আভাস মাল্টিমিডিয়া

গাযওয়াতুল হিন্দ বা হিন্দুস্থানের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধের ভবিষ্যতবাণী


প্রকাশ : ১১ মে ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

গাযওয়াতুল হিন্দ বা হিন্দুস্থানের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধের ভবিষ্যতবাণী
গাযওয়াতুল হিন্দ বা হিন্দুস্থানের সাথে মুসলিমদের যু*দ্ধের ভবিষ্যতবাণী
▬▬▬▬✪✪✪▬▬▬
প্রশ্ন (১/৪১) : ‘গাযওয়াতুল হিন্দ’ নামে এক যুদ্ধের কথা কোন কোন বক্তা প্রচার করে থাকেন। উক্ত যুদ্ধের সত্যতা ও বিবরণ সম্পর্কে জানতে চাই।
এছাড়া আরেক শতাব্দী পর মুসলমানরা ইসলামী খেলাফত ফিরে পাবে মর্মে কোন ভবিষ্যদ্বাণী আছে কি?
উত্তর:
‘গাযওয়াতুল হিন্দ’ নামে এক যুদ্ধের বর্ণনা বিভিন্ন হাদীছে রয়েছে, যার মধ্যে একটিমাত্র ছহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। যেমন:
ছাওবান (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন:
عِصَابَتَانِ مِنْ أُمَّتِي أَحْرَزَهُمَا اللَّهُ مِنْ النَّارِ : عِصَابَةٌ تَغْزُو الْهِنْدَ ، وَعِصَابَةٌ تَكُونُ مَعَ عِيسَى بْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلَام
‘আমার উম্মতের দু’টি দল রয়েছে যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। তাদের একটি দল হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। আরেকটি দল যারা ঈসা (আঃ)-এর পক্ষে থাকবে’ (নাসাঈ হা/৩১৭৫; আহমাদ হা/২২৪৪৯; ছহীহাহ হা/১৯৩৪)।
উপরোক্ত হাদীছে হিন্দুস্থানের যে যুদ্ধে বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী রাসূল (ছাঃ) করেছিলেন, তা ইতিমধ্যে ঘটে গেছে। কেননা মুসলমানগণ হিন্দুস্থানে বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করেছেন। যেমন:
➤ ওমর (রাঃ)-এর খেলাফতকালে সর্বপ্রথম ১৫ হিজরীতে ওছমান বিন আবুল ‘আছের নেতৃত্বে একটি সেনাদল প্রেরিত হয়। যারা হিন্দুস্থানের থানা, ব্রূছ ও দেবল বন্দরে সফল অভিযান পরিচালনা করেন। থানাকে বর্তমানে মুম্বাই, ব্রূছকে গুজরাট এবং দেবলকে করাচী বলা হয়। তারা এ সময় ‘সরনদীব’ জয় করেন। যাকে বর্তমানে শ্রীলঙ্কা বলা হয় (আতহার মুবারকপুরী, আল-ইক্বদুছ ছামীন ফী ফুতূহিল হিন্দ (কায়রো : দারুল আনছার, ২য় সংস্করণ ১৩৯৯ হি./১৯৭৯) ১/২৬, ৪০, ৪২, ৪৪)।
➤ অতঃপর মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর খেলাফতকালে (৪১-৬০ হি.) হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে যু*দ্ধ পরিচালিত হয় (আল-বিদায়াহ ৬/২২৩)।
➤ এরপর ৯৩ হিজরীতে খলীফা ওয়ালীদ বিন আব্দুল মালিকের আমলে (৮৬-৯৬ হি.) মুহাম্মাদ বিন কাসেম ছাক্বাফী-র নেতৃত্বে সিন্ধু ও হিন্দুস্থান বিজিত হয় (আল-বিদায়াহ ৯/৭৭, ৯৫; আল-ইক্বদুছ ছামীন ১/১৪১-৪২)।
➤ এছাড়া ৫ম শতাব্দী হিজরীর প্রথম দিকে গযনীর সুলতান মাহমূদ (৩৮৮-৪২১ হি.) হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি ভারতের বিখ্যাত সোমনাথ মন্দিরে প্রবেশ করে সকল মূর্তি ভেঙ্গে চুরমার করেন। অতঃপর বিজয়ী হয়ে ফিরে আসেন (আল-বিদায়াহ ৬/২২৩, ১২/৩০; আহলেহাদীছ আন্দোলন ২০৬-২০৮ পৃ.)।
অপরপক্ষে হযরত আবু হুরায়রাহ, কা‘ব ও ছাফওয়ান বিন ‘আমর (রাঃ) থেকে দুর্বল সূত্রে এ বিষয়ে কিছু হাদীছ বর্ণিত হয়েছে যে, ‘হিন্দুস্থানের নেতাদেরকে মুসলিম সেনারা বেড়ীবদ্ধ অবস্থায় শামে নিয়ে যাবে। অতঃপর ঈসা (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করবে’। যেগুলির সবই যঈফ।
(নাসাঈ হা/৩১৭৩-৭৪; আহমাদ হা/৭১২৮; হাকেম হা/৬১১; নু‘আঈম বিন হাম্মাদ, আল-ফিতান হা/১২০২, ১২১৫, ১২৩৬)।
এসকল যঈফ বর্ণনা থেকে অনেকে ধারণা করেন যে, এই গাযওয়াতুল হিন্দ ক্বিয়ামতের পূর্বকালে সংঘটিত হবে।
দ্বিতীয়ত, ক্বিয়ামতের পূর্বে ইমাম মাহদীর মাধ্যমে ইসলামী খেলাফত পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে এবং যা সাত বছর অব্যাহত থাকবে-মর্মে রাসূল (ছাঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে (আবূদাঊদ হা/৪২৮৪-৮৫; মিশকাত হা/৫৪৫৩-৫৪; ছহীহাহ হা/১৫২৯)। তবে সেই খেলাফত এখন থেকে এক শতাব্দীকাল পর প্রতিষ্ঠিত হবে, এমন কোন সময়সীমা নির্দিষ্ট করার সুযোগ নেই। আল্লাহু আলাম
[মাসিক আত-তাহরীক, ২২তম বর্ষ, ২য় সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৮-অনলাইন ভার্সন]
উল্লেখ্য যে, ইতেপূর্বে একাধিকবার রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভবিষ্যতবাণী বাস্তবায়িত হলেও কিয়ামতের পূর্বে আবারও গাযওয়াতুল হিন্দ হবে না তা বলার সুযোগ নেই। অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বে আবারও তা সংঘটিত হতে পারে। সে যু*দ্ধে আল্লাহ তাআলা মুসলিমদেরকে বিজয় দান করবেন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করি যেভাবে ইতোপূর্বে ভারতের ভীতু হি*ন্দুদের উপর বীর মুসলিমদেরকে বিজয় দান করেছিলেন।
হে আল্লাহ, তুমি ভারতবর্ষের মুসলিমদের ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি করো, যেন তারা অত্যাচারী হি*ন্দুদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পায় এবং পুনরায় ভারতের সর্বত্র অতীতের মত ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন করতে পারে। আল্লাহুম্মা আমীন।
▬▬▬▬✪✪✪▬▬▬
সংকলনে (সামান্য পরিমার্জন ও সংযোজন সহ):
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

আভাস মাল্টিমিডিয়া

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


গাযওয়াতুল হিন্দ বা হিন্দুস্থানের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধের ভবিষ্যতবাণী

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৫

featured Image
গাযওয়াতুল হিন্দ বা হিন্দুস্থানের সাথে মুসলিমদের যু*দ্ধের ভবিষ্যতবাণী
▬▬▬▬✪✪✪▬▬▬
প্রশ্ন (১/৪১) : ‘গাযওয়াতুল হিন্দ’ নামে এক যুদ্ধের কথা কোন কোন বক্তা প্রচার করে থাকেন। উক্ত যুদ্ধের সত্যতা ও বিবরণ সম্পর্কে জানতে চাই।
এছাড়া আরেক শতাব্দী পর মুসলমানরা ইসলামী খেলাফত ফিরে পাবে মর্মে কোন ভবিষ্যদ্বাণী আছে কি?
উত্তর:
‘গাযওয়াতুল হিন্দ’ নামে এক যুদ্ধের বর্ণনা বিভিন্ন হাদীছে রয়েছে, যার মধ্যে একটিমাত্র ছহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। যেমন:
ছাওবান (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন:
عِصَابَتَانِ مِنْ أُمَّتِي أَحْرَزَهُمَا اللَّهُ مِنْ النَّارِ : عِصَابَةٌ تَغْزُو الْهِنْدَ ، وَعِصَابَةٌ تَكُونُ مَعَ عِيسَى بْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلَام
‘আমার উম্মতের দু’টি দল রয়েছে যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। তাদের একটি দল হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। আরেকটি দল যারা ঈসা (আঃ)-এর পক্ষে থাকবে’ (নাসাঈ হা/৩১৭৫; আহমাদ হা/২২৪৪৯; ছহীহাহ হা/১৯৩৪)।
উপরোক্ত হাদীছে হিন্দুস্থানের যে যুদ্ধে বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী রাসূল (ছাঃ) করেছিলেন, তা ইতিমধ্যে ঘটে গেছে। কেননা মুসলমানগণ হিন্দুস্থানে বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করেছেন। যেমন:
➤ ওমর (রাঃ)-এর খেলাফতকালে সর্বপ্রথম ১৫ হিজরীতে ওছমান বিন আবুল ‘আছের নেতৃত্বে একটি সেনাদল প্রেরিত হয়। যারা হিন্দুস্থানের থানা, ব্রূছ ও দেবল বন্দরে সফল অভিযান পরিচালনা করেন। থানাকে বর্তমানে মুম্বাই, ব্রূছকে গুজরাট এবং দেবলকে করাচী বলা হয়। তারা এ সময় ‘সরনদীব’ জয় করেন। যাকে বর্তমানে শ্রীলঙ্কা বলা হয় (আতহার মুবারকপুরী, আল-ইক্বদুছ ছামীন ফী ফুতূহিল হিন্দ (কায়রো : দারুল আনছার, ২য় সংস্করণ ১৩৯৯ হি./১৯৭৯) ১/২৬, ৪০, ৪২, ৪৪)।
➤ অতঃপর মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর খেলাফতকালে (৪১-৬০ হি.) হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে যু*দ্ধ পরিচালিত হয় (আল-বিদায়াহ ৬/২২৩)।
➤ এরপর ৯৩ হিজরীতে খলীফা ওয়ালীদ বিন আব্দুল মালিকের আমলে (৮৬-৯৬ হি.) মুহাম্মাদ বিন কাসেম ছাক্বাফী-র নেতৃত্বে সিন্ধু ও হিন্দুস্থান বিজিত হয় (আল-বিদায়াহ ৯/৭৭, ৯৫; আল-ইক্বদুছ ছামীন ১/১৪১-৪২)।
➤ এছাড়া ৫ম শতাব্দী হিজরীর প্রথম দিকে গযনীর সুলতান মাহমূদ (৩৮৮-৪২১ হি.) হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি ভারতের বিখ্যাত সোমনাথ মন্দিরে প্রবেশ করে সকল মূর্তি ভেঙ্গে চুরমার করেন। অতঃপর বিজয়ী হয়ে ফিরে আসেন (আল-বিদায়াহ ৬/২২৩, ১২/৩০; আহলেহাদীছ আন্দোলন ২০৬-২০৮ পৃ.)।
অপরপক্ষে হযরত আবু হুরায়রাহ, কা‘ব ও ছাফওয়ান বিন ‘আমর (রাঃ) থেকে দুর্বল সূত্রে এ বিষয়ে কিছু হাদীছ বর্ণিত হয়েছে যে, ‘হিন্দুস্থানের নেতাদেরকে মুসলিম সেনারা বেড়ীবদ্ধ অবস্থায় শামে নিয়ে যাবে। অতঃপর ঈসা (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করবে’। যেগুলির সবই যঈফ।
(নাসাঈ হা/৩১৭৩-৭৪; আহমাদ হা/৭১২৮; হাকেম হা/৬১১; নু‘আঈম বিন হাম্মাদ, আল-ফিতান হা/১২০২, ১২১৫, ১২৩৬)।
এসকল যঈফ বর্ণনা থেকে অনেকে ধারণা করেন যে, এই গাযওয়াতুল হিন্দ ক্বিয়ামতের পূর্বকালে সংঘটিত হবে।
দ্বিতীয়ত, ক্বিয়ামতের পূর্বে ইমাম মাহদীর মাধ্যমে ইসলামী খেলাফত পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে এবং যা সাত বছর অব্যাহত থাকবে-মর্মে রাসূল (ছাঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে (আবূদাঊদ হা/৪২৮৪-৮৫; মিশকাত হা/৫৪৫৩-৫৪; ছহীহাহ হা/১৫২৯)। তবে সেই খেলাফত এখন থেকে এক শতাব্দীকাল পর প্রতিষ্ঠিত হবে, এমন কোন সময়সীমা নির্দিষ্ট করার সুযোগ নেই। আল্লাহু আলাম
[মাসিক আত-তাহরীক, ২২তম বর্ষ, ২য় সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৮-অনলাইন ভার্সন]
উল্লেখ্য যে, ইতেপূর্বে একাধিকবার রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভবিষ্যতবাণী বাস্তবায়িত হলেও কিয়ামতের পূর্বে আবারও গাযওয়াতুল হিন্দ হবে না তা বলার সুযোগ নেই। অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বে আবারও তা সংঘটিত হতে পারে। সে যু*দ্ধে আল্লাহ তাআলা মুসলিমদেরকে বিজয় দান করবেন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করি যেভাবে ইতোপূর্বে ভারতের ভীতু হি*ন্দুদের উপর বীর মুসলিমদেরকে বিজয় দান করেছিলেন।
হে আল্লাহ, তুমি ভারতবর্ষের মুসলিমদের ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি করো, যেন তারা অত্যাচারী হি*ন্দুদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পায় এবং পুনরায় ভারতের সর্বত্র অতীতের মত ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন করতে পারে। আল্লাহুম্মা আমীন।
▬▬▬▬✪✪✪▬▬▬
সংকলনে (সামান্য পরিমার্জন ও সংযোজন সহ):
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

আভাস মাল্টিমিডিয়া

Fonuder & Director: Kaji Asad Bin Romjan Head Office: The Holy Quran Islamic School Kalitola, Sadar, Dinajpur, Bangladesh. Call: 01710-649751 ই-মেইল: avasmultimedia@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আভাস মাল্টিমিডিয়া
গাযওয়াতুল হিন্দ বা হিন্দুস্থানের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধের ভবিষ্যতবাণী
0:00 0:00
1.0x