দিনাজপুর    বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
আভাস মাল্টিমিডিয়া

জানাজার সালাতের বিধান



জানাজার সালাতের বিধান

প্রশ্ন: জানাজার সালাতের বিধান কী? তা কি ফরজ নাকি সুন্নত? একজন সালাফি আলেমের মুখে শুনলাম, জানাজার সালাত সুন্নত। কিন্তু আমরা আগে থেকে যা জানি তা হলো, এটি ফরজে কেফায়াহ। কোনটি সঠিক দয়া করে জানাবেন।

উত্তর:
ইসলামি ফিকহের আলোকে জানাজার সালাত  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'ফরজে কিফায়াহ' (সামষ্টিক ফরজ ইবাদত)। অর্থাৎ এটি মুসলিম সমাজের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক দায়িত্ব। যদি সমাজের কিছু মানুষ এটি আদায় করে তবে বাকিরা দায়মুক্ত হবে। কিন্তু সবাই যদি এটি পরিত্যাগ করে তবে পুরো সমাজ গুনাহগার হবে।

সুতরাং এটিকে সুন্নত বলা সঠিক নয়।

হাদিসে এসেছে,

عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: ((أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِجِنَازَةٍ لِيُصَلِّيَ عَلَيْهَا، فَقَالَ: هَلْ عَلَيْهِ مِنْ دَيْنٍ؟ قَالُوا: لَا، فَصَلَّى عَلَيْهِ، ثُمَّ أُتِيَ بِجِنَازَةٍ أُخْرَى، فَقَالَ: هَلْ عَلَيْهِ مِنْ دَيْنٍ؟ قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: فَصَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ. قَالَ أَبُو قَتَادَةَ: عَلَيَّ دَيْنُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَصَلَّى عَلَيْهِ)).

সালামা ইবনে আকওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত: নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে একটি জানাজা আনা হলো যাতে তিনি সালাত পড়বেন। 

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তার কি কোনও ঋণ আছে?" 

সাহাবিগণ বললেন, "না।" 

তখন তিনি তার জানাজা পড়লেন। 

এরপর অন্য একটি জানাজা আনা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তার কি কোনও ঋণ আছে?"

সাহাবিগণ বললেন, "হ্যাঁ।" 

তিনি বললেন, "তোমরা তোমাদের সাথীর জানাজা পড়ো। (অর্থাৎ তিনি নিজে তার জানাজা পড়তে অস্বীকৃতি জানালেন)।

তখন আবু কাতাদা (রা.) বললেন, "হে আল্লাহর রসুল! তার ঋণের দায়ভার আমার ওপর রইল।" এরপর তিনি তার জানাজা পড়লেন।

[সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ২২৯৫]

এখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ—صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ বা "তোমরা তোমাদের সাথীর জানাজা পড়ো"—এটি একটি আদেশসূচক বাক্য, যা ওয়াজিব বা ফরজের দাবি রাখে। [দ্রষ্টব্য: ইমাম নওয়াবি (রহ.)-এর 'আল মাজমু', খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ২১২]

হাদিসে আরও এসেছে,

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ((قَدْ تُوُفِّيَ الْيَوْمَ رَجُلٌ صَالِحٌ مِنَ الْحَبَشِ، فَهَلُمَّ، فَصَلُّوا عَلَيْهِ)).

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আজ হাবাশা (ইথিওপিয়া)-এর এক নেককার ব্যক্তি (বাদশাহ নাজাশি) মৃত্যুবরণ করেছেন। অতএব চলো তার জানাজার সালাতে যাই। অতঃপর তারা তার জানাজার সালাত পড়লো।

[বুখারি, হাদিস নম্বর: ১৩২০; সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৯৫২]

কোন মুসলিম মৃত্যু বরণ করলে জীবিত মানুষদের উপর আবশ্যক হল, তার গোসল, কাফন, জানাজা এবং দাফন কার্য সম্পন্ন করা। অর্থাৎ এগুলো ফরজে কেফায়াহ। কিছু সংখ্যক মুসলিম এটি সম্পন্ন করলে সকলের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। 

জানাজার সালাত মুসলিমদের পারস্পারিক অধিকারের মধ্যে একটি এবং তা অনেক সওয়াবের কাজ। যেমন: আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত, রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:

 « مَنْ شَهِدَ الْجَنَازَةَ حَتَّى يُصَلِّىَ عَلَيْهَا فَلَهُ قِيرَاطٌ ، وَمَنْ شَهِدَ حَتَّى تُدْفَنَ كَانَ لَهُ قِيرَاطَانِ » . قِيلَ وَمَا الْقِيرَاطَانِ قَالَ « مِثْلُ الْجَبَلَيْنِ الْعَظِيمَيْنِ »

“যে ব্যক্তি জানাজার নামাজে উপস্থিত হবে তার জন্য রয়েছে এক কিরাত সমপরিমাণ সওয়াব আর যে দাফনেও উপস্থিত হবে তার জন্য দু কিরাত সমপরিমাণ সওয়াব। জিজ্ঞাসা করা হল, কিরাত কী? তিনি বললেন: দুটি বড় বড় পাহাড় সমপরিমাণ। “[বুখারি ও মুসলিম]

আলেমদের বক্তব্য ও ফতোয়া

শাইখ বিন বায (রহ.) বলেন,

صَلَاةُ الْجِنَازَةِ مَشْرُوعَةٌ لِلْجَمِيعِ، لِلرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ، وَهِيَ فَرْضُ كِفَايَةٍ، إِذَا قَامَ بِهَا وَاحِدٌ كَفَى وَأَجْزَأَتْ

"জানাজার সালাত নারী ও পুরুষ সবার জন্যই শরিয়তসম্মত এবং এটি 'ফরজে কিফায়াহ'। যদি একজন ব্যক্তিও তা আদায় করে তবেই তা যথেষ্ট হবে।"

ইসলাম ওয়েবে বলা হয়েছে,

فَصَلَاةُ الْجِنَازَةِ فَرْضٌ عَلَى الْكِفَايَةِ عِنْدَ جُمْهُورِ الْعُلَمَاءِ مِنَ الْحَنَفِيَّةِ وَالشَّافِعِيَّةِ وَالْحَنَابِلَةِ، وَاخْتُلِفَ فِيهَا قَوْلُ الْمَالِكِيَّةِ، وَالْمَشْهُورُ عِنْدَهُمْ كَمَذْهَبِ الْجُمْهُورِ. وَفَرْضُ الْكِفَايَةِ كَمَا قَالَ عَنْهُ صَاحِبُ الْمُوَافَقَاتِ: مُتَوَجِّهٌ عَلَى الْجَمِيعِ، لَكِنْ إِذَا قَامَ بِهِ بَعْضُهُمْ سَقَطَ عَنِ الْبَاقِينَ. ا.هـ

"হানাফি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবের অধিকাংশ আলেমের মতে জানাজার সালাত 'ফরজে কিফায়াহ'। মালিকি মাজহাবে এ নিয়ে ভিন্ন মত থাকলেও তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ মতটি জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতেরই অনুরূপ। 'আল মুয়াফাকাত' কিতাবে বলা হয়েছে, 'এটা এমন একটি দায়িত্ব যা সবার ওপরই বর্তায়। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোক যদি তা পালন করে তবে বাকিদের ওপর থেকে দায়িত্বটি নেমে যায়।'" [ইসলাম ওয়েব, ফতোয়া নম্বর: ১১৩৮৮]

ইমাম ইবনে হাজম, ইমাম নওয়াবি, ইবনুল মুলাক্কিন এবং কামাল ইবনুল হুমাম (রহ.) এ বিষয়ে ইজমা বা সর্বসম্মত মত উল্লেখ করেছেন।

[সূত্র: আদ দুরারুস সানিয়াহ-ওয়েব সাইট]

মোটকথা, জানাজার সালাত 'ফরজে কিফায়াহ'। অর্থাৎ মুসলিমদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক মানুষ যদি জানাজার সালাত আদায় করে নেয় তবে বাকিদের ওপর থেকে দায়িত্বটি নেমে যাবে বা তারা তাদের ওপর আবশ্যকীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবে। কিন্তু শরিয়ত সম্মত কারণ ছাড়া যদি এলাকার সবাই মিলে এটি পরিত্যাগ করে তবে ওই এলাকার সকল মুসলিম গুনাহগার হবে। 

আল্লাহ তওফিক দান করুন। আমিন।

-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি

বিষয় : জানাজার সালাতের বিধান

আপনার মতামত লিখুন

আভাস মাল্টিমিডিয়া

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬


জানাজার সালাতের বিধান

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

প্রশ্ন: জানাজার সালাতের বিধান কী? তা কি ফরজ নাকি সুন্নত? একজন সালাফি আলেমের মুখে শুনলাম, জানাজার সালাত সুন্নত। কিন্তু আমরা আগে থেকে যা জানি তা হলো, এটি ফরজে কেফায়াহ। কোনটি সঠিক দয়া করে জানাবেন।

উত্তর:
ইসলামি ফিকহের আলোকে জানাজার সালাত  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'ফরজে কিফায়াহ' (সামষ্টিক ফরজ ইবাদত)। অর্থাৎ এটি মুসলিম সমাজের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক দায়িত্ব। যদি সমাজের কিছু মানুষ এটি আদায় করে তবে বাকিরা দায়মুক্ত হবে। কিন্তু সবাই যদি এটি পরিত্যাগ করে তবে পুরো সমাজ গুনাহগার হবে।

সুতরাং এটিকে সুন্নত বলা সঠিক নয়।


হাদিসে এসেছে,

عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: ((أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِجِنَازَةٍ لِيُصَلِّيَ عَلَيْهَا، فَقَالَ: هَلْ عَلَيْهِ مِنْ دَيْنٍ؟ قَالُوا: لَا، فَصَلَّى عَلَيْهِ، ثُمَّ أُتِيَ بِجِنَازَةٍ أُخْرَى، فَقَالَ: هَلْ عَلَيْهِ مِنْ دَيْنٍ؟ قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: فَصَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ. قَالَ أَبُو قَتَادَةَ: عَلَيَّ دَيْنُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَصَلَّى عَلَيْهِ)).

সালামা ইবনে আকওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত: নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে একটি জানাজা আনা হলো যাতে তিনি সালাত পড়বেন। 

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তার কি কোনও ঋণ আছে?" 

সাহাবিগণ বললেন, "না।" 

তখন তিনি তার জানাজা পড়লেন। 

এরপর অন্য একটি জানাজা আনা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তার কি কোনও ঋণ আছে?"

সাহাবিগণ বললেন, "হ্যাঁ।" 

তিনি বললেন, "তোমরা তোমাদের সাথীর জানাজা পড়ো। (অর্থাৎ তিনি নিজে তার জানাজা পড়তে অস্বীকৃতি জানালেন)।

তখন আবু কাতাদা (রা.) বললেন, "হে আল্লাহর রসুল! তার ঋণের দায়ভার আমার ওপর রইল।" এরপর তিনি তার জানাজা পড়লেন।

[সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ২২৯৫]

এখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ—صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ বা "তোমরা তোমাদের সাথীর জানাজা পড়ো"—এটি একটি আদেশসূচক বাক্য, যা ওয়াজিব বা ফরজের দাবি রাখে। [দ্রষ্টব্য: ইমাম নওয়াবি (রহ.)-এর 'আল মাজমু', খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ২১২]


হাদিসে আরও এসেছে,

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ((قَدْ تُوُفِّيَ الْيَوْمَ رَجُلٌ صَالِحٌ مِنَ الْحَبَشِ، فَهَلُمَّ، فَصَلُّوا عَلَيْهِ)).

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আজ হাবাশা (ইথিওপিয়া)-এর এক নেককার ব্যক্তি (বাদশাহ নাজাশি) মৃত্যুবরণ করেছেন। অতএব চলো তার জানাজার সালাতে যাই। অতঃপর তারা তার জানাজার সালাত পড়লো।

[বুখারি, হাদিস নম্বর: ১৩২০; সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৯৫২]

কোন মুসলিম মৃত্যু বরণ করলে জীবিত মানুষদের উপর আবশ্যক হল, তার গোসল, কাফন, জানাজা এবং দাফন কার্য সম্পন্ন করা। অর্থাৎ এগুলো ফরজে কেফায়াহ। কিছু সংখ্যক মুসলিম এটি সম্পন্ন করলে সকলের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। 


জানাজার সালাত মুসলিমদের পারস্পারিক অধিকারের মধ্যে একটি এবং তা অনেক সওয়াবের কাজ। যেমন: আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত, রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:

 « مَنْ شَهِدَ الْجَنَازَةَ حَتَّى يُصَلِّىَ عَلَيْهَا فَلَهُ قِيرَاطٌ ، وَمَنْ شَهِدَ حَتَّى تُدْفَنَ كَانَ لَهُ قِيرَاطَانِ » . قِيلَ وَمَا الْقِيرَاطَانِ قَالَ « مِثْلُ الْجَبَلَيْنِ الْعَظِيمَيْنِ »

“যে ব্যক্তি জানাজার নামাজে উপস্থিত হবে তার জন্য রয়েছে এক কিরাত সমপরিমাণ সওয়াব আর যে দাফনেও উপস্থিত হবে তার জন্য দু কিরাত সমপরিমাণ সওয়াব। জিজ্ঞাসা করা হল, কিরাত কী? তিনি বললেন: দুটি বড় বড় পাহাড় সমপরিমাণ। “[বুখারি ও মুসলিম]


আলেমদের বক্তব্য ও ফতোয়া

শাইখ বিন বায (রহ.) বলেন,

صَلَاةُ الْجِنَازَةِ مَشْرُوعَةٌ لِلْجَمِيعِ، لِلرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ، وَهِيَ فَرْضُ كِفَايَةٍ، إِذَا قَامَ بِهَا وَاحِدٌ كَفَى وَأَجْزَأَتْ

"জানাজার সালাত নারী ও পুরুষ সবার জন্যই শরিয়তসম্মত এবং এটি 'ফরজে কিফায়াহ'। যদি একজন ব্যক্তিও তা আদায় করে তবেই তা যথেষ্ট হবে।"


ইসলাম ওয়েবে বলা হয়েছে,

فَصَلَاةُ الْجِنَازَةِ فَرْضٌ عَلَى الْكِفَايَةِ عِنْدَ جُمْهُورِ الْعُلَمَاءِ مِنَ الْحَنَفِيَّةِ وَالشَّافِعِيَّةِ وَالْحَنَابِلَةِ، وَاخْتُلِفَ فِيهَا قَوْلُ الْمَالِكِيَّةِ، وَالْمَشْهُورُ عِنْدَهُمْ كَمَذْهَبِ الْجُمْهُورِ. وَفَرْضُ الْكِفَايَةِ كَمَا قَالَ عَنْهُ صَاحِبُ الْمُوَافَقَاتِ: مُتَوَجِّهٌ عَلَى الْجَمِيعِ، لَكِنْ إِذَا قَامَ بِهِ بَعْضُهُمْ سَقَطَ عَنِ الْبَاقِينَ. ا.هـ

"হানাফি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবের অধিকাংশ আলেমের মতে জানাজার সালাত 'ফরজে কিফায়াহ'। মালিকি মাজহাবে এ নিয়ে ভিন্ন মত থাকলেও তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ মতটি জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতেরই অনুরূপ। 'আল মুয়াফাকাত' কিতাবে বলা হয়েছে, 'এটা এমন একটি দায়িত্ব যা সবার ওপরই বর্তায়। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোক যদি তা পালন করে তবে বাকিদের ওপর থেকে দায়িত্বটি নেমে যায়।'" [ইসলাম ওয়েব, ফতোয়া নম্বর: ১১৩৮৮]


ইমাম ইবনে হাজম, ইমাম নওয়াবি, ইবনুল মুলাক্কিন এবং কামাল ইবনুল হুমাম (রহ.) এ বিষয়ে ইজমা বা সর্বসম্মত মত উল্লেখ করেছেন।

[সূত্র: আদ দুরারুস সানিয়াহ-ওয়েব সাইট]


মোটকথা, জানাজার সালাত 'ফরজে কিফায়াহ'। অর্থাৎ মুসলিমদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক মানুষ যদি জানাজার সালাত আদায় করে নেয় তবে বাকিদের ওপর থেকে দায়িত্বটি নেমে যাবে বা তারা তাদের ওপর আবশ্যকীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবে। কিন্তু শরিয়ত সম্মত কারণ ছাড়া যদি এলাকার সবাই মিলে এটি পরিত্যাগ করে তবে ওই এলাকার সকল মুসলিম গুনাহগার হবে। 

আল্লাহ তওফিক দান করুন। আমিন।

-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি


আভাস মাল্টিমিডিয়া

Fonuder & Director: Kaji Asad Bin Romjan Head Office: The Holy Quran Islamic School Kalitola, Sadar, Dinajpur, Bangladesh. Call: 01710-649751 ই-মেইল: avasmultimedia@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৯-২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আভাস মাল্টিমিডিয়া
জানাজার সালাতের বিধান
0:00 0:00
1.0x
নোটিশ