দিনাজপুর    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
আভাস মাল্টিমিডিয়া

ss
সর্বশেষ
ট্রেন্ডিং
যে আমল না করলে কবরের তিন প্রশ্নের জবাব এর মধ্যে একটি ও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে না! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

যে আমল না করলে কবরের তিন প্রশ্নের জবাব এর মধ্যে একটি ও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে না! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

যে আমল না করলে কবরের তিন প্রশ্নের জবাব এর মধ্যে একটি ও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে না! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” মৃত্যু একটি অনিবার্য বিষয়। এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কারো নেই। সবাইকে এর স্বাদ আস্বাদন করতেই হবে। মৃত্যুর পরবর্তী প্রথম ধাপই হলো কবর। কবর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত জীবনকে বলা হয় ‘আলমে বারযাখ’। বারযাখের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেলে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো হালকা হবে। হযরত উসমান (রা.) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ‘কবর হচ্ছে আখিরাতের প্রথম পর্ব। যে এর আজাব থেকে মুক্তি পাবে, তার জন্য পরবর্তী পর্বগুলো সহজ হয়ে যাবে। আর যে মুক্তি পাবে না, তার জন্য পরবর্তী ধাপগুলো আরো কঠিন হবে। (তিরমিজি : ২৩০৮ )।কবরের হালত : কারো কবর জাহান্নামের একটি গর্ত। কারোটা জান্নাতের একটি বাগিচা। কবরের আজাব কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা প্রমাণিত। দুই পাশের মাটির চাপ, সাপ-বিচ্ছুর দংশন, হাতুড়ি দিয়ে ফেরেশতাদের বিশাল আঘাত ও প্রজ্বলিত অগ্নির মতো ভয়ঙ্কর শাস্তি রয়েছে কবরে। (তিরমিজি : ২৪৬০)। রাসুল (সা.) বলেন, আমি কবরের চেয়ে অধিক ভয়ঙ্কর দৃশ্য আর কখনো দেখিনি। (ইবনে মাজাহ : ৪২৬৭)। বিভীষিকাময় সেই পরিস্থিতি কথায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়। এজন্যই নবীজী (সা.) বলেছেন : তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাও। তোমরা কবরের আজাব থেকে আল্লাহর কাছে মুক্তি কামনা করো। (তিরমিজি : ৩৪০৪)। তবে মুমিন বান্দার জন্য কবর হবে প্রশান্তির বিছানা। জান্নাতের বাগান। এক শান্তিময় ঘুমে কেটে যাবে তার আলমে বারযাখের জীবন। (আহমদ : ১৮৫৩৪)।তোমার রব কে : কবরের প্রথম প্রশ্নটি আপাতদৃষ্টিতে খুবই সহজ মনে হয়। কিন্তু প্রশ্নটি জটিল। অধিকাংশ মানুষ এ ব্যাপারে উদাসীন। দুনিয়াতে আমরা যদি তাওহীদুর রুবুবিয়্যা (প্রতিপালনে একত্ববাদ) স্বীকার না করি তাহলে সেদিন এ প্রশ্নের জবাব দেওয়া সম্ভব হবে না। যারা মানুষকে রবের আসনে বসিয়েছে তারাও এ প্রশ্নের জবাবে বলবে, লা আদরি অর্থাৎ আমি কিছুই জানিনা। মানুষ মানুষকে কিভাবে রব বানায়? আল কুরআনে এসেছে, ‘তারা তাদের ধর্মীয় গুরু ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে রব হিসেবে গ্রহণ করেছে।’ (সূরা তাওবা:৩১)। এ আয়াত শুনে হযরত আদি ইবনে হাতেম তাঈ (রা.) নবীজী (স.)কে বললেন। ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.), ইয়াহুদী-খ্রিস্টানরা তো তাদের ধর্মীয় গুরু ও নেতাদের রব বলে স্বীকার করত না। নবী (স.) বললেন, ওরা যা হালাল সাব্যস্ত করত, তা কি হালাল হিসেবে মেনে নিত না? যা হারাম করত, তা কি হারাম মানত না? অথচ তারা আল্লাহর কিতাবের প্রতি লক্ষ্য করত না। হযরত আদি বললেন, জ্বী, ইয়া রাসুলুল্লাহ। নবীজী (স.) বললেন, এটাই হচ্ছে তাদের ইবাদত, এটাই তাদেরকে রব হিসেবে মেনে নেওয়া। (তাফসিরে ইবনে কাছির : ৪/১১৯)।তোমার দ্বীন তথা জীবনব্যবস্থা কি : কবরের দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব তো সবারই জানা। কিন্তু এর বাস্তবতা অতোটা সহজ নয়। তারাই এর জবাব দিতে পারবে যারা পরিপূর্ণভাবে ইসলামকে আঁকড়ে ধরেছে। আর যারা দুনিয়াতে ইসলামকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেনি তারা বলবে, লা আদরি অর্থাৎ আমি কিছুই জানি না। আমরা তো সবাই নামধারী মুসলিম। নামেমাত্র ইসলাম পালন করি। কিন্তু বাস্তব জীবনে আমরা ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদের দেওয়া মানবরচিত বিধানকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছি। আল্লাহ তাআলা বলেন, যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতিত অন্য কিছুকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করবে, তা কখনো কবুল করা হবে না, বরং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সুরা আলে ইমরান : ৮৫)। আল্লাহর নিকট মনোনীত জীবনব্যবস্থা শুধু ইসলাম। (সুরা আলে ইমরান : ১৯) আমরা কি পারব উক্ত প্রশ্নের জবাবে উত্তীর্ণ হতে? আজ দুনিয়াতে ইসলামী জীবনব্যবস্থা উপেক্ষা করে চললে সেদিন এ কথা জবান দিয়ে বের হবে না, ‘দীনীআল ইসলাম’ অর্থাৎ, আমার জীবনব্যবস্থা ইসলাম।তোমার নবী কে : কবরের সর্বশেষ প্রশ্নে আমরা কি কামিয়াব হতে পারব? দুজন ফেরেশতা এসে জিজ্ঞেস করবে, তোমার নবী কে, আদর্শপুরুষ কে ছিল, তুমি কার সুন্নত তথা রীতিনীতির অনুসরণ করতে? যারা গায়ক-গায়িকা, নায়ক-নায়িকা ও খেলোয়াড়দের আদর্শ অনুসরণ করছে তারাও এ প্রশ্নের জবাবে বলবে, ‘লা আদরি’। যারা নবীজীর সুন্নাহ বাদ দিয়ে বিধর্মীদের লাইফস্টাইল গ্রহণ করছে তারাও এ পর্বে অনুত্তীর্ণ হবে। কেবল যারা রাসুল (সা.) এর শানে রিসালাত, সীরাত ও সুন্নাহ গ্রহণ করেছে এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করেছে, তারাই এ প্রশ্নের জবাব দানে সক্ষম হবে।মুমীনের করনীয় : কবরের তিন প্রশ্নের জবাব আরবীতে মুখস্থ করে নিলেই যথেষ্ট নয়। যারা এ তিন প্রশ্নের বিষয়বস্তুর উপর দুনিয়াতে আমল করেছে তাদের জবান থেকে আল্লাহ তাআলাই উত্তর বের করে দিবেন। প্রশ্নোত্তর জানারও প্রয়োজন নেই। আর যারা আল্লাহকে এক রব বলে স্বীকার করেনি, ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে মেনে নেয়নি এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নবী হিসেবে গ্রহণ করেনি, তাদের জবান থেকে সেদিন একটি বাক্যই উচ্চারিত হবে, ‘লা আদরি’ অর্থাৎ আমি কিছুই জানি না। (মুসতাদরেকে হাকেম : ১০৭)।সুতরাং কবরের ফেতনা থেকে বাঁচতে একজন প্রকৃত মুসলমান এক আল্লাহকেই রবের আসনে অধিষ্ঠিত করবে। তার সাথে কাউকে শরীক করবে না। জীবনের সর্বক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম অনুসরণ করবে। নবী মুহাম্মদ (সা.) কে নবী হিসেবে গ্রহণ করবে। তবেই সে অনাবিল সুখের জান্নাতে যেতে পারবে।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা যেন আমাদেরকে উপরোক্ত আলোচনা গুলোর প্রতি গুরুত্ব সহকারে বুঝার ও আমল করার তাওফিক দান করেন আমীন।
২৮ জুন ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

স্বামী তার স্ত্রীর যোনি এবং স্ত্রী তার স্বামীর পুরুষাঙ্গ চুষতে পারবে কি?

স্বামী তার স্ত্রীর যোনি এবং স্ত্রী তার স্বামীর পুরুষাঙ্গ চুষতে পারবে কি?

কাবা ঘরে স্থাপিত হাজারে আসওয়াদ (কালো পাথর) সম্পর্কে জরুরি কিছু জ্ঞাতব্য

কাবা ঘরে স্থাপিত হাজারে আসওয়াদ (কালো পাথর) সম্পর্কে জরুরি কিছু জ্ঞাতব্য

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মা-হুয়া আহলুহ” হাদিসটি সহিহ সূত্রে প্রমাণিত নয়

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মা-হুয়া আহলুহ” হাদিসটি সহিহ সূত্রে প্রমাণিত নয়

জাতীয় ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় দিনাজপুরের খায়রুল ইসলামের কৃতিত্ব

জাতীয় ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় দিনাজপুরের খায়রুল ইসলামের কৃতিত্ব

যাদের হৃদয়ে আছে আল্লাহর ভয় লিরিক্স

যাদের হৃদয়ে আছে আল্লাহর ভয় লিরিক্স

২০২৬ সালে মুহাররমের সিয়াম কত তারিখে রাখব?

২০২৬ সালে মুহাররমের সিয়াম কত তারিখে রাখব?

পবিত্র আশুরার রোজা রাখার ফজিলত। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

পবিত্র আশুরার রোজা রাখার ফজিলত। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

মনে কি পড়ে সেই দিন তোমার লিরিক্স

মনে কি পড়ে সেই দিন তোমার লিরিক্স

এই ফেতনার যুগে ঈমান রক্ষার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায়! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

এই ফেতনার যুগে ঈমান রক্ষার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায়! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

এখনো যারা, পায়নি দাওয়াত রিলিক্স

এখনো যারা, পায়নি দাওয়াত রিলিক্স

যে আমল না করলে কবরের তিন প্রশ্নের জবাব এর মধ্যে একটি ও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে না! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

যে আমল না করলে কবরের তিন প্রশ্নের জবাব এর মধ্যে একটি ও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে না! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

ইসলাম ও রাষ্ট্রভূমি রক্ষায় হযরত হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর ভূমিকা এবং আমাদের করণীয় -কাজী আসাদ বিন রমজান

ইসলাম ও রাষ্ট্রভূমি রক্ষায় হযরত হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর ভূমিকা এবং আমাদের করণীয় -কাজী আসাদ বিন রমজান

ইসলাম ও রাষ্ট্রভূমি রক্ষায় হযরত হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর ভূমিকা এবং আমাদের করণীয়

ইসলাম ও রাষ্ট্রভূমি রক্ষায় হযরত হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর ভূমিকা এবং আমাদের করণীয়

পবিত্র আশুরার রোজা রাখার ফজিলত। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

পবিত্র আশুরার রোজা রাখার ফজিলত। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

ইলম উদ্দিন কে ছিলেন ? ইতিহাস থেকে জানুন

ইলম উদ্দিন কে ছিলেন ? ইতিহাস থেকে জানুন

এই ফেতনার যুগে ঈমান রক্ষার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায়! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

এই ফেতনার যুগে ঈমান রক্ষার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায়! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

২০২৬ সালে মুহাররমের সিয়াম কত তারিখে রাখব?

২০২৬ সালে মুহাররমের সিয়াম কত তারিখে রাখব?

কেউ যদি মানুষের হক নষ্ট করে থাকে তাহলে এটার সমাধানের আগ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে ওই অপরাধের তওবা কবুল হবে না?

কেউ যদি মানুষের হক নষ্ট করে থাকে তাহলে এটার সমাধানের আগ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে ওই অপরাধের তওবা কবুল হবে না?

দুনিয়ার সব কষ্ট নিমেষেই ভুলে যাবেন: কুরআনে বর্ণিত জান্নাতের ১০টি রহস্য।

দুনিয়ার সব কষ্ট নিমেষেই ভুলে যাবেন: কুরআনে বর্ণিত জান্নাতের ১০টি রহস্য।

জেনে নিন: ‘মাকামে ইবরাহীম’ সম্পর্কে জরুরি ১০টি তথ্য

জেনে নিন: ‘মাকামে ইবরাহীম’ সম্পর্কে জরুরি ১০টি তথ্য



ইলম উদ্দিন কে ছিলেন ? ইতিহাস থেকে জানুন

বিশ্বের ইসলাম অনুসারি ভাইদের বলছি ।  নিচের ছবিটা আগে ভালকরে দেখে আসুন ! এবার বলুন ,ছবির এই মানুষটিকে কি চেনেন ? হয়ত ৯৫ ভাগ বঙ্গীয় মুসলমান বলবেন , কে ইনি ? কোনদিন দেখেছি বলে তো মনে হয়না ! এটাই বর্তমান বাস্তব !কোনদিন কি শুনেছেন  অবিভক্ত ভারতে১৯২৪ সালে উর্দু ভাষায় একটা বই প্রকাশিত হয়েছিল যে বইটিতে (পণ্ডিত চামুপতি বা অন্য কোনো ছদ্মনামী লেখকের লেখা) যেটাতে নবী কুলের শ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যক্তিগত জীবন ও বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে চরম আপত্তিকর ও ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হয়। বইটা প্রকাশের পর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে হিন্দু (বিশেষ করে আর্য সমাজ) এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ে। বেশকিছু মুসলমান মারা যায় ।মুসলমানরা বইটির বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে ,বইটির প্রকাশনার কঠোর প্রতিবাদ জানায়, এবং প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার দাবী জানায় । প্রতিবাদ আন্দোলনে ইংরেজ সরকার কর্ণপাত না করায় মূসলমানরা বইটির প্রকাশকের বিরুদ্ধে তৎকালীন ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ১৫৩-এ ধারায় (ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ছড়ানো) মামলা করে ।প্রথমে আদালত প্রকাশককে সাজা দিলেও, পরবর্তীতে ১৯২৭ সালের জুনে লাহোর হাইকোর্ট রায় দেয় যে, তৎকালীন আইন অনুযায়ী অন্য ধর্মের নেতাদের সমালোচনা করা বা উপহাস করা অপরাধের আওতায় পড়ে না। লাহোর হাইকোর্টের এই রায়ে  বইটির প্রকাশক ও বিক্রেতা মহাশয় রাজপাল (Mahashay Rajpal) বেকসুর খালাস পেয়ে যায়! হাইকোর্টের এই রায় ভারতের মুসলমানদের আরো বিক্ষুব্ধ করে তোলে। এই ঘটনার  জের ধরে ১৯২৯ সালের ৬ এপ্রিল ইলম উদ্দিন নামে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ মুসলিম কাঠমিস্ত্রি  রসুল সাঃ এর এ হেন অপমান সহ‍্য করতে না পেরে ,আসামী রাজপালকে মৃত‍্যুদন্ড দেয়ার আইন নিজহাতে তুলে নেন।ইলম উদ্দিন রাজপালকে  হত্যার সংকল্প করে ।তিনি বাজার থেকে এক রুপি দিয়ে একটি ছুরি কিনেন। ছুরিটি প্যান্টের ভেতর নিয়ে তিনি রাজপালের দোকানে গিয়ে তাকে হ*ত্যা করেন। নিচের ছবিটি সেই বীর মুজাহিদ ইলমউদ্দিনের !ইলম উদ্দিন কে ছিলেন ?ইলম উদ্দিন ছিলেন অবিভক্ত ভারতের ১৯বছর বয়সী এক তরুন মুসলিম। তার পিতাও ছিলেন একজন ছুতার মিস্ত্রী  ।রাজপাল গত‍্যার দায়ে পুলিশ ইলমউদ্দিনকে গ্রেফতার করে । ইলম উদ্দিনের আইনজীবী তাকে বলেছিলো যে, "তুমি বল যে তোমার মানসিক অবস্থা ভাল ছিল না। তুমি অবচেতন মনে হ*ত্যা করেছো। তাহলে হয়তো তোমাকে ফাঁসি থেকে বাঁচানো যাবে"। ইলম উদ্দিন এভাবে বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছিলেন, " আমি আমার কাজের জন্য গর্বিত"। দন্ডবিধি অনুসারে তাকে মৃ*ত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয়।১৯২৯ সালের ৩১ অক্টোবর ইলম উদ্দিনের ফাঁ*সি হয়, এবং তাঁর  লাশ জানাজা ছাড়াই কারাগারে দাফন করা হয়। এ ব‍্যাপারে ড. আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল, মিয়া আমিরুদ্দিন এবং আবদুল আজিজের মতো মুসলিম নেতাদের হস্তক্ষেপে লাশ কবর থেকে তোলা  হয়। ইলম উদ্দিনের পিতা আল্লামা ইকবালকে জানাজায় ইমামতির জন্য অনুরোধ করেন। আল্লামা ইকবাল উত্তর দেন এই বলে, “এই মহান যোদ্ধার জানাজা পড়ানোর তুলনায় আমি একজন পাপী ব্যক্তি”। তিনি লাহোরের হিযবুল আহনাফের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ দিদার আলি শাহকে জানাজা পড়ানোর প্রস্তাব করেন।ইলম উদ্দিনের জানাজায় প্রায় ২ লাখেরও বেশী মানুষ উপস্থিত হয়েছিলো।মাওলানা জাফর আলী খান লাশের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, "হায়! আমি যদি তার মতো উচ্চ মর্যাদা অর্জন করতে পারতাম!" আল্লামা ইকবাল ইলম উদ্দিনের লাশ কবরে রাখতে রাখতে বলেন, ''এই নিরক্ষর যুবক ছেলেটি আমাদের শিক্ষিতদের চেয়েও এগিয়ে গিয়েছে।'' তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য মিয়ানওয়ালি কারাগারে গাজি ইলমুদ্দিন শহীদ মসজিদ নামে একটি মসজিদ তৈরী করা হয়।!'রঙ্গীলা রসূল' কেন্দ্রিক ইলম উদ্দিনের আত্মত‍্যাগ সংক্রান্ত পুরো ঘটনা ও রায় ব্রিটিশ সরকারকে আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করতে বাধ‍্য করে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে দাঙ্গা বা ঘৃণা ছড়ানো রোধ করতে ইন্ডিয়ান পিনাল কোডে (IPC) নতুন ধারা ২৯৫-এ (295A) যুক্ত করা হয়। ১৯২৭ সালে দণ্ডবিধিতে ২৯৫-ক (295A) নামক নতুন ধারাটি যুক্ত হয় যার মাধ্যমে ধর্ম অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আইন হয়।আল্লাহ তে যার পূর্ণ ঈমান তেমন মানুষ ছিল বলে ১৯৪৭ সালে অবিভক্ত ভারতের ২৯ কোটি অমুসলিম (হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ইত্যাদি) প্রবল প্রতিরোধ সত্বেও মাত্র ১০ কোটি মুসলমান স্বাধীন মুসলিম ল‍্যান্ড পাকিস্তান অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন।বর্তমানে ,ভারতে ২৩ কোটি মুসলমান , পাকিস্তানে ২৩ কোটি , আফগানিস্তানে ৪ কোটি বাংলাদেশে ১৬ কোটি । উপমহাদেশে  মোট ৬৬ কোটি মুসলমানের অধিবাস ।অপর পক্ষে ভরতীয় হিন্দু র সংখ‍্যা হবে ১১০ কোটির মত যার মধ্যে কট্টর হিন্দুর সংখ‍্যা হবে মাত্র ৫ থেকে ৬ কোটি হতে পারে । দুঃখের বিষয় এই ৬ কোটি হিন্দুত্ব বাদি আজ উপমহাদেশের ৬৬ কোটি মুসলমানকে আঙুলের ডগায় তুলে নাচাচ্ছে  ।বর্তমান ভারতের অভ‍্যন্তরেই ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলমানদের ওপর সহিংসতা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য (হেট স্পিচ) , অ‍্ত‍্যচার নির্যাতন‍ এবং অধিকার হ্রাসের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, ভারতীয় নেতাদের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এখন আর কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ নয়, বরং তা রাস্তায় জনগণকে সংগঠিত করার এক নিবিড় দৈনন্দিন শিল্পে রূপান্তরিত হয়েছে।শুধু কি হেট স্পীচ! ভারত মুসলমান শুন‍্য করার জন‍্য যত রকম আইন করা দরকার দেশের সরকার তা করে ছলেছে সিএএ (CAA) ও এনআরসি (NRC): নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (NRC) মতো পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে ভারতীয় মুসলিমদের নাগরিকত্ব নিয়ে একধরনের আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি করা হয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: উত্তরপ্রদেশসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে কঠোর ধর্মান্তর-বিরোধী আইন পাস করা হয়েছে। অনেক সময় এই আইনগুলোর অপব্যবহার করে মুসলিমদের নামাজ পড়া বা ব্যক্তিগত ধর্মীয় আচার পালনেও বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বুলডোজার সংস্কৃতি ও উচ্ছেদ অভিযান:আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই অপরাধের অভিযোগ তুলে মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ,মসজিদ মাদ্রাসা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার (Punitive Demolitions) প্রবণতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এছাড়া আসামের মতো রাজ্যগুলোতে উচ্ছেদ অভিযানের নামে হাজার হাজার বাঙালি মুসলিমকে নির্যাতন করে বাস্তুচুত করে ক‍্যাম্পে রাখা হয়েছে। সহিংসতা ও 'গো-রক্ষা'র নামে হামলা:উগ্র হিন্দুত্ববাদী ‘গো-রক্ষক’ দলগুলো গরু জবাইয়ের গুজবে বা গরুর মাংস বহনের অভিযোগে মুসলিমদের পিটিয়ে হত্যা (Lynching) ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করছে।হিজাব বিতর্ক এবং বিভিন্ন উৎসবে মুসলিম ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক বয়কটের ডাক ও দোকানপাটে হামলার মতো ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। অনলাইন ও সাইবার হয়রানি:মুসলিম নারীদের নিশানা করে ‘বুল্লি বাই’ (Bulli Bai) বা ‘সুল্লি ডিলস’ (Sulli Deals)-এর মতো অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের ছবি বিকৃত করে ভুয়া নিলামে তোলা হয়েছিল। এসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল সোচ্চার মুসলিম নারী কণ্ঠ ও অধিকারকর্মীদের ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করে দেওয়া। হিন্দুত্ববাদী ভারত সংযুক্ত পাকিস্তানক দ্বিখন্ডিত করে বাংলাদেশ কে Colonial Country এবং ৯১% মুসলমানদের সংগে কলোনীবাসীর মত ব‍্যবহার করছে ।পাকিস্তানহিন্দুত্ববাদী ভারত তো পাকিস্তানের জন্ম শত্রু !আজও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক চরম শত্রুতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রণরেখা (Line of Control) বরাবর ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্থগিত এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত হয়ে পড়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্পষ্ট। ভারতের জঙ্গি হামলায় প্রতি বৎসর শতশত পাকিস্তানি মুসলমানের জান মাল ধংস হচ্ছে, ভারতে আগ্রাসী শক্তি থেকে বাঁচার জন‍্য পাকিস্তানী জণগন পেটে পাথর বেঁধে দেশকে পরমানু শক্তিতে রূপান্তরিত করেছে ।আফগানিস্তান বর্তমান আফগানিস্তানকে ছলনার জালে বেঁধে ভারত নিজেদের proxy হিসাবে কাজে লাগাচ্ছে !অর্থাৎ উপমহাদেশের ৬৬ কোটি মুসলমানের জন‍্য হিন্দুত্ববাদী ভারত কোন না কোন ভাবে অশান্তির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে  তারপরও  ৬৬ কোটি মুসলমানের ১২৩ কোটি হাত এক হয়ে ভারতের গলাটিপে ধরতে পারছেনা । অথচ আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিচ্ছেন—“হে মুমিনগণ! তোমরা আমার শত্রু এবং তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তো তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তারা তোমাদের কাছে আগত সত্যকে অস্বীকার করেছে। তারা রাসূলকে এবং তোমাদেরকে এই অপরাধে বহিষ্কার করেছিল যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিলে। যদি তোমরা আমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এবং আমার পথে জিহাদ করতে বের হয়ে থাকো, (তবে তাদের সাথে বন্ধুত্ব কোরো না)। তোমরা গোপনে তাদের কাছে বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তোমরা যা গোপন করো ও প্রকাশ করো, তা আমি ভালোভাবে জানি। তোমাদের মধ্যে যে কেউ এমনটা করবে, সে অবশ্যই সরল পথ থেকে বিচ্যুত হবে।" (সুরা আল-মুমতাহিনা, ৬০:১) ইলমউদ্দিন ছিলেন আল্লাহর সেই সরল পথের একনিষ্ঠ পথিক , তিনি প্রান তুচ্ছ করেছিলেন কিন্তু পথ বিচ‍্যুত হননি । মুসলমানদের অধঃপতনের একমাত্র কারন তাদের হৃদয়ে কোরানের আলো নিভে গেছে ।

ইলম উদ্দিন কে ছিলেন ? ইতিহাস থেকে জানুন
১৭ মে ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
আপনি কি শিশু রামিসা সহ সকল শিশুদের হত্যার বিচার চান?

আপনি কি শিশু রামিসা সহ সকল শিশুদের হত্যার বিচার চান?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন