দিনাজপুর    সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
আভাস মাল্টিমিডিয়া

ss
সর্বশেষ
ট্রেন্ডিং
দুনিয়ার সব কষ্ট নিমেষেই ভুলে যাবেন: কুরআনে বর্ণিত জান্নাতের ১০টি রহস্য।

দুনিয়ার সব কষ্ট নিমেষেই ভুলে যাবেন: কুরআনে বর্ণিত জান্নাতের ১০টি রহস্য।

আপনি কি কখনো এত ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন যে মনে হয়েছে আর পারছেন না? জীবনের কষ্টগুলো যখন একসাথে চাপিয়ে পড়ে তখন মনে হয় এই পথের কি শেষ নেই? কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জান্নাতের এমন কিছু বর্ণনা দিয়েছেন যা শুনলে মনে হয়, এই কষ্টগুলো সহ্য করা যাবে। কারণ শেষে যা অপেক্ষা করছে তা কল্পনারও বাইরে। আসুন কুরআনের আলোয় জান্নাতের সেই রহস্যগুলো একসাথে উন্মোচন করি।বিজ্ঞান কী বলছে?গবেষণা বলছে, ভবিষ্যতের ইতিবাচক প্রত্যাশা মানুষকে বর্তমানের কষ্ট সহ্য করার শক্তি দেয়। যারা একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা রাখেন তারা বর্তমানের যন্ত্রণা অনেক বেশি সহ্য করতে পারেন এবং মানসিকভাবে অনেক বেশি স্থিতিস্থাপক থাকেন। (Seligman, M.E.P., 2011, Flourish, Free Press)আধুনিক মনোবিজ্ঞান বলছে ভবিষ্যতের আশাই বর্তমানের শক্তি। কুরআন চৌদ্দশো বছর আগেই সেই আশার পথ দেখিয়ে রেখেছে।১. জান্নাতে প্রবেশের পর সব দুঃখ চিরতরে দূর হয়ে যাবে।পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ ۖ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورٌ.অর্থ:"আর তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের থেকে সব দুঃখ দূর করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আমাদের রব ক্ষমাশীল, কৃতজ্ঞতা গ্রহণকারী।" (সূরা ফাতির, ৩৫:৩৪)অনুপ্রেরণা:জান্নাতে প্রবেশ করার পর মানুষ প্রথম যে কথা বলবে তা হলো সব দুঃখ দূর হয়ে গেছে। আজকের প্রতিটি কষ্ট, প্রতিটি চোখের পানি, প্রতিটি রাতের অশান্তি সব চিরতরে দূর হয়ে যাবে। শুধু এই একটি কথাই কি কষ্ট সহ্য করার জন্য যথেষ্ট নয়?২. জান্নাতে সেখানে যা চাইবেন তাই পাবেন এবং আরো বেশি পাবেন।পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:لَهُم مَّا يَشَاءُونَ فِيهَا وَلَدَيْنَا مَزِيدٌ.অর্থ:"সেখানে তাদের জন্য যা চাইবে তাই আছে এবং আমার কাছে আরো বেশি আছে।" (সূরা ক্বাফ, ৫০:৩৫)অনুপ্রেরণা:দুনিয়ায় আমরা চাই কিন্তু সবসময় পাই না। কিন্তু জান্নাতে শুধু যা চাইবেন তাই নয়, আল্লাহর কাছে আরো বেশি আছে। দুনিয়ার সব চাওয়া পাওয়ার হিসাব সেদিন মিটে যাবে।৩. জান্নাতবাসীরা পরস্পরের সাথে আনন্দে থাকবেন এবং কোনো ভয় থাকবে না।পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:إِنَّ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ الْيَوْمَ فِي شُغُلٍ فَاكِهُونَ هُمْ وَأَزْوَاجُهُمْ فِي ظِلَالٍ عَلَى الْأَرَائِكِ مُتَّكِئُونَ.অর্থ:"নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীরা সেদিন আনন্দে মগ্ন থাকবে। তারা এবং তাদের সঙ্গীরা ছায়ায় আসনে হেলান দিয়ে থাকবে।" (সূরা ইয়াসিন, ৩৬:৫৫-৫৬)অনুপ্রেরণা:জান্নাতে কোনো একাকীত্ব নেই, কোনো চিন্তা নেই, শুধু আনন্দ। প্রিয়জনদের সাথে ছায়ায় বসে থাকার সেই মুহূর্ত কল্পনা করুন। দুনিয়ার কষ্টের তুলনায় সেটি কতটা সুন্দর হবে।৪. জান্নাতে নদী প্রবাহিত হবে এবং সব ধরনের ফলমূল পাওয়া যাবে।পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ ۖ فِيهَا أَنْهَارٌ مِّن مَّاءٍ غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِّن لَّبَنٍ لَّمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ وَأَنْهَارٌ مِّنْ خَمْرٍ لَّذَّةٍ لِّلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارٌ مِّنْ عَسَلٍ مُّصَفًّى.অর্থ:"মুত্তাকিদের যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তার বর্ণনা হলো এতে রয়েছে নির্মল পানির নদী, অপরিবর্তিত স্বাদের দুধের নদী, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু পানীয়ের নদী এবং পরিশোধিত মধুর নদী।" (সূরা মুহাম্মদ, ৪৭:১৫)অনুপ্রেরণা:পানির নদী, দুধের নদী, মধুর নদী। দুনিয়ায় এই সুন্দর জিনিসগুলো আমরা সামান্য পরিমাণে পাই। কিন্তু জান্নাতে এগুলো নদীর মতো প্রবাহিত হবে। দুনিয়ার কষ্টের বিনিময়ে এই পুরস্কার কি কম?৫. জান্নাতে আল্লাহর দিদার লাভ হবে যা সবচেয়ে বড় নিয়ামত।পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ إِلَىٰ رَبِّهَا نَاظِرَةٌ.অর্থ:"সেদিন কিছু চেহারা উজ্জ্বল হবে। তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে।" (সূরা কিয়ামাহ, ৭৫:২২-২৩)অনুপ্রেরণা:জান্নাতের সবচেয়ে বড় নিয়ামত হলো আল্লাহকে সরাসরি দেখার সুযোগ। দুনিয়ায় আল্লাহকে দেখা যায় না, কিন্তু জান্নাতে সেই মুহূর্ত আসবে। এই একটি নিয়ামতের কথা ভাবলেই দুনিয়ার সব কষ্ট তুচ্ছ মনে হয়।৬. জান্নাতে কোনো মৃত্যু নেই, কোনো বার্ধক্য নেই, চিরকাল তরুণ থাকা যাবে।পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:لَا يَذُوقُونَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلَّا الْمَوْتَةَ الْأُولَىٰ ۖ وَوَقَاهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ.অর্থ:"তারা সেখানে মৃত্যুর স্বাদ পাবে না প্রথম মৃত্যু ছাড়া। আর তিনি তাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করবেন।" (সূরা দুখান, ৪৪:৫৬)অনুপ্রেরণা:দুনিয়ায় মৃত্যু ভয় আমাদের সবসময় তাড়া করে। কিন্তু জান্নাতে একবার প্রবেশ করলে আর মৃত্যু নেই। চিরকাল থাকা যাবে সেই অসাধারণ জায়গায়। এই চিরস্থায়িত্বের কথা ভাবলে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী কষ্ট তুচ্ছ মনে হয়।৭. জান্নাতে সোনার পাত্রে খাবার পরিবেশন করা হবে।পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:يُطَافُ عَلَيْهِم بِصِحَافٍ مِّن ذَهَبٍ وَأَكْوَابٍ ۖ وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ ۖ وَأَنتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ.অর্থ:"তাদের কাছে সোনার থালা ও পেয়ালা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো হবে। সেখানে রয়েছে যা মন চায় এবং চোখ আনন্দিত হয়। আর তোমরা সেখানে চিরকাল থাকবে।" (সূরা যুখরুফ, ৪৩:৭১)অনুপ্রেরণা:দুনিয়ায় আমরা সোনার পাত্রে খাওয়ার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু জান্নাতে এটি বাস্তবতা। শুধু সোনার পাত্র নয়, সেখানে যা মন চাইবে তাই পাওয়া যাবে। দুনিয়ায় অভাবের কষ্ট থাকলেও জান্নাতে সব পূর্ণ হয়ে যাবে।৮. জান্নাতে রেশমের পোশাক পরা হবে এবং সব ধরনের সৌন্দর্য থাকবে।পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا أُولَٰئِكَ لَهُمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٍ وَيَلْبَسُونَ ثِيَابًا خُضْرًا مِّن سُندُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ.অর্থ:"নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার নষ্ট করি না। তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাত যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়। সেখানে তাদের সোনার কাঁকন পরানো হবে এবং তারা সবুজ মিহি ও মোটা রেশমের পোশাক পরবে।" (সূরা কাহফ, ১৮:৩০-৩১)অনুপ্রেরণা:দুনিয়ায় সুন্দর পোশাকের জন্য মানুষ কত পরিশ্রম করে। কিন্তু জান্নাতে সোনার অলংকার এবং রেশমের পোশাক স্বাভাবিক হবে। দুনিয়ার সাধারণ পোশাক পরে সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করুন।৯. জান্নাতে প্রিয়জনদের সাথে চিরস্থায়ী মিলন হবে।পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِم مِّن كُلِّ بَابٍ.অর্থ:"স্থায়ী জান্নাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতামাতা, স্বামী বা স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল তারাও। আর ফেরেশতারা প্রতিটি দরজা দিয়ে তাদের কাছে প্রবেশ করবে।"  (সূরা রাদ, ১৩:২৩)অনুপ্রেরণা:দুনিয়ায় প্রিয়জনদের হারানোর কষ্ট সবচেয়ে কঠিন। কিন্তু জান্নাতে সেই মিলন চিরস্থায়ী। মা-বাবা, সন্তান, জীবনসঙ্গী সবাই একসাথে থাকবেন। এই মিলনের আশাই দুনিয়ার বিচ্ছেদের কষ্ট সহ্য করার শক্তি দেয়।১০. জান্নাতবাসীরা আল্লাহর কাছ থেকে সালাম পাবেন।পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:سَلَامٌ قَوْلًا مِّن رَّبٍّ رَّحِيمٍ.অর্থ:"পরম দয়ালু রবের পক্ষ থেকে সালাম বলা হবে।" (সূরা ইয়াসিন, ৩৬:৫৮)অনুপ্রেরণা:জান্নাতে আল্লাহ নিজে সালাম দেবেন। এই সম্মান কল্পনা করা যায়? পুরো সৃষ্টিজগতের রব তাঁর বান্দাকে সালাম দিচ্ছেন। দুনিয়ার কোনো সম্মানই এর সাথে তুলনীয় নয়।হাদিসে কী আছে?রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "কিয়ামতের দিন জাহান্নামবাসীদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি ভোগবিলাসে দিন কাটিয়েছিল তাকে জাহান্নামে একবার ডুবিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে, হে আদম সন্তান, তুমি কি কোনো আরাম দেখেছ? সে বলবে, না, আল্লাহর কসম। আর জান্নাতবাসীদের মধ্যে যে দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে ছিল তাকে জান্নাতে একবার ডুবিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কি কোনো কষ্ট দেখেছ? সে বলবে, না, আল্লাহর কসম।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮০৭)আপনার জন্য কুরআনের মূল বার্তা:দুনিয়ার সব কষ্ট একদিন শেষ হবে। জান্নাতে একবার প্রবেশ করলে সব দুঃখ ভুলে যাবেন। সেখানে যা চাইবেন তাই পাবেন, প্রিয়জনদের সাথে মিলন হবে, আল্লাহর দিদার লাভ হবে এবং চিরকাল থাকা যাবে। এই জান্নাতের জন্য দুনিয়ার কষ্ট সহ্য করা কি কঠিন? আজই সিদ্ধান্ত নিন, জান্নাতের পথে থাকবেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন। আমিন।
২২ জুন ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

দুনিয়ার সব কষ্ট নিমেষেই ভুলে যাবেন: কুরআনে বর্ণিত জান্নাতের ১০টি রহস্য।

দুনিয়ার সব কষ্ট নিমেষেই ভুলে যাবেন: কুরআনে বর্ণিত জান্নাতের ১০টি রহস্য।

জেনে নিন: ‘মাকামে ইবরাহীম’ সম্পর্কে জরুরি ১০টি তথ্য

জেনে নিন: ‘মাকামে ইবরাহীম’ সম্পর্কে জরুরি ১০টি তথ্য

ভারত যদি বাংলাদেশের উপরে আক্রমণ করে তাহলে মুসলিমদের কী করনীয়?

ভারত যদি বাংলাদেশের উপরে আক্রমণ করে তাহলে মুসলিমদের কী করনীয়?

জাতীয় ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় দিনাজপুরের খায়রুল ইসলামের কৃতিত্ব

জাতীয় ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় দিনাজপুরের খায়রুল ইসলামের কৃতিত্ব

বিখ্যাত উক্তি যা জীবন বদলাতে পারে -২য় পর্ব

বিখ্যাত উক্তি যা জীবন বদলাতে পারে -২য় পর্ব

বাংলার বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের বিখ্যাত উক্তি -১ম পর্ব

বাংলার বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের বিখ্যাত উক্তি -১ম পর্ব

‘ভার্চুয়াল অটিজম’ কী? অতিরিক্ত মোবাইল ফোনের ব্যবহারে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

‘ভার্চুয়াল অটিজম’ কী? অতিরিক্ত মোবাইল ফোনের ব্যবহারে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

প্রতিদিন রাতে এক গ্লাস গরম দুধে এক চামচ মধু, আপনার শরীরে যে পরিবর্তন অবাক করবে

প্রতিদিন রাতে এক গ্লাস গরম দুধে এক চামচ মধু, আপনার শরীরে যে পরিবর্তন অবাক করবে

কাশির সময় বুকে ব্যথা—সাধারণ সমস্যা নাকি বড় বিপদের সংকেত

কাশির সময় বুকে ব্যথা—সাধারণ সমস্যা নাকি বড় বিপদের সংকেত

চ্যাপা শুঁটকির ঝাঁঝালো সবজি ভুনা, তৈরি করবেন যেভাবে

চ্যাপা শুঁটকির ঝাঁঝালো সবজি ভুনা, তৈরি করবেন যেভাবে



হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ডা. হ্যানিম্যান ও তার ইসলাম গ্রহণ

‘আমি বৃথা জীবন ধারণ করিনি, সমস্ত কিছুই প্রমাণ করব, যা ভাল তা শক্ত করে ধরব’। বিশিষ্ট গবেষক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা শাস্ত্রে লেখাপড়া করে ডাক্তার হন এবং অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী রোগীদের সেবা প্রদান করতেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তিনি গবেষণা ও চিকিৎসা বিষয়ক বইয়ের অনুবাদ করেছেন। গবেষণার এক পর্যায়ে তিনি অ্যালোপ্যাথিতে ক্ষতিকর সাইড অ্যাফেক্ট (পার্শপ্রতিক্রিয়া) দেখতে পান। এতে তিনি অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি পরিত্যাগ করেন। সাইড অ্যাফেক্টের কারণ নির্ণয়ের গবেষণার মাধ্যমে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সূত্র আবিষ্কৃত হয়। পেরুভিয়ান কপি বা সিঙ্কোনা গাছের বাকল নিয়ে গবেষণা করতে করতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার উদ্ভব হয়। সুস্থ মানবদেহে ওষুধ প্রয়োগ করে ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ওষুধের গুণাবলী পরীক্ষা করতেন। এ ধরনের গুণাবলী যখন কোন অসুস্থ ব্যক্তির মধ্যে দেখা যেত তখন তিনি তা প্রয়োগ করলে রোগটি সেরে যেত। এটাকে বলে সদৃশ বিধান বা হোমিওপ্যাথি। এভাবেই প্রাকৃতিক নিয়মে ওষুধ পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগ করার চিকিৎসা বিধান প্রতিষ্ঠা করেন বিজ্ঞানী ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে ১৭৯০ সালে মানবদেহে পরীক্ষামূলক পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু হয়। ডা. হ্যানিম্যান নিজের শরীরে প্রথম পরীক্ষা করলেন ‘সিঙ্কোনা’। এক কথায় আমরা বলতে পারি ১৭৯০ সনে হোমিওপ্যাথির যাত্রা। হ্যানিম্যান নিজের শরীরে ৯৯টি ওষুধ প্রয়োগ করেন। পৃথিবীর কনিষ্ঠতম চিকিৎসা পদ্ধতি হ’ল হোমিওপ্যাথি। ওষুধ পরীক্ষার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার নিয়ম-নীতি প্রকাশ করেন ১৮১০ সালে। অর্গানন নামে যার পরিচিতি চিকিৎসক মহলে। তার জীবনের শেষ পর্যায়ে অর্গানন ৬ষ্ঠ সংস্করণ সমাপ্ত করেন। বইটির আধুনিক ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে হ্যানিম্যান ফাউন্ডেশন, আমেরিকা থেকে। হোমিওপ্যাথির জন্ম জার্মানীতে। বিকাশ ফ্রান্সে, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ব্রিটেনে ১৮০৫ সালে। প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘দি প্যারিস কলেজ অব হোমিওপ্যাথি’। ডা. হ্যানিম্যান সম্পর্কে ড. হুদহুদ মোস্তফার গবেষণা থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতায় ভীষণভাবে আক্রান্ত আর সত্য চাপা দিতে অত্যন্ত পারদর্শী পশ্চিমা জগৎ যতদিন সম্ভব সম্রাট নেপোলিয়ান, মার্মাডিউক এবং পিকথল, মরিস বোকাইলি, নীল আর্মস্ট্রংসহ আরো অনেক মনীষীর ইসলাম গ্রহণের সংবাদকে চাপা দিয়ে রেখেছিল। সত্য কোন দিনই হারিয়ে যায় না। কালের প্রবাহে কোন একদিন প্রকাশিত হয়ই। সম্ভবত সবচেয়ে বেশী সময় ধরে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের আবিষ্কৃর্তা ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের ইসলাম গ্রহণের সংবাদটি চাপা পড়ে আছে। ড. হুদহুদ মোস্তফা এক নিবন্ধে লিখেছেন অনেক কথা। ১৯৯৮ সালে লন্ডনে এক সেমিনারে ডা. মোস্তফার সাক্ষাৎ ঘটে এক ইঞ্জিনিয়ারের সাথে। তার নাম উইলিয়াম হ্যানিম্যান। বিজ্ঞানী ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানেরই এক উত্তর-পুরুষ তিনি। বিশ্বাসে ক্যাথলিক খৃষ্টান। কথা প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান গবেষণার এক পর্যায়ে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি আমৃত্যু ইসলামী বিশ্বাসেই প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। যে কারণে তিনি নিজ জন্মভূমি, স্বজাতি, আত্মীয়-পরিজন ত্যাগ করে দ্বিতীয় স্ত্রী মাদাম ম্যালনীকে নিয়ে প্যারিসে হিজরত করতে বাধ্য হয়েছিলেন। মাদাম ম্যালনীও স্বামীর সাথে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। হ্যানিম্যানের অনুসন্ধান স্পৃহা অত্যন্ত প্রবল ছিল। তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্বন্ধে ব্যাপক জ্ঞান আহরণের জন্য বহু ভাষা শিক্ষা লাভ করেন। পুরাকালের বিভিন্ন সভ্যতার যুগে চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা করতে গিয়ে ইসলামের স্বর্ণযুগের আবিষ্কার ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞান লাভের জন্য আরবী ভাষায় দক্ষতা অর্জন, তদুপরি আরব বণিক ও পরিব্রাজকদের কাছ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের ধর্ম, সম্পর্কেও অবগত হন। আরবী ভাষায় দক্ষতার কারণে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনও তিনি অধ্যয়ন করেন। ক্রমে তিনি ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যান। এক শুভক্ষণে তিনি ইসলামের কালেমা পাঠ করে মনে প্রাণে মুসলমান হয়ে যান। এ ঘটনা জানাজানি হয়ে পড়লে হ্যানিম্যানের আত্মীয়-স্বজনরা তার প্রতি বিরূপ হয়ে পড়েন। চির পরিচিত পরিবেশ তার বিরুদ্ধে চলে যায়। শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে সব সহায় সম্পদ উত্তরাধিকারী ও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বিলিবণ্টন করে দিয়ে তিনি ইসলামে নবদীক্ষিত স্ত্রী মাদাম ম্যালানীকে নিয়ে প্যারিসের পথে হিজরত করেন। এ সময়টা ছিল ১৮৩৫ সালের জুন মাস। তারা তাদের জীবদ্দশায় আর কখনও জার্মানীতে ফিরে যাননি। হিজরত নবীদের সুন্নাত। ইসলাম গ্রহণের কারণে জার্মান বিজ্ঞানী হ্যানিম্যানকেও সেই সুন্নাতেরই অনুসরণ করতে হয়। ইঞ্জিনিয়ার উইলিয়াম হ্যানিম্যান আরো কিছু মহামূল্যবান তথ্য দিয়ে সবাইকে চিরকৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করেছেন। প্রথমেই তিনি ডা. মোস্তফাকে বলেছিলেন লন্ডনস্থ হ্যানিম্যান মিউজিয়ামে যেতে। ঠিকানা : হ্যানিম্যান মিউজিয়াম পাউইজ প্যালেস, গ্রেট আরমন্ড স্ট্রিট, লন্ডন, ডব্লিউসি। সেখানে হ্যানিম্যানের ব্যবহৃত বহু জিনিসপত্র আছে। বই-পুস্তকের এক বিরাট সংগ্রহও আছে। এর মধ্যে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন থেকে শুরু করে মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী আবু আলী ইবনে সিনা বিরচিত আল-কানুন ফিত তিবসহ শতাধিক আরবী গ্রন্থ রয়েছে। ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে মসজিদের নকশা করা জায়নামায, মূল্যবান পাথরের তসবীসহ, একটি টার্কিশ টুপি। ব্যবহৃত জায়নামাযে সেজদার চিহ্ন স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। এসব নিদর্শন ড. মোস্তফার মনে গভীর দাগ কাটে। বিজ্ঞানী হ্যানিম্যান সম্পর্কে তিনি লেখাপড়া ও অনুসন্ধান শুরু করেন। তার অনুসন্ধান ও গবেষণার চার বছর চলছে। বক্ষমান প্রবন্ধে তিনি এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যাদি সংক্ষেপে উল্লেখ করার চেষ্টা করেছেন।  এ  পর্যন্ত  তিনি  নিম্নলিখিত  তথ্যগুলো সত্য ও বাস্তবতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন। ১. ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান তার কোন লেখায় খৃষ্টবাদের মূলমন্ত্র ‘তৃতত্ত্ব’ (TRINITY) সম্পর্কে কখনও উল্লেখ করেননি; বরং এক সৃষ্টিকর্তা, God, Creator প্রভৃতি একক অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করেছেন। ২. রিচার্ড হ্যাল কর্তৃক লিখিত হ্যানিম্যানের জীবনী গ্রন্থ Samuel Hahnemann : His Life and work-এর দ্বিতীয় খন্ডের ৩৮৯ পৃষ্ঠায় এক রোগীকে লেখা পত্রে উল্লেখ করেন : We feel then we are resting in the friendship of the only One. Do you desire any other religion? There is none. Everything else is a miserable low human conception full of superstition a true destruction of humanity. তিনি একই পৃষ্ঠায় উল্লিখিত অপর এক পত্রে লিখেছেন : I acknowledge with sincere thankfulness the infinite march of the One-great giver of all good. আবার একই পুস্তকে ৩৮৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে : I shall not become a catholic and I would prefer not even to limit myself in the creed of the protestant but rather to hold with you to deism only a higher sense is rather to hold with you to deism only a higher sense is taught by the Seet to that name, as that is the faith which most nearly satisfies? এ স্বীকৃতি ইসলাম ছাড়া কি হ’তে পারে? ৩. ড. আর ই ডাজেন কর্তৃক সংগৃহীত হ্যানিম্যান লেসার রাইটিংস গ্রন্থের ৫৭১, ৫৭৯ পৃষ্ঠায় আরবী লেখা উদ্ধৃতি দেয়া আছে। যা হ্যানিম্যানের আরবী ভাষায় গভীর পান্ডিত্যের প্রমাণ বহন করে। ৪. হ্যানিম্যানের ইসলাম গ্রহণ এবং জার্মানী ত্যাগের পর তিনি আর কখনও কোথাও তার পিতৃ প্রদত্ত নাম ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেডারিক আদ্য শব্দ দু’টি ব্যবহার করেননি। যে শব্দ দু’টো খৃষ্ট ধর্মাবলম্বী পরিচয় বহন করে। প্যারিসে হিজরতের পর চিঠিপত্রসহ সর্বত্র কেবল ‘স্যামুয়েল হ্যানিম্যান’ লিখতেন। স্যামুয়েল ইসরাইল বংশীয় একজন নবীর নাম, যা একজন মুসলমানের নাম হিসাবেও গ্রহণযোগ্য। একথা তার খৃষ্টান ধর্ম ত্যাগের আর একটি শক্তিশালী প্রমাণ। ৫. ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ম্যাগাজিনে ২৫৪ পৃষ্ঠায় স্পষ্ট ভাষায় বর্ণিত হয়েছে : মাদাম ম্যালানী তার স্বামী হ্যানিম্যানের মৃত্যুপূর্ব অছিয়তের কারণে কোন অুমসলিমকে তার দাফনে অংশগ্রহণ করতে দেননি। তিনি দাফনের দিনক্ষণ সবই গুপ্ত রেখে কোন মুসলমানের সাক্ষাৎ পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছিলেন। হ্যানিম্যানের মৃত্যু ২ জুলাই ১৮৪৩ তারিখে। কোন মুসলমানের সাক্ষাৎ না পেয়ে ম্যালানী নিজে তার সমবিশ্বাসী (নবদীক্ষিত মুসলিম) দৃঢ় প্রত্যয়ী দু’ব্যক্তির সহযোগিতায় মহান চিকিৎসা বিজ্ঞানী হ্যানিম্যানকে মৃত্যুর ৯ দিন পর ১১ জুলাই কবরস্থ করেন। হ্যানিম্যানেরই ইচ্ছা অনুযায়ী প্যারিসের অখ্যাত মাউন্ট মারাট্টির গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এটি খৃষ্টানদের গোরস্থান হ’লেও একটু আলাদা। পূর্বেই উল্লেখ করেছি হ্যানিম্যান তার সমাজের প্রচলিত খৃষ্টান ধর্ম ত্যাগের কারণে জার্মানীতে পরিচিত পরিবেশ তার বিরুদ্ধে চলে যায়। নিরাপত্তা ও শান্তির সন্ধানে তিনি ১৮৩৫ সালের জুন মাসে ৮০ বছর ২ মাস বয়সে তার পৈতৃক দেশ জার্মানী ত্যাগ করেন। আর কখনও তিনি বা তার স্ত্রী ফ্রান্স থেকে জার্মানীতে ফিরে যাননি। এতে প্রমাণিত হয় ইসলাম গ্রহণের ফলে বিজ্ঞানী হ্যানিম্যান ও মাদাম ম্যালানীর জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তা জার্মানিতে কতটুকু বিপন্ন ছিল। সর্বাধুনিক ও অতি উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমা বিশ্ব শুধু কি মুসলমানী গন্ধের কারণেই হোমিওপ্যাথিকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারছেন না? ড. মোস্তফা লিখেছেন বিজ্ঞানী হ্যানিম্যান সাহিত্যের যতদূর গভীরে আমি পৌঁছতে পেরেছি, ততটুকুর মধ্যে কোথাও আমি ইসলামের মহানবী (ছাঃ)-এর নীতি আদর্শের পরিপন্থী কোন কিছুই খুঁজে পাইনি। বরং আমি উপলব্ধি করেছি হ্যানিম্যানের রচনাবলী ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় ইসলামী আদর্শের গভীর ছাপ বিদ্যমান। ইসলাম বলে, ‘নিশ্চয়ই আমার ছালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মৃত্যু আল্লাহ রাববুল আলামীনের জন্য উৎসর্গিত’ (আন‘আম ১৬২)। সেই সুরে সুর মিলিয়ে হ্যানিম্যানও বলে গেছেন, আমি আমার জীবনে কখনও স্বীকৃতি চাইনি, মানব কল্যাণে আমার আবিষ্কৃত সত্যের জন্য আমি স্বার্থপরতামুক্তভাবে যার বিকাশ ঘটিয়েছি সমগ্র বিশ্বের জন্য, যা সর্বোচ্চ সত্তার নিমিত্তে উৎসর্গিত। Life & Work of Hahnemann-By Richard Raehl. হ্যানিম্যানের প্রবাদ তুল্য উক্তি ‘রোগীকে চিকিৎসা কর রোগকে নয়’। [সংকলিত] ডা. এস.এম. আব্দুল আজিজ

হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ডা. হ্যানিম্যান ও তার ইসলাম গ্রহণ
১৭ মে ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
আপনি কি শিশু রামিসা সহ সকল শিশুদের হত্যার বিচার চান?

আপনি কি শিশু রামিসা সহ সকল শিশুদের হত্যার বিচার চান?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন