আভাস মাল্টিমিডিয়া

আহলে কিতাব, আহলে হাদিস, আহলে কুরআন এর মধ্যে পার্থক্য কি?


প্রকাশ : ১০ জুন ২০২১ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

আহলে কিতাব, আহলে হাদিস, আহলে কুরআন এর মধ্যে পার্থক্য কি?
❑ প্রশ্ন: আহলে কিতাব, আহলে হাদিস, আহলে কুরআন এর মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তর :
● ১) আহলে কিতাব অর্থ: তাওরাতের অনুসারী ইহুদি এবং ইনজিল অনুসারী খৃষ্টান সম্প্রদায়।
● ২) আহলে হাদিস অর্থ: কুরআন ও হাদিসের অনুসারী। এদের অপর নাম আহলুস সুন্নাহ, আহলুল আসার, সালাফি ইত্যাদি।
● ৩) আহলে কুরআন অর্থ: কুরআন বাদী। এরা হাদিস অস্বীকার কারী বাতিল সম্প্রদায়।
❑ প্রশ্ন: আহলে কুরআনরা কোন মাজহাব মানে কি? তারা কি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সুন্নত মেনে চলেন?
উত্তর:
তারা মাজহাবি ফিকাহ তো দুরের কথা এরা হাদিসই মানে না। এরা মুসলিম নয়।
❑ প্রশ্ন: এদের দেখলে বুঝবো কিভাবে যে, এরা আহলে কুরআন?
উত্তর:
দেখবেন, তারা কেবল বলবে: কুরআন মানতে হবে, কুরআনের সমাজ গড়তে হবে। এরা আল কুরআনের আলো ঘরে ঘরে জ্বালো শ্লোগান দিবে এবং কুরআন পড়তে বলবে কিন্তু হাদিসের কথা একবারও বলে না। বরং হাদিসের বিরোধিতা করে, হাদিস নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করে, হাদিসের বর্ণনাকারী সাহাবি, তাবেঈ এবং পরবর্তী যুগের মুহাদ্দিসদেরকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে। ইমাম বুখারি-মুসলিম প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ তাদের নিকট চরম দুশমন। এরা তাদের সম্পর্কে চরম বেয়াদবি ও ধৃষ্টতা মূলক কথা বলে।
এরা অনেক সময় বলে, কেবল সে হাদিসগুলোই মানব যেগুলো কুরআনের সাথে মিলে। কিন্তু এই মূলনীতি আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা পরিপন্থী। বরং সঠিক কথা হল, হাদিস কুরআনের ব্যাখ্যা এবং শরিয়তের স্বতন্ত্র উৎস। সুতরাং কুরআন যেভাবে মানতে হবে, হাদিসও সেভাবে মানতে হবে-যদি তা বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত হয় এবং অন্য হাদিস দ্বারা রহিত না হয়ে থাকে। কেননা মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনে বারবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্য তথা আদেশ-নিষেধ মেনে চলার নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং বলেছেন, তিনি নিজের পক্ষ থেকে কোনও মনগড়া কথা বলেন না। যা বলেন তা অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি (প্রত্যাদেশ) প্রাপ্ত হয়েই বলেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَىٰ إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَىٰ
“আর তিনি ইচ্ছামত কোনও কথা বলেন না। তা তো একটি ওহী বা ঐশী বার্তা যা (তার নিকট) অবতীর্ণ হয়।” [সূরা নাজম: ৩ ও ৪]
❑ প্রশ্ন: আহলে হাদিস মানে কি লা-মাজহাবি?
উত্তর:
আহলে হাদিসগণ সকল মাজহাবের ইমামদেরকে সম্মান করে। তাদের মতামত ও ফতোয়াকে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু একজন মাজহাবি ইমাম বা নির্দিষ্ট একটি মাজহাব অনুসরণ করাকে আবশ্যক মনে করে না বরং মতবিরোধ পূর্ণ ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহর সবচেয়ে কাছাকাছি অভিমতকে গ্রহণ করার পক্ষে মত দেয়-তা যে মাজহাবের সাথেই মিলুক না কেন।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদি বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

আভাস মাল্টিমিডিয়া

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


আহলে কিতাব, আহলে হাদিস, আহলে কুরআন এর মধ্যে পার্থক্য কি?

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২১

featured Image
❑ প্রশ্ন: আহলে কিতাব, আহলে হাদিস, আহলে কুরআন এর মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তর :
● ১) আহলে কিতাব অর্থ: তাওরাতের অনুসারী ইহুদি এবং ইনজিল অনুসারী খৃষ্টান সম্প্রদায়।
● ২) আহলে হাদিস অর্থ: কুরআন ও হাদিসের অনুসারী। এদের অপর নাম আহলুস সুন্নাহ, আহলুল আসার, সালাফি ইত্যাদি।
● ৩) আহলে কুরআন অর্থ: কুরআন বাদী। এরা হাদিস অস্বীকার কারী বাতিল সম্প্রদায়।
❑ প্রশ্ন: আহলে কুরআনরা কোন মাজহাব মানে কি? তারা কি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সুন্নত মেনে চলেন?
উত্তর:
তারা মাজহাবি ফিকাহ তো দুরের কথা এরা হাদিসই মানে না। এরা মুসলিম নয়।
❑ প্রশ্ন: এদের দেখলে বুঝবো কিভাবে যে, এরা আহলে কুরআন?
উত্তর:
দেখবেন, তারা কেবল বলবে: কুরআন মানতে হবে, কুরআনের সমাজ গড়তে হবে। এরা আল কুরআনের আলো ঘরে ঘরে জ্বালো শ্লোগান দিবে এবং কুরআন পড়তে বলবে কিন্তু হাদিসের কথা একবারও বলে না। বরং হাদিসের বিরোধিতা করে, হাদিস নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করে, হাদিসের বর্ণনাকারী সাহাবি, তাবেঈ এবং পরবর্তী যুগের মুহাদ্দিসদেরকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে। ইমাম বুখারি-মুসলিম প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ তাদের নিকট চরম দুশমন। এরা তাদের সম্পর্কে চরম বেয়াদবি ও ধৃষ্টতা মূলক কথা বলে।
এরা অনেক সময় বলে, কেবল সে হাদিসগুলোই মানব যেগুলো কুরআনের সাথে মিলে। কিন্তু এই মূলনীতি আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা পরিপন্থী। বরং সঠিক কথা হল, হাদিস কুরআনের ব্যাখ্যা এবং শরিয়তের স্বতন্ত্র উৎস। সুতরাং কুরআন যেভাবে মানতে হবে, হাদিসও সেভাবে মানতে হবে-যদি তা বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত হয় এবং অন্য হাদিস দ্বারা রহিত না হয়ে থাকে। কেননা মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনে বারবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্য তথা আদেশ-নিষেধ মেনে চলার নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং বলেছেন, তিনি নিজের পক্ষ থেকে কোনও মনগড়া কথা বলেন না। যা বলেন তা অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি (প্রত্যাদেশ) প্রাপ্ত হয়েই বলেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَىٰ إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَىٰ
“আর তিনি ইচ্ছামত কোনও কথা বলেন না। তা তো একটি ওহী বা ঐশী বার্তা যা (তার নিকট) অবতীর্ণ হয়।” [সূরা নাজম: ৩ ও ৪]
❑ প্রশ্ন: আহলে হাদিস মানে কি লা-মাজহাবি?
উত্তর:
আহলে হাদিসগণ সকল মাজহাবের ইমামদেরকে সম্মান করে। তাদের মতামত ও ফতোয়াকে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু একজন মাজহাবি ইমাম বা নির্দিষ্ট একটি মাজহাব অনুসরণ করাকে আবশ্যক মনে করে না বরং মতবিরোধ পূর্ণ ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহর সবচেয়ে কাছাকাছি অভিমতকে গ্রহণ করার পক্ষে মত দেয়-তা যে মাজহাবের সাথেই মিলুক না কেন।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদি বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

আভাস মাল্টিমিডিয়া

Fonuder & Director: Kaji Asad Bin Romjan Head Office: The Holy Quran Islamic School Kalitola, Sadar, Dinajpur, Bangladesh. Call: 01710-649751 ই-মেইল: avasmultimedia@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আভাস মাল্টিমিডিয়া
আহলে কিতাব, আহলে হাদিস, আহলে কুরআন এর মধ্যে পার্থক্য কি?
0:00 0:00
1.0x