প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ শায়েখ। বর্তমানে যে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা হচ্ছে, এখন কেউ যদি ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করে তাহলে কি ইমান হারা হয়ে যাবে?
কোনো ফুটবল ম্যাচে মুসলিম দলের বিপক্ষে অমুসলিম দলকে সমর্থন করার বিধান:
প্রশ্ন: ফুটবল ও অন্যান্য ক্রীড়া ক্ষেত্রে অনেক ভক্ত অমুসলিম খেলোয়াড়দের প্রতি এমন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে যে, তাদের অন্ধভাবে ভালোবেসে তাদের পক্ষে অবস্থান নেয়। অথচ এর বিপরীতে, অন্য ক্লাবের মুসলিম খেলোয়াড়দের প্রতি কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সদস্য হওয়ার কারণে ঘৃণা ও শত্রুতা পোষণ করে। এই আচরণের শরঈ হুকুম কী? এটি কি মানুষকে কুফরি বা মুরতাদ হওয়ার দিকে ঠেলে দেয়?
উত্তর:
هَذَا مِنْ أَضْرَارِ التَّعَصُّبِ الرِّيَاضِيِّ الْمَذْمُومِ، فَإِذَا اقْتَرَنَ هَذَا التَّشْجِيعُ بِالْوَلَاءِ وَالْبَرَاءِ، بِحَيْثُ يُحَبُّ الْكَافِرُ وَيُوَالَى، وَيُبْغَضُ الْمُسْلِمُ وَيُعَادَى لِأَجْلِ مُبَارَاةٍ أَوْ نَادٍ، فَهَذَا أَمْرٌ لَا يَجُوزُ شَرْعًا، وَهُوَ مِنَ الِانْحِرَافِ فِي الْمَوَازِينِ.
إِنَّ الْوَلَاءَ وَالْبَرَاءَ لَا يَكُونُ إِلَّا لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ، فَمُوَالَاةُ الْكَافِرِينَ وَمَحَبَّتُهُمْ لِنُصْرَتِهِمْ فِي لُعْبَةٍ، وَمُعَادَاةُ الْمُسْلِمِينَ لِأَنَّهُمْ فِي فَرِيقٍ مُنَافِسٍ، هُوَ مَسْلَكٌ خَطِيرٌ يُرِيدُهُ أَعْدَاءُ الْإِسْلَامِ؛ فَقَدْ أَرَادُوا أَنْ يَغْرِسُوا فِي قُلُوبِ شَبَابِ الْمُسْلِمِينَ مَفَاهِيمَ الْوَلَاءِ وَالْبَرَاءِ لِغَيْرِ اللَّهِ وَلِغَيْرِ الْإِسْلَامِ، لِيَصْرِفُوهُمْ عَمَّا يَنْفَعُهُمْ فِي دِينِهِمْ وَدُنْيَاهُمْ.
“এটি নিন্দনীয় ক্রীড়া-গোঁড়ামির একটি ভয়াবহ পরিণাম। কোনো দল বা খেলোয়াড়কে সমর্থন করা যদি ইমানের মূল ভিত্তি ‘আ -ওয়ালা ওয়া -বারা’ (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা ও তাঁর অসন্তুষ্টির জন্য বিরাগ পোষণ)-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে যায় তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যদি কেবল একটি ম্যাচ বা ক্লাবকে কেন্দ্র করে কোনো অমুসলিমকে ভালোবাসা বা বন্ধুত্ব পোষণ করা হয় আর একই কারণে মুসলিম খেলোয়াড়কে ঘৃণা করা হয় বা তার প্রতি বিদ্বেষ লালন করা হয়—তাহলে তা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনোভাবেই বৈধ নয়; বরং এটি ইমানি মানদণ্ডে এক বড় ধরণের বিচ্যুতি।
স্মরণ রাখা জরুরি, ‘ওয়ালা ও বারা’ বা ভালোবাসা ও ঘৃণা—কেবল আল্লাহর জন্য, তাঁর রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য এবং মুমিনদের জন্যই হওয়া আবশ্যক।
সুতরাং নিছক একটি খেলায় জেতানোর আকাঙ্ক্ষায় কাফেরদের প্রতি ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব পোষণ করা এবং নিছক প্রতিদ্বন্দ্বী দলে থাকার কারণে মুসলিমদের সাথে শত্রুতা রাখা—এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি পথ, যা মূলত ইসলামের শত্রুরাই কামনা করে। তারা চায় মুসলিম তরুণদের হৃদয়ে আল্লাহ ও ইসলাম ছাড়া অন্য কিছুর জন্য ‘ওয়ালা-বারা’র ধারণা প্রোথিত করতে, যেন তারা তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার প্রকৃত কল্যাণ থেকে বিমুখ হয়ে পড়ে।”
ফতওয়া প্রদানে:
-আল্লামা শাইখ সালেহ আল ফাউযান (হাফিযাহুল্লাহ)
প্রধান মুফতি, সৌদি আরব
অনুবাদ: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
আপনার মতামত লিখুন