আযল সম্পর্কে হাদিস
অনুবাদ – আমরা রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম – ‘র যুগে আযল করতাম। অতপর এই খবর রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর কাছে পৌঁছলে তিনি এটা থেকে নিষেধ করেননি। ( সহিহ বুখারি – ২৫০ ) জাবির – রাদিয়াল্লাহু আনহু – বর্ণনা করেন –
আযল সম্পর্কে হাদিস
অনুবাদ – একজন ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর কাছে এসে বললো আমার একটি বাদী আছে। আমি তার সাথে সহবাস করি। কিন্তু সে গর্ভবতী হোক সেটা আমি পছন্দ করি না। রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম – বলেন তুমি চাইলে তার সাথে আযল করতে পারো। কেননা আযল করার পরও তার ভাগ্যে যা নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে সেটা আসবেই। ( সহিহ মুসলিম ২৬০৬ ) আবু সাইদ খুদরি – রাদিয়াল্লাহু আনহু – বর্ণনা করেন জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ – রাদিয়াল্লাহু আনহু – বলেন –
আযল সম্পর্কে হাদিস
অনুবাদ – নবি মুস্তালিক যুদ্ধে আমরা রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম – ‘র সাথে বের হলাম। সেখানে আমরা আরবীয় দাসীদের মধ্যে থেকে অনেক দাসীকে বন্দী করলাম। আমরা নারী সংঙ্গ চাচ্ছিলাম। কিন্তু আমাদের স্ত্রীদের থেকে দীর্ঘ দূরত্ব কঠিন সংকটে ফেলে দিয়েছিলো। তাই আমরা (দাসীদের সাথে) আযল করার প্রতি আগ্রহী হয়ে গেলাম। আমরা বললাম রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম – কে আমাদের মধ্যে উপস্থিত রেখে আমরা আযলে লিপ্ত হবো। অথচ তাকে জিজ্ঞেস করবো না, এটা হতে পারে না। এরপর আমরা তাকে সে সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন তোমরা এটা করতে অসুবিধা নেই। কেননা আল্লাহ তায়ালা কিয়ামত পর্যন্ত যতো মানুষ সৃষ্টি করার তা করবেনই। (সহিহ বুখারি – ৩৮২৩) আযল সম্পর্কে মুসলিম স্কলারদের বক্তব্য ইমাম ইবনু কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ আযল জায়েজ হওয়ার মতকে প্রধান্য দিয়ে বলেন – ‘এটা ইমাম মালিক ইমাম শাফি আহলে কুফা ( হানাফি ) ও সংখ্যাগরিষ্ঠ আহলে ইলিমের অভিমত।’ ( যাদুল মায়াদ ৫/১৪৫ ) ইবনু হাযাম – রাহিমাহুল্লাহ – বলেন – ‘সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা আযল জায়েজ হওয়ার অভিমত দিয়েছেন, তাদের মধ্যে – ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসউদ, জাবির, জায়েদ ইবনু সাবিত, সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস প্রমুখ – রাদিয়াল্লাহু আনহুম – বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।’ (যাদুল মায়াদ ৫/১৪৫) আযল কি গর্ভরোধে নিশ্চিত কার্যকরী? আপনি যদি উপরের হাদিসগুলো ঠিক মতো পড়েন তাহলে এই উত্তরটি পেয়ে গেছেন। তবে যারা পাননি তাদের জন্য বলে দিচ্ছ। আযল গর্ভরোধে নিশ্চিত কার্যকরী কোনো পদ্ধতি নয়। কেননা রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম – আযলের অনুমতি দিয়ে বলেছেন – ‘কেননা আল্লাহ তায়ালা কিয়ামত পর্যন্ত যতো মানুষ সৃষ্টি করার তা করবেনই। (সহিহ বুখারি – ৩৮২৩) এ থেকে বুঝা যায় আযল করার পরও গর্ভসঞ্চার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদিও সেটা খুব কম। তাই আযলকে শতভাগ কার্যকরী গর্ভ নিরোধ পন্থা মনে করা যাবে না। একটি বুদ্ধিভিত্তিক বিশ্লেষণঃ ইসলাম মুসলিম দম্পতিকে অধিকহারে সন্তান গ্রহণের প্রতি উৎসাহ দেয়। যেমন মাকিল ইবনে ইয়াসার বর্ণনা করেন – একজন ব্যক্তি নবি – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – ‘র কাছে এসে বললো, আমি বিবাহের জন্য একজন সম্ভ্রান্ত ও সুন্দরী নারীকে পেয়েছি। কিন্তু সে সন্তান জন্ম দিতে পারবে না। আমি কি তাকে বিবাহ করবো ? তিনি বললেন, ‘না।’ অতপর সে দ্বিতীয়বার আসলো। এবারও তাকে নিষেধ করে দিলেন। অতপর সে তৃতীয়বার আসলো। তখন তিনি বললেন, ‘তোমরা মায়াবতী, অধিক সন্তান জন্মদাত্রী নারী বিয়ে করো। কেননা আমি তোমাদের সংখ্যা আধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের উপর গর্ব করবো।’ ( আবু দাউদ – ২০৫২ ) তাই অধিক সন্তান নেওয়া ইসলামে প্রশংসনীয় ও পরকালে গিয়েও দোয়া লাভের মাধ্যম। তাই একজন বুদ্ধিমান ও ধর্মপরায়ণ মুসলিম অধিকহারে সন্তান নেওয়াটাই তার বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। কিন্তু কেউ যদি আযল করে তাহলেও সেটা বৈধ আছে। তা বৈধ হওয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ থাকা আবশ্যক নয়। এমনিতেই মন চাইলে যে কেউ আযল করতে পারবে। আযল কি নিরাপদ গর্ভনিরোধ পদ্ধতি? সাময়িক গর্ভরোধের অন্যান্য পদ্ধতি যেমন পিল কন্ডম ইনজেকশন ইত্যাদি অপেক্ষা আযল করা উত্তম। কেননা আধুনিক এই গর্ভরোধ পন্থাগুলো নানার জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধি সৃষ্টি করে বলে অসংখ্য জ্ঞানিগুণি ডাক্তার বিজ্ঞানীর বক্তব্যে দিয়েছেন। সাথে সাথে বাস্তবিক জীবনে যে সব নারীরা এই পদ্ধতিগুলো গ্রহণ করেছেন তাদের স্বাস্থ্য জরিপ থেকে তা প্রমাণিত। তবে আযল একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি হওয়ার কারণে স্বাস্থ্যগত কোনো ধরণের ঝুকি সৃষ্টি করে না। সে জন্য আযল করাটা স্বাস্থ্যগত দিগ থেকে অতি নিরাপদ।