আভাস মাল্টিমিডিয়া

গ্রাহককে এক লক্ষ টাকার মালামাল দিয়ে কিস্তিতে এক লক্ষ দশ হাজার নেয়া-এটা কি সুদ?


প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২১ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

গ্রাহককে এক লক্ষ টাকার মালামাল দিয়ে কিস্তিতে এক লক্ষ দশ হাজার নেয়া-এটা কি সুদ?
ইসলামী ব্যাংকের কৌশল: গ্রাহককে এক লক্ষ টাকার মালামাল দিয়ে কিস্তিতে এক লক্ষ দশ হাজার নেয়া-এটা কি সুদ?
প্রশ্ন: ইসলামী ব্যাংকের নতুন কৌশল হল: তারা ব্যবসায়ীদেরকে এক লক্ষ টাকার মালামাল দেবে। বিনিময়ে এক লক্ষ দশ হাজার নিবে। এটা কি সুদ হবে না?
উত্তর:
এটা ইসলামি ব্যাংকের নতুন কৌশল নয় বরং অনেক আগে থেকেই তারা এ পলিসি অনুসরণ করে।
যাহোক, এটা সুদ নয় বরং ব্যবসা। কারণ তারা এক লক্ষ টাকার পণ্য/ মালামাল গ্রাহকের কাছে এক লক্ষ দশ হাজার টাকা দাম ধরে বাকিতে বিক্রয় করে। পরবর্তীতে গ্রহীতা উক্ত মালামাল বিক্রয় করে কিস্তিতে দাম পরিশোধ করে। এর মাধ্যমে ব্যাংক দশ হাজার লাভ করে।
শরিয়তে এতে কোনও আপত্তি নাই। এটা হালাল ব্যবসা।
কিন্তু যদি তারা গ্রহীতাকে সরাসরি এক লক্ষ টাকা ঋণ দিয়ে তার বিনিময়ে দশ হাজার অতিরিক্ত নেয় তাহলে তা সুদ বলে গণ্য হবে। কেননা সুদের পরিচয়ে ইসলামের সর্বসম্মত একটি মূলনীতি হল,
القرض الذي يؤدي إلى نفع مشترط للمقرض؛ فهو ربا
"ঋণ দানকারীর শর্তসাপেক্ষ সুবিধার ফলস্বরূপ ঋণকে সুদ বলে।"
অর্থাৎ ঋণদাতার সাথে যদি এ মর্মে শর্ত থাকে যে, ঋণের বিনিময়ে সে ফায়দা/সুবিধা গ্রহণ করবে বা তাকে ফায়দা/সুবিধা দেয়া হবে তাহলে তা সুদ বলে গণ্য হবে।
এ ব্যাপারে একটি হাদিস রয়েছে। তা হল,
كل قرض جر منفعة فهو ربا
"প্রতিটি ঋণ যা সুবিধা/লাভ দেয় তা রিবা (সুদ)।" এ হাদিসটি সনদের বিচারে দুর্বল হলেও এর মর্মার্থটা সঠিক। [আশ শারহুল মুমতি ৯/১০৮-১০৯]
অনুরূপভাবে পণ্য কিনে দেয়ার প্রক্রিয়াটি যদি কেবল কাগজ-কলমে সংঘটিত হয়; সরেজমিনে ও বাস্তবিক না হয় (অর্থাৎ কাগজে-কলমে পণ্য ক্রয় করা দেখানো হল কিন্তু বাস্তবে পণ্য ক্রয় না করে গ্রহীতাকে সরাসরি টাকা দিয়ে দেয়া হল) তাহলে তা দু দিক থেকে হারাম হবে: মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার পাশাপাশি সুদি কার্যক্রম।
আর একথা স্বতঃসিদ্ধ যে, ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যবসা হালাল আর সুদ হারাম (কবিরা গুনাহ)।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا ۗ وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ۚ
"যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দণ্ডায়মান হবে, যেভাবে দণ্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছে: ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লা’হ তা’আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। [সূরা বাকারা: ২৭৫]
মোটকথা, ব্যবসা ও সুদের মধ্যে পার্থক্য বুঝা জরুরি। আল্লাহু আলাম।
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আবদুল জলীল
জুবাইল, সৌদি আরব

আভাস মাল্টিমিডিয়া

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


গ্রাহককে এক লক্ষ টাকার মালামাল দিয়ে কিস্তিতে এক লক্ষ দশ হাজার নেয়া-এটা কি সুদ?

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২১

featured Image
ইসলামী ব্যাংকের কৌশল: গ্রাহককে এক লক্ষ টাকার মালামাল দিয়ে কিস্তিতে এক লক্ষ দশ হাজার নেয়া-এটা কি সুদ?
প্রশ্ন: ইসলামী ব্যাংকের নতুন কৌশল হল: তারা ব্যবসায়ীদেরকে এক লক্ষ টাকার মালামাল দেবে। বিনিময়ে এক লক্ষ দশ হাজার নিবে। এটা কি সুদ হবে না?
উত্তর:
এটা ইসলামি ব্যাংকের নতুন কৌশল নয় বরং অনেক আগে থেকেই তারা এ পলিসি অনুসরণ করে।
যাহোক, এটা সুদ নয় বরং ব্যবসা। কারণ তারা এক লক্ষ টাকার পণ্য/ মালামাল গ্রাহকের কাছে এক লক্ষ দশ হাজার টাকা দাম ধরে বাকিতে বিক্রয় করে। পরবর্তীতে গ্রহীতা উক্ত মালামাল বিক্রয় করে কিস্তিতে দাম পরিশোধ করে। এর মাধ্যমে ব্যাংক দশ হাজার লাভ করে।
শরিয়তে এতে কোনও আপত্তি নাই। এটা হালাল ব্যবসা।
কিন্তু যদি তারা গ্রহীতাকে সরাসরি এক লক্ষ টাকা ঋণ দিয়ে তার বিনিময়ে দশ হাজার অতিরিক্ত নেয় তাহলে তা সুদ বলে গণ্য হবে। কেননা সুদের পরিচয়ে ইসলামের সর্বসম্মত একটি মূলনীতি হল,
القرض الذي يؤدي إلى نفع مشترط للمقرض؛ فهو ربا
"ঋণ দানকারীর শর্তসাপেক্ষ সুবিধার ফলস্বরূপ ঋণকে সুদ বলে।"
অর্থাৎ ঋণদাতার সাথে যদি এ মর্মে শর্ত থাকে যে, ঋণের বিনিময়ে সে ফায়দা/সুবিধা গ্রহণ করবে বা তাকে ফায়দা/সুবিধা দেয়া হবে তাহলে তা সুদ বলে গণ্য হবে।
এ ব্যাপারে একটি হাদিস রয়েছে। তা হল,
كل قرض جر منفعة فهو ربا
"প্রতিটি ঋণ যা সুবিধা/লাভ দেয় তা রিবা (সুদ)।" এ হাদিসটি সনদের বিচারে দুর্বল হলেও এর মর্মার্থটা সঠিক। [আশ শারহুল মুমতি ৯/১০৮-১০৯]
অনুরূপভাবে পণ্য কিনে দেয়ার প্রক্রিয়াটি যদি কেবল কাগজ-কলমে সংঘটিত হয়; সরেজমিনে ও বাস্তবিক না হয় (অর্থাৎ কাগজে-কলমে পণ্য ক্রয় করা দেখানো হল কিন্তু বাস্তবে পণ্য ক্রয় না করে গ্রহীতাকে সরাসরি টাকা দিয়ে দেয়া হল) তাহলে তা দু দিক থেকে হারাম হবে: মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার পাশাপাশি সুদি কার্যক্রম।
আর একথা স্বতঃসিদ্ধ যে, ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যবসা হালাল আর সুদ হারাম (কবিরা গুনাহ)।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا ۗ وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ۚ
"যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দণ্ডায়মান হবে, যেভাবে দণ্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছে: ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লা’হ তা’আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। [সূরা বাকারা: ২৭৫]
মোটকথা, ব্যবসা ও সুদের মধ্যে পার্থক্য বুঝা জরুরি। আল্লাহু আলাম।
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আবদুল জলীল
জুবাইল, সৌদি আরব

আভাস মাল্টিমিডিয়া

Fonuder & Director: Kaji Asad Bin Romjan Head Office: The Holy Quran Islamic School Kalitola, Sadar, Dinajpur, Bangladesh. Call: 01710-649751 ই-মেইল: avasmultimedia@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আভাস মাল্টিমিডিয়া
গ্রাহককে এক লক্ষ টাকার মালামাল দিয়ে কিস্তিতে এক লক্ষ দশ হাজার নেয়া-এটা কি সুদ?
0:00 0:00
1.0x