‘তবররক’ বা শিন্নি বিতরণ ও খাওয়ার বিধান কি?
প্রশ্ন : আমাদের এলাকায় ওয়াজ মাহফিল শেষে সম্মিলিত মুনাজাত হয় ও তবররক বিতরণ করে। ইমামের মাধ্যমে মিলাদ (যা বিদআত হিসেবে জানি) করানো পর সম্মিলিত দুআ করা হয়। অত:পর উপস্থিত সকলকে কোনও খাদ্যদ্রব্য ‘তবররক’ হিসেবে দেয়া হয় এবং সকলকেই খুব আগ্রহ সহকারে খেতে দেখা যায়।
আমার প্রশ্ন হল, উপরোল্লিখিত ক্ষেত্রে যে তবররক বিতরণ করা ও তা খাওয়া কি জায়েজ? আর এতে কি কোনও বরকত থাকে? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর:
‘তবররক’/‘তবররুক’ শব্দটি মূলত: আরবি (تبرك) থেকে এসেছে। এর শাব্দিক অর্থ: বরকত গ্রহণ করা।
তবে বাংলা অভিধান অনুসারে এর অর্থ: প্রসাদ, পুণ্যবান ব্যক্তির স্পর্শ-পূত খাদ্যাদি। (যেমন: ভক্ষণ আমি করেছিও, তবে সে তবররক জ্ঞানে-ইব্রাহীম খাঁ, প্রিন্সিপাল)
[বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান]
আমাদের সমাজে মাহফিল/অনুষ্ঠান শেষে বা মসজিদে সালাতের শেষে বিশেষ উদ্দেশ্যে উপস্থিত মুসল্লি ও অন্যান্য লোকজনের উদ্দেশ্যে কিছু মিষ্টান্ন, বিস্কুট, খেজুর বা বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করা হয়। এটাই ‘তবররক’ নামে সুপরিচিত।
এটাকে শিন্নি বা শিরনি (কথ্য)ও বলা হয়।
যদি এই তবররক বা শিন্নি বিতরণ করা হয় এই বিশ্বাস সহকারে যে, এই খাবারের বিশেষ কিছু বরকত বা ফজিলত আছে তাহলে তা ভ্রান্ত ও বাতিল বিশ্বাস। এ উদ্দেশ্যে তবররক বিতরণ করা যেমন জায়েজ নয় তেমনি তা খাওয়াও জায়েজ নয়। অনুরূপভাবে কোনও বিদআতি অনুষ্ঠান উপলক্ষে হলে (যেমন: মিলাদ, শবে বরাত, ইসালে সওয়াব, ফাতেহাখানি, ওরস মাহফিল, জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী ইত্যাদি) তা বিতরণ করা বা খাওয়া উভয়টি নাজায়েজ।
তবে এ বিশ্বাস না থাকলে বা বৈধ কোনও উপলক্ষে হলে (যেমন: বিয়ে, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল, চাকুরী লাভ, নতুন ঘর-বাড়ি বা দোকান উদ্বোধন, কোনও আনন্দদায়ক সংবাদ পাওয়া অথবা সাধারণভাবে মানুষকে খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে ইত্যাদি) তা বিতরণ করতে বা গ্রহণ করতে কোন সমস্যা নেই ইনশাল্লাহ।
আল্লাহু আলাম।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)
জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদি আরব।