯-২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আভাস মাল্টিমিডিয়া