আভাস মাল্টিমিডিয়া

কষ্টকর কাজের কারণে রোজা ভঙ্গ করা কি জায়েজ?


প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২১ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

কষ্টকর কাজের কারণে রোজা ভঙ্গ করা কি জায়েজ?
কষ্টকর কাজের কারণে রোজা ভঙ্গ করা কি জায়েজ? ▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬ প্রশ্ন: প্রখর রোদে কৃষিকাজ ও রুজি রোজগারের কিছু কাজের জন্য কি কিছু ফরজ রোজা না রাখলে কি গুনাহ হবে? এই বিষয়ে ইসলাম কী বলে? উত্তর: শারীরিকভাবে সক্ষম, সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন ও প্রাপ্ত বয়স্ক লোকদের জন্য রোজা রাখা ফরজ। এটি ইসলামের পাঁচটি খুঁটির মধ্যে ৪র্থতম। সুতরাং মুক্তিকামী ঈমানদারের জন্য আবশ্যক হল, দুনিয়াবি কর্মব্যস্ততা, চাকুরী, কৃষিকাজ, পেশাগত কাজ ইত্যাদিকে রোজা ভঙ্গ করা বা রোজা থেকে দূরে থাকার ওজুহাত হিসেবে দাঁড় না করানো। বরং কষ্ট হলেও ধৈর্যের সাথে রোজা পালন করা। ইসলামের দৃষ্টিতে দুনিয়াবি কাজের ওজুহাতে রোজা না রাখা বা রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ নয়। একজন রোজাদার যদি গরম, রোদ, পরিশ্রম ও কষ্ট-ক্লান্তিতে ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের আশায় রোজা রাখে তাহলে আল্লাহ আখিরাতে এই কষ্টের বিনিময়ে বিশাল পুরস্কার দান করবেন ইনশাআল্লাহ। সাহাবিগণ আরবের উত্তপ্ত মরুভূমিতে কাজ করতেন, জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে অনেক কষ্ট করতেন কিন্তু তারা রোজা ভঙ্গ করতেন না। রমজানে জরুরি কাজ করার প্রয়োজন হলে, তা সকালের দিকে করার চেষ্টা করবে। প্রখর গরম দুপুরে কাজ থেকে বিরত থাকবে। সম্ভব হলে কিছু কাজ রাতে করবে। প্রয়োজনে কিছুটা কাজ কম করবে বা সীমিত উপার্জন করবে কিন্তু তারপরও রোজা ভঙ্গ করবে না। কেউ যদি আল্লাহকে ভয় করে তাহলে তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে তার রিজিকের সুব্যবস্থা করবেন বলে ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَمَن يَتَّقِ اللَّـهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّـهِ فَهُوَ حَسْبُهُ ۚ إِنَّ اللَّـهَ بَالِغُ أَمْرِهِ ۚ قَدْ جَعَلَ اللَّـهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا "আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিষ্কৃতির পথ করে দেন এবং তাকে তার ধারণাতীত ভাবে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।" (সূরা তালাক/২ ও ৩) ❑ সৌদি স্থায়ী ফতোয়া বোর্ডকে প্রশ্ন করা হয় যে, এক ব্যক্তি রুটির দোকানে কাজ করে। সেখানে সে খুবই পানির পিপাসার সম্মুখীন হয় এবং ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কাজের সময় তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ কি? তারা বলেন, لا يجوز لذلك الرجل أن يفطر ، بل الواجب عليه الصيام ، وكونه يخبز في نهار رمضان ليس عذراً للفطر ، وعليه أن يعمل حسب استطاعته "সে লোকের জন্য রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ নাই বরং তার জন্য রোজা রাখা ফরজ। রমজান মাসের দিনের বেলায় রুটি বানানো রোজা ভঙ্গ করার জন্য কোনও ওজর নয়। সে সাধ্য অনুযায়ী কাজ করবে।" [ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১০/২৩৮] আল্লাহু আলাম। ▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬ উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

আভাস মাল্টিমিডিয়া

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


কষ্টকর কাজের কারণে রোজা ভঙ্গ করা কি জায়েজ?

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২১

featured Image
কষ্টকর কাজের কারণে রোজা ভঙ্গ করা কি জায়েজ? ▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬ প্রশ্ন: প্রখর রোদে কৃষিকাজ ও রুজি রোজগারের কিছু কাজের জন্য কি কিছু ফরজ রোজা না রাখলে কি গুনাহ হবে? এই বিষয়ে ইসলাম কী বলে? উত্তর: শারীরিকভাবে সক্ষম, সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন ও প্রাপ্ত বয়স্ক লোকদের জন্য রোজা রাখা ফরজ। এটি ইসলামের পাঁচটি খুঁটির মধ্যে ৪র্থতম। সুতরাং মুক্তিকামী ঈমানদারের জন্য আবশ্যক হল, দুনিয়াবি কর্মব্যস্ততা, চাকুরী, কৃষিকাজ, পেশাগত কাজ ইত্যাদিকে রোজা ভঙ্গ করা বা রোজা থেকে দূরে থাকার ওজুহাত হিসেবে দাঁড় না করানো। বরং কষ্ট হলেও ধৈর্যের সাথে রোজা পালন করা। ইসলামের দৃষ্টিতে দুনিয়াবি কাজের ওজুহাতে রোজা না রাখা বা রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ নয়। একজন রোজাদার যদি গরম, রোদ, পরিশ্রম ও কষ্ট-ক্লান্তিতে ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের আশায় রোজা রাখে তাহলে আল্লাহ আখিরাতে এই কষ্টের বিনিময়ে বিশাল পুরস্কার দান করবেন ইনশাআল্লাহ। সাহাবিগণ আরবের উত্তপ্ত মরুভূমিতে কাজ করতেন, জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে অনেক কষ্ট করতেন কিন্তু তারা রোজা ভঙ্গ করতেন না। রমজানে জরুরি কাজ করার প্রয়োজন হলে, তা সকালের দিকে করার চেষ্টা করবে। প্রখর গরম দুপুরে কাজ থেকে বিরত থাকবে। সম্ভব হলে কিছু কাজ রাতে করবে। প্রয়োজনে কিছুটা কাজ কম করবে বা সীমিত উপার্জন করবে কিন্তু তারপরও রোজা ভঙ্গ করবে না। কেউ যদি আল্লাহকে ভয় করে তাহলে তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে তার রিজিকের সুব্যবস্থা করবেন বলে ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَمَن يَتَّقِ اللَّـهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّـهِ فَهُوَ حَسْبُهُ ۚ إِنَّ اللَّـهَ بَالِغُ أَمْرِهِ ۚ قَدْ جَعَلَ اللَّـهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا "আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিষ্কৃতির পথ করে দেন এবং তাকে তার ধারণাতীত ভাবে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।" (সূরা তালাক/২ ও ৩) ❑ সৌদি স্থায়ী ফতোয়া বোর্ডকে প্রশ্ন করা হয় যে, এক ব্যক্তি রুটির দোকানে কাজ করে। সেখানে সে খুবই পানির পিপাসার সম্মুখীন হয় এবং ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কাজের সময় তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ কি? তারা বলেন, لا يجوز لذلك الرجل أن يفطر ، بل الواجب عليه الصيام ، وكونه يخبز في نهار رمضان ليس عذراً للفطر ، وعليه أن يعمل حسب استطاعته "সে লোকের জন্য রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ নাই বরং তার জন্য রোজা রাখা ফরজ। রমজান মাসের দিনের বেলায় রুটি বানানো রোজা ভঙ্গ করার জন্য কোনও ওজর নয়। সে সাধ্য অনুযায়ী কাজ করবে।" [ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১০/২৩৮] আল্লাহু আলাম। ▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬ উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

আভাস মাল্টিমিডিয়া

Fonuder & Director: Kaji Asad Bin Romjan Head Office: The Holy Quran Islamic School Kalitola, Sadar, Dinajpur, Bangladesh. Call: 01710-649751 ই-মেইল: avasmultimedia@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আভাস মাল্টিমিডিয়া
কষ্টকর কাজের কারণে রোজা ভঙ্গ করা কি জায়েজ?
0:00 0:00
1.0x