আভাস মাল্টিমিডিয়া

হিন্দু রুমমেটের সাথে একসাথে থাকা এবং এক পাতিলে রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়া করার বিধান


প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২১ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

হিন্দু রুমমেটের সাথে একসাথে থাকা এবং এক পাতিলে রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়া করার বিধান
হিন্দু রুমমেটের সাথে একসাথে থাকা এবং এক পাতিলে রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়া করার বিধান
▬▬▬◖◯◗▬▬▬
প্রশ্ন: আমি পড়া-শোনার জন্য একটি ম্যাচে উঠেছি। তো আমার রুমমেট হিন্দু। তার সাথে একই পাতিলে খাবার খেতে হচ্ছে। এতে কি কোন সমস্যা হবে? মানে ইসলাম কি এটা অনুমোদন করে?
উত্তর:
খাবারটা যদি হালাল হয়-যেমন: শাক-সবজি, মাছ, ডাল, ডিম ইত্যাদি তাহলে এক পাতিলে রান্না করেে একসাথে খাওয়া জায়েজ আছে ইনশাআল্লাহ।
তবে তার হাতের জবাই করা কোন প্রাণীর গোস্ত খাওয়া জায়েজ নয়, অনুরূপভাবে তাদের পূজা বা ধর্মীয় উপলক্ষে বিশেষ কিছু রান্নাবান্না করা বা তা খাওয়া জায়েজ হবে না।
قال قتادة : " لا بأس بأكل طعام المجوسي ، ما خلا ذبيحته ". انتهى من " مصنف عبد الرزاق" (6/109)
◈ কাতাদা রহ. বলেন: “অগ্নীপূজক এর খাবার খেতে অসুবিধা নেই-তার জবেহকৃত প্রাণীর গোস্ত ছাড়া।” (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ৬/১০৯)
وقال القرطبي : " ولا بأس بأكل طعام من لا كتاب له ، كالمشركين ، وعبدة الأوثان ، ما لم يكن من ذبائحهم ". انتهى من " الجامع لأحكام القرآن" (6/77)
◈ কুরতুবী বলেন: “যারা কিতাবধারী নয় (আহলে কিতাব নয়) যেমন: মুশরিক, মূর্তীপূজারী-তাদের খাবার খাওয়ায় কোন দোষ নেই যদি তাদের তাদের জবেহকৃত প্রাণীর গোস্ত না হয়।” (আল জামে লি আহকামিল কুরআন-তাফসিরে কুরতুবী ৬/৭৭)
◈ প্রশ্ন: কোন মুসলিমের জন্য কি কোন কাফেরের সাথে খাওয়া-দাওয়া করা সম্ভব?
" إذا كان الطعام حلالا جاز الأكل معه ، ولا سيما إذا دعت الحاجة إلى ذلك ؛ لكونه ضيفاً ، ولقصد دعوته إلى الإسلام ، ونحو ذلك ، مع بقاء بغضه في الله حتى يُسلم ". انتهى من " فتاوى اللجنة الدائمة " (22/413).
“খাবারটা যদি হালাল হয় তাহলে কাফেরের সাথে খাবার খাওয়া জায়েজ আছে। বিশেষ করে যদি প্রয়োজন দেখা যায়। যেমন: হয়ত সে মেহমান এসেছে অথবা তাকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেয়ার উদ্দেশ্যে আছে ইত্যাদি। তবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে তার প্রতি মনের মধ্যে বিদ্বেষ পোষণ হবে যতক্ষণ না সে মুসলিম হয়।” (সৌদি স্থায়ী ফতোয়া কমিটি ২২/৪১৩)
➧ মনে রাখা কর্তব্য যে, মুসলিমদের জন্য যথাসম্ভব মুসলিম দ্বীনদার ও সৎচরিত্রবান রুমমেটের সাথে থাকার চেষ্টা করা উচিৎ। এটা উভয়ের জন্যেই মানসিক প্রশান্তি ও দ্বীন পালন ও চরিত্র রক্ষার ক্ষেত্রে অধিক নিরাপদ।
তবে যদি বিশেষ পরিস্থিতিতে অমুসলিমর সাথে একই রুমে থাকতে হয় তাহলে একজন মুসলিমের দায়িত্ব হল, তার সঙ্গীকে দ্বীনের পথে নিয়ে এসে আখিরাতের নিশ্চিত জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা। এ জন্য তার কাছে ইসলামের সৌন্দর্য, উদারতা ও মহত্ম প্রকাশ করে তাকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করতে হবে।
কিন্তু যদি তা সম্ভব না হয় বরং উল্টো মনে হয় যে, সে নিজেই তার সাথে থাকার ফলে দ্বীনদারী ও চারিত্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তাহলে অনতিবিলম্বে তার জন্য রুম পরিবর্তন করার চেষ্টা করা জরুরি-যদি সম্ভব হয়।
আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।
▬▬▬◖◯◗▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

আভাস মাল্টিমিডিয়া

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


হিন্দু রুমমেটের সাথে একসাথে থাকা এবং এক পাতিলে রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়া করার বিধান

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২১

featured Image
হিন্দু রুমমেটের সাথে একসাথে থাকা এবং এক পাতিলে রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়া করার বিধান
▬▬▬◖◯◗▬▬▬
প্রশ্ন: আমি পড়া-শোনার জন্য একটি ম্যাচে উঠেছি। তো আমার রুমমেট হিন্দু। তার সাথে একই পাতিলে খাবার খেতে হচ্ছে। এতে কি কোন সমস্যা হবে? মানে ইসলাম কি এটা অনুমোদন করে?
উত্তর:
খাবারটা যদি হালাল হয়-যেমন: শাক-সবজি, মাছ, ডাল, ডিম ইত্যাদি তাহলে এক পাতিলে রান্না করেে একসাথে খাওয়া জায়েজ আছে ইনশাআল্লাহ।
তবে তার হাতের জবাই করা কোন প্রাণীর গোস্ত খাওয়া জায়েজ নয়, অনুরূপভাবে তাদের পূজা বা ধর্মীয় উপলক্ষে বিশেষ কিছু রান্নাবান্না করা বা তা খাওয়া জায়েজ হবে না।
قال قتادة : " لا بأس بأكل طعام المجوسي ، ما خلا ذبيحته ". انتهى من " مصنف عبد الرزاق" (6/109)
◈ কাতাদা রহ. বলেন: “অগ্নীপূজক এর খাবার খেতে অসুবিধা নেই-তার জবেহকৃত প্রাণীর গোস্ত ছাড়া।” (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ৬/১০৯)
وقال القرطبي : " ولا بأس بأكل طعام من لا كتاب له ، كالمشركين ، وعبدة الأوثان ، ما لم يكن من ذبائحهم ". انتهى من " الجامع لأحكام القرآن" (6/77)
◈ কুরতুবী বলেন: “যারা কিতাবধারী নয় (আহলে কিতাব নয়) যেমন: মুশরিক, মূর্তীপূজারী-তাদের খাবার খাওয়ায় কোন দোষ নেই যদি তাদের তাদের জবেহকৃত প্রাণীর গোস্ত না হয়।” (আল জামে লি আহকামিল কুরআন-তাফসিরে কুরতুবী ৬/৭৭)
◈ প্রশ্ন: কোন মুসলিমের জন্য কি কোন কাফেরের সাথে খাওয়া-দাওয়া করা সম্ভব?
" إذا كان الطعام حلالا جاز الأكل معه ، ولا سيما إذا دعت الحاجة إلى ذلك ؛ لكونه ضيفاً ، ولقصد دعوته إلى الإسلام ، ونحو ذلك ، مع بقاء بغضه في الله حتى يُسلم ". انتهى من " فتاوى اللجنة الدائمة " (22/413).
“খাবারটা যদি হালাল হয় তাহলে কাফেরের সাথে খাবার খাওয়া জায়েজ আছে। বিশেষ করে যদি প্রয়োজন দেখা যায়। যেমন: হয়ত সে মেহমান এসেছে অথবা তাকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেয়ার উদ্দেশ্যে আছে ইত্যাদি। তবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে তার প্রতি মনের মধ্যে বিদ্বেষ পোষণ হবে যতক্ষণ না সে মুসলিম হয়।” (সৌদি স্থায়ী ফতোয়া কমিটি ২২/৪১৩)
➧ মনে রাখা কর্তব্য যে, মুসলিমদের জন্য যথাসম্ভব মুসলিম দ্বীনদার ও সৎচরিত্রবান রুমমেটের সাথে থাকার চেষ্টা করা উচিৎ। এটা উভয়ের জন্যেই মানসিক প্রশান্তি ও দ্বীন পালন ও চরিত্র রক্ষার ক্ষেত্রে অধিক নিরাপদ।
তবে যদি বিশেষ পরিস্থিতিতে অমুসলিমর সাথে একই রুমে থাকতে হয় তাহলে একজন মুসলিমের দায়িত্ব হল, তার সঙ্গীকে দ্বীনের পথে নিয়ে এসে আখিরাতের নিশ্চিত জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা। এ জন্য তার কাছে ইসলামের সৌন্দর্য, উদারতা ও মহত্ম প্রকাশ করে তাকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করতে হবে।
কিন্তু যদি তা সম্ভব না হয় বরং উল্টো মনে হয় যে, সে নিজেই তার সাথে থাকার ফলে দ্বীনদারী ও চারিত্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তাহলে অনতিবিলম্বে তার জন্য রুম পরিবর্তন করার চেষ্টা করা জরুরি-যদি সম্ভব হয়।
আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।
▬▬▬◖◯◗▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

আভাস মাল্টিমিডিয়া

Fonuder & Director: Kaji Asad Bin Romjan Head Office: The Holy Quran Islamic School Kalitola, Sadar, Dinajpur, Bangladesh. Call: 01710-649751 ই-মেইল: avasmultimedia@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আভাস মাল্টিমিডিয়া
হিন্দু রুমমেটের সাথে একসাথে থাকা এবং এক পাতিলে রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়া করার বিধান
0:00 0:00
1.0x