দিনাজপুর    শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
আভাস মাল্টিমিডিয়া

ss
সর্বশেষ
ট্রেন্ডিং
পবিত্র আশুরার রোজা রাখার ফজিলত। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

পবিত্র আশুরার রোজা রাখার ফজিলত। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ আমি আপনাদের হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই পবিত্র আশুরার রোজা রাখার ফজিলত নিয়ে, সেই সম্পর্কে নিম্নে সংকিপ্ত আকারে আলোচনা তুলে ধরছি, “ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ”ইসলামের প্রাথমিক যুগে আশুরার রোজা ফরজ ছিলো। দ্বিতীয় হিজরি সনে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার বিধান নাজিল হলে আশুরার রোজা ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হয়। আশুরা দিবসে রোজা পালনের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন।আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা। আর ফরজের পরে সর্বাধিক উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ।  (মুসলিম: ১/৩৫৮)রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রোজা নিজে পালন করেছেন। উম্মতকে রাখার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তাই এর পূর্ণ অনুসরণ ও আনুগত্যের মধ্যেই নিহিত রয়েছে উম্মতের কল্যাণ। আবু কাতাদা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-কে আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘এই রোজা বিগত বছরের গুনাহ মুছে দেয়।’ (মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)আরও বর্ণিত আছে,  আশুরা দিনের রোজা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, এর ফলে আগের বছরের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (মুসলিম: ১/৩৫৮) আয়েশা (রা.) বলেন, ‘জাহিলি যুগে কুরাইশরা আশুরার দিনে রোজা পালন করতো। রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও সে কালে রোজা পালন করতেন। মদিনায় এসেও তিনি রোজা পালন করতেন এবং অন্যদেরও নির্দেশ দিলেন। রমজানের রোজার আদেশ নাজিল হলে আশুরা দিবস বর্জন করা হয়। এখন কেউ চাইলে তা পালন করুক, আর চাইলে তা বর্জন করুক।’ (বুখারি: ১/২৬৮)আয়েশা (রা.) আরও বলেন, ‘রাসুল (সা.) বলেন, রমজান মাসের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা আল্লাহর মাস মহররমের আশুরার রোজা।’ (সুনানে কুবরা: ৪২১০) আশুরার রোজা রাখতো অন্যরাও মুসলিম শরিফে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত- ‘মহানবী (সা.) যখন আশুরার দিনে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন, তখন সাহাবিরা অবাক হয়ে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইহুদি-নাসারারা তো এই দিনটিকে বড়দিন মনে করে। (আমরা যদি এই দিনে রোজা রাখি, তাহলে তো তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য হবে। তাদের প্রশ্নের উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন, ‘তারা যেহেতু এদিন একটি রোজা পালন করে) আগামী বছর ইনশাআল্লাহ আমরা এই ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ মিলিয়ে দুই দিন রোজা পালন করবো। (মুসলিম: ১১৩৪) আশুরার দিনে অন্য একটি আমল আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন,  যে ব্যক্তি আশুরার দিনে আপন পরিবার-পরিজনের মধ্যে পর্যাপ্ত খানাপিনার ব্যবস্থা করবে, আল্লাহপাক পুরো বছর তার রিজিকে বরকত দান করবেন। (তাবরানি: ৯৩০৩)উল্লিখিত হাদিস সম্পর্কে আল্লামা ইবনুল জাওযিসহ অনেক মুহাদ্দিস আপত্তিজনক মন্তব্য করলেও বিভিন্ন সাহাবি থেকে ওই হাদিসটি বর্ণিত হওয়ায়। আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতিসহ অনেক মুহাক্কিক আলেম হাদিসটিকে গ্রহণযোগ্য ও আমলযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। (জামিউস সগির-১০১৯) এ মাসে রোজা রাখার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, ‘রমজানের পর আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ।  (মুসলিম: ২/৩৬৮; জামে তিরমিজি: ১/১৫৭) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি, অন্য সময় তা দেখিনি। (বুখারি: ১/২১৮)আলী (রা.)-কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিল, রমজানের পর আর কোন মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোজা রাখার আদেশ করেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট জনৈক সাহাবি করেছিলেন, তখন আমি তার কাছে উপস্থিত ছিলাম। উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন, ‘রমজানের পর যদি তুমি রোজা রাখতে চাও, তবে মহররম মাসে রাখো। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।  (জামে তিরমিজি: ১/১৫৭)আশুরার রোজা সম্পর্কে এক হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা আশুরার রোজা রাখো এবং ইহুদিদের সাদৃশ্য ত্যাগ করো; আশুরার আগে বা পরে আরও একদিন রোজা রাখো।’ (মুসনাদে আহমদ: ১/২৪১) মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে উপরোক্ত বিষয়ের উপর আমল করার তাওফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন।লেখক: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি,প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: সিলেটস্থ দুধরচক ঐক্য সংগঠন সিলেট,ভাইস প্রেসিডেন্ট: জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সিলেট বিভাগ,ভাইস প্রেসিডেন্ট: কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটার্স ওয়ার্ল্ড সিলেট বিভাগ,স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় দৈনিক বিকাল বার্তা ঢাকা।স্পেশাল রিপোর্টার: দৈনিক বিজয়ের কন্ঠ সিলেট।সাধারণ সম্পাদক: ২৪ নং ওয়ার্ড বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ সিলেট মহানগর, সাবেক ইমাম ও খতীব: কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট,সাবেক প্রধান শিক্ষক: তৈয়ব কামাল হযরত শাহজালাল (রহ.) লতিফিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা সিলেট,সাবেক প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল: হযরত শাহ্জালাল (রহ.) ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট,উপদেষ্টা: হাবিবিয়া ওয়েলফেয়ার অরগানাইজেশান জকিগঞ্জ সিলেট।
২৫ জুন ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

স্বামী তার স্ত্রীর যোনি এবং স্ত্রী তার স্বামীর পুরুষাঙ্গ চুষতে পারবে কি?

স্বামী তার স্ত্রীর যোনি এবং স্ত্রী তার স্বামীর পুরুষাঙ্গ চুষতে পারবে কি?

জাতীয় ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় দিনাজপুরের খায়রুল ইসলামের কৃতিত্ব

জাতীয় ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় দিনাজপুরের খায়রুল ইসলামের কৃতিত্ব

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মা-হুয়া আহলুহ” হাদিসটি সহিহ সূত্রে প্রমাণিত নয়

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মা-হুয়া আহলুহ” হাদিসটি সহিহ সূত্রে প্রমাণিত নয়

২০২৬ সালে মুহাররমের সিয়াম কত তারিখে রাখব?

২০২৬ সালে মুহাররমের সিয়াম কত তারিখে রাখব?

যাদের হৃদয়ে আছে আল্লাহর ভয় লিরিক্স

যাদের হৃদয়ে আছে আল্লাহর ভয় লিরিক্স

মনে কি পড়ে সেই দিন তোমার লিরিক্স

মনে কি পড়ে সেই দিন তোমার লিরিক্স

এই ফেতনার যুগে ঈমান রক্ষার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায়! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

এই ফেতনার যুগে ঈমান রক্ষার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায়! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

যদি কথা দাও বন্ধু দ্বীনের পথে দৃঢ় থাকবে লিরিক্স

যদি কথা দাও বন্ধু দ্বীনের পথে দৃঢ় থাকবে লিরিক্স

আমাদের এই কাফেলা ২ লিরিক্স

আমাদের এই কাফেলা ২ লিরিক্স

আশূরা উপলক্ষ্যে শী‘আদের বিকৃত শোকসংস্কৃতি -ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব

আশূরা উপলক্ষ্যে শী‘আদের বিকৃত শোকসংস্কৃতি -ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব

পবিত্র আশুরার রোজা রাখার ফজিলত। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

পবিত্র আশুরার রোজা রাখার ফজিলত। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

ইলম উদ্দিন কে ছিলেন ? ইতিহাস থেকে জানুন

ইলম উদ্দিন কে ছিলেন ? ইতিহাস থেকে জানুন

এই ফেতনার যুগে ঈমান রক্ষার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায়! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

এই ফেতনার যুগে ঈমান রক্ষার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায়! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

২০২৬ সালে মুহাররমের সিয়াম কত তারিখে রাখব?

২০২৬ সালে মুহাররমের সিয়াম কত তারিখে রাখব?

কেউ যদি মানুষের হক নষ্ট করে থাকে তাহলে এটার সমাধানের আগ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে ওই অপরাধের তওবা কবুল হবে না?

কেউ যদি মানুষের হক নষ্ট করে থাকে তাহলে এটার সমাধানের আগ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে ওই অপরাধের তওবা কবুল হবে না?

দুনিয়ার সব কষ্ট নিমেষেই ভুলে যাবেন: কুরআনে বর্ণিত জান্নাতের ১০টি রহস্য।

দুনিয়ার সব কষ্ট নিমেষেই ভুলে যাবেন: কুরআনে বর্ণিত জান্নাতের ১০টি রহস্য।

জেনে নিন: ‘মাকামে ইবরাহীম’ সম্পর্কে জরুরি ১০টি তথ্য

জেনে নিন: ‘মাকামে ইবরাহীম’ সম্পর্কে জরুরি ১০টি তথ্য

ভারত যদি বাংলাদেশের উপরে আক্রমণ করে তাহলে মুসলিমদের কী করনীয়?

ভারত যদি বাংলাদেশের উপরে আক্রমণ করে তাহলে মুসলিমদের কী করনীয়?

জাতীয় ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় দিনাজপুরের খায়রুল ইসলামের কৃতিত্ব

জাতীয় ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় দিনাজপুরের খায়রুল ইসলামের কৃতিত্ব

বিখ্যাত উক্তি যা জীবন বদলাতে পারে -২য় পর্ব

বিখ্যাত উক্তি যা জীবন বদলাতে পারে -২য় পর্ব



ইলম উদ্দিন কে ছিলেন ? ইতিহাস থেকে জানুন

বিশ্বের ইসলাম অনুসারি ভাইদের বলছি ।  নিচের ছবিটা আগে ভালকরে দেখে আসুন ! এবার বলুন ,ছবির এই মানুষটিকে কি চেনেন ? হয়ত ৯৫ ভাগ বঙ্গীয় মুসলমান বলবেন , কে ইনি ? কোনদিন দেখেছি বলে তো মনে হয়না ! এটাই বর্তমান বাস্তব !কোনদিন কি শুনেছেন  অবিভক্ত ভারতে১৯২৪ সালে উর্দু ভাষায় একটা বই প্রকাশিত হয়েছিল যে বইটিতে (পণ্ডিত চামুপতি বা অন্য কোনো ছদ্মনামী লেখকের লেখা) যেটাতে নবী কুলের শ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যক্তিগত জীবন ও বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে চরম আপত্তিকর ও ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হয়। বইটা প্রকাশের পর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে হিন্দু (বিশেষ করে আর্য সমাজ) এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ে। বেশকিছু মুসলমান মারা যায় ।মুসলমানরা বইটির বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে ,বইটির প্রকাশনার কঠোর প্রতিবাদ জানায়, এবং প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার দাবী জানায় । প্রতিবাদ আন্দোলনে ইংরেজ সরকার কর্ণপাত না করায় মূসলমানরা বইটির প্রকাশকের বিরুদ্ধে তৎকালীন ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ১৫৩-এ ধারায় (ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ছড়ানো) মামলা করে ।প্রথমে আদালত প্রকাশককে সাজা দিলেও, পরবর্তীতে ১৯২৭ সালের জুনে লাহোর হাইকোর্ট রায় দেয় যে, তৎকালীন আইন অনুযায়ী অন্য ধর্মের নেতাদের সমালোচনা করা বা উপহাস করা অপরাধের আওতায় পড়ে না। লাহোর হাইকোর্টের এই রায়ে  বইটির প্রকাশক ও বিক্রেতা মহাশয় রাজপাল (Mahashay Rajpal) বেকসুর খালাস পেয়ে যায়! হাইকোর্টের এই রায় ভারতের মুসলমানদের আরো বিক্ষুব্ধ করে তোলে। এই ঘটনার  জের ধরে ১৯২৯ সালের ৬ এপ্রিল ইলম উদ্দিন নামে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ মুসলিম কাঠমিস্ত্রি  রসুল সাঃ এর এ হেন অপমান সহ‍্য করতে না পেরে ,আসামী রাজপালকে মৃত‍্যুদন্ড দেয়ার আইন নিজহাতে তুলে নেন।ইলম উদ্দিন রাজপালকে  হত্যার সংকল্প করে ।তিনি বাজার থেকে এক রুপি দিয়ে একটি ছুরি কিনেন। ছুরিটি প্যান্টের ভেতর নিয়ে তিনি রাজপালের দোকানে গিয়ে তাকে হ*ত্যা করেন। নিচের ছবিটি সেই বীর মুজাহিদ ইলমউদ্দিনের !ইলম উদ্দিন কে ছিলেন ?ইলম উদ্দিন ছিলেন অবিভক্ত ভারতের ১৯বছর বয়সী এক তরুন মুসলিম। তার পিতাও ছিলেন একজন ছুতার মিস্ত্রী  ।রাজপাল গত‍্যার দায়ে পুলিশ ইলমউদ্দিনকে গ্রেফতার করে । ইলম উদ্দিনের আইনজীবী তাকে বলেছিলো যে, "তুমি বল যে তোমার মানসিক অবস্থা ভাল ছিল না। তুমি অবচেতন মনে হ*ত্যা করেছো। তাহলে হয়তো তোমাকে ফাঁসি থেকে বাঁচানো যাবে"। ইলম উদ্দিন এভাবে বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছিলেন, " আমি আমার কাজের জন্য গর্বিত"। দন্ডবিধি অনুসারে তাকে মৃ*ত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয়।১৯২৯ সালের ৩১ অক্টোবর ইলম উদ্দিনের ফাঁ*সি হয়, এবং তাঁর  লাশ জানাজা ছাড়াই কারাগারে দাফন করা হয়। এ ব‍্যাপারে ড. আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল, মিয়া আমিরুদ্দিন এবং আবদুল আজিজের মতো মুসলিম নেতাদের হস্তক্ষেপে লাশ কবর থেকে তোলা  হয়। ইলম উদ্দিনের পিতা আল্লামা ইকবালকে জানাজায় ইমামতির জন্য অনুরোধ করেন। আল্লামা ইকবাল উত্তর দেন এই বলে, “এই মহান যোদ্ধার জানাজা পড়ানোর তুলনায় আমি একজন পাপী ব্যক্তি”। তিনি লাহোরের হিযবুল আহনাফের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ দিদার আলি শাহকে জানাজা পড়ানোর প্রস্তাব করেন।ইলম উদ্দিনের জানাজায় প্রায় ২ লাখেরও বেশী মানুষ উপস্থিত হয়েছিলো।মাওলানা জাফর আলী খান লাশের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, "হায়! আমি যদি তার মতো উচ্চ মর্যাদা অর্জন করতে পারতাম!" আল্লামা ইকবাল ইলম উদ্দিনের লাশ কবরে রাখতে রাখতে বলেন, ''এই নিরক্ষর যুবক ছেলেটি আমাদের শিক্ষিতদের চেয়েও এগিয়ে গিয়েছে।'' তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য মিয়ানওয়ালি কারাগারে গাজি ইলমুদ্দিন শহীদ মসজিদ নামে একটি মসজিদ তৈরী করা হয়।!'রঙ্গীলা রসূল' কেন্দ্রিক ইলম উদ্দিনের আত্মত‍্যাগ সংক্রান্ত পুরো ঘটনা ও রায় ব্রিটিশ সরকারকে আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করতে বাধ‍্য করে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে দাঙ্গা বা ঘৃণা ছড়ানো রোধ করতে ইন্ডিয়ান পিনাল কোডে (IPC) নতুন ধারা ২৯৫-এ (295A) যুক্ত করা হয়। ১৯২৭ সালে দণ্ডবিধিতে ২৯৫-ক (295A) নামক নতুন ধারাটি যুক্ত হয় যার মাধ্যমে ধর্ম অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আইন হয়।আল্লাহ তে যার পূর্ণ ঈমান তেমন মানুষ ছিল বলে ১৯৪৭ সালে অবিভক্ত ভারতের ২৯ কোটি অমুসলিম (হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ইত্যাদি) প্রবল প্রতিরোধ সত্বেও মাত্র ১০ কোটি মুসলমান স্বাধীন মুসলিম ল‍্যান্ড পাকিস্তান অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন।বর্তমানে ,ভারতে ২৩ কোটি মুসলমান , পাকিস্তানে ২৩ কোটি , আফগানিস্তানে ৪ কোটি বাংলাদেশে ১৬ কোটি । উপমহাদেশে  মোট ৬৬ কোটি মুসলমানের অধিবাস ।অপর পক্ষে ভরতীয় হিন্দু র সংখ‍্যা হবে ১১০ কোটির মত যার মধ্যে কট্টর হিন্দুর সংখ‍্যা হবে মাত্র ৫ থেকে ৬ কোটি হতে পারে । দুঃখের বিষয় এই ৬ কোটি হিন্দুত্ব বাদি আজ উপমহাদেশের ৬৬ কোটি মুসলমানকে আঙুলের ডগায় তুলে নাচাচ্ছে  ।বর্তমান ভারতের অভ‍্যন্তরেই ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলমানদের ওপর সহিংসতা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য (হেট স্পিচ) , অ‍্ত‍্যচার নির্যাতন‍ এবং অধিকার হ্রাসের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, ভারতীয় নেতাদের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এখন আর কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ নয়, বরং তা রাস্তায় জনগণকে সংগঠিত করার এক নিবিড় দৈনন্দিন শিল্পে রূপান্তরিত হয়েছে।শুধু কি হেট স্পীচ! ভারত মুসলমান শুন‍্য করার জন‍্য যত রকম আইন করা দরকার দেশের সরকার তা করে ছলেছে সিএএ (CAA) ও এনআরসি (NRC): নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (NRC) মতো পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে ভারতীয় মুসলিমদের নাগরিকত্ব নিয়ে একধরনের আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি করা হয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: উত্তরপ্রদেশসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে কঠোর ধর্মান্তর-বিরোধী আইন পাস করা হয়েছে। অনেক সময় এই আইনগুলোর অপব্যবহার করে মুসলিমদের নামাজ পড়া বা ব্যক্তিগত ধর্মীয় আচার পালনেও বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বুলডোজার সংস্কৃতি ও উচ্ছেদ অভিযান:আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই অপরাধের অভিযোগ তুলে মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ,মসজিদ মাদ্রাসা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার (Punitive Demolitions) প্রবণতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এছাড়া আসামের মতো রাজ্যগুলোতে উচ্ছেদ অভিযানের নামে হাজার হাজার বাঙালি মুসলিমকে নির্যাতন করে বাস্তুচুত করে ক‍্যাম্পে রাখা হয়েছে। সহিংসতা ও 'গো-রক্ষা'র নামে হামলা:উগ্র হিন্দুত্ববাদী ‘গো-রক্ষক’ দলগুলো গরু জবাইয়ের গুজবে বা গরুর মাংস বহনের অভিযোগে মুসলিমদের পিটিয়ে হত্যা (Lynching) ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করছে।হিজাব বিতর্ক এবং বিভিন্ন উৎসবে মুসলিম ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক বয়কটের ডাক ও দোকানপাটে হামলার মতো ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। অনলাইন ও সাইবার হয়রানি:মুসলিম নারীদের নিশানা করে ‘বুল্লি বাই’ (Bulli Bai) বা ‘সুল্লি ডিলস’ (Sulli Deals)-এর মতো অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের ছবি বিকৃত করে ভুয়া নিলামে তোলা হয়েছিল। এসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল সোচ্চার মুসলিম নারী কণ্ঠ ও অধিকারকর্মীদের ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করে দেওয়া। হিন্দুত্ববাদী ভারত সংযুক্ত পাকিস্তানক দ্বিখন্ডিত করে বাংলাদেশ কে Colonial Country এবং ৯১% মুসলমানদের সংগে কলোনীবাসীর মত ব‍্যবহার করছে ।পাকিস্তানহিন্দুত্ববাদী ভারত তো পাকিস্তানের জন্ম শত্রু !আজও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক চরম শত্রুতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রণরেখা (Line of Control) বরাবর ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্থগিত এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত হয়ে পড়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্পষ্ট। ভারতের জঙ্গি হামলায় প্রতি বৎসর শতশত পাকিস্তানি মুসলমানের জান মাল ধংস হচ্ছে, ভারতে আগ্রাসী শক্তি থেকে বাঁচার জন‍্য পাকিস্তানী জণগন পেটে পাথর বেঁধে দেশকে পরমানু শক্তিতে রূপান্তরিত করেছে ।আফগানিস্তান বর্তমান আফগানিস্তানকে ছলনার জালে বেঁধে ভারত নিজেদের proxy হিসাবে কাজে লাগাচ্ছে !অর্থাৎ উপমহাদেশের ৬৬ কোটি মুসলমানের জন‍্য হিন্দুত্ববাদী ভারত কোন না কোন ভাবে অশান্তির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে  তারপরও  ৬৬ কোটি মুসলমানের ১২৩ কোটি হাত এক হয়ে ভারতের গলাটিপে ধরতে পারছেনা । অথচ আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিচ্ছেন—“হে মুমিনগণ! তোমরা আমার শত্রু এবং তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তো তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তারা তোমাদের কাছে আগত সত্যকে অস্বীকার করেছে। তারা রাসূলকে এবং তোমাদেরকে এই অপরাধে বহিষ্কার করেছিল যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিলে। যদি তোমরা আমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এবং আমার পথে জিহাদ করতে বের হয়ে থাকো, (তবে তাদের সাথে বন্ধুত্ব কোরো না)। তোমরা গোপনে তাদের কাছে বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তোমরা যা গোপন করো ও প্রকাশ করো, তা আমি ভালোভাবে জানি। তোমাদের মধ্যে যে কেউ এমনটা করবে, সে অবশ্যই সরল পথ থেকে বিচ্যুত হবে।" (সুরা আল-মুমতাহিনা, ৬০:১) ইলমউদ্দিন ছিলেন আল্লাহর সেই সরল পথের একনিষ্ঠ পথিক , তিনি প্রান তুচ্ছ করেছিলেন কিন্তু পথ বিচ‍্যুত হননি । মুসলমানদের অধঃপতনের একমাত্র কারন তাদের হৃদয়ে কোরানের আলো নিভে গেছে ।

ইলম উদ্দিন কে ছিলেন ? ইতিহাস থেকে জানুন
১৭ মে ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
আপনি কি শিশু রামিসা সহ সকল শিশুদের হত্যার বিচার চান?

আপনি কি শিশু রামিসা সহ সকল শিশুদের হত্যার বিচার চান?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন