"মুক্তির মন্দির সোপান তলে কত প্রাণ হল বলিদান" এই গানটির লেখক হলেন, মোহিনী চৌধুরী। এটি একটি বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গান, যা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছিল।
তবে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এই গানটার মধ্যে বেশ কিছু শিরকি এবং শরিয়ত বিরোধী কথাবার্তা আছে।
সুতরাং মুসলিমদের জন্য এই গানটি গাওয়া হারাম। তবে হিন্দু বা অন্য ধর্ম/আদর্শে বিশ্বাসীরা যা ইচ্ছা গাইতে পারে। সেটা তাদের বিষয়।
যাহোক, প্রিয়বন্ধুগণ, মুসলিমদেরকে সতর্ক করার উদ্দেশ্য এই গানের কয়েকটি শরিয়ত বিরোধী, হিন্দুয়ানি বিশ্বাস এবং শিরকের উদাহরণ তুলে ধরা হল:
১. “মুক্তির মন্দির সোপান তলে কত প্রাণ হল বলিদান”-এই বাক্যটি ইসলামি ভাবধারা সম্পন্ন নয় বরং হিন্দু ধর্ম ও হিন্দুয়ানি সংস্কৃতির সাথে অধিক সঙ্গতিপূর্ণ।
কারণ-
ক. মন্দির: হিন্দুদের দেবালয় যেখানে দেব-দেবীর মূর্তি থাকে এবং তাদের নিকটে প্রার্থনা, উপাসনা ও অন্যান্য ধর্মীয় কার্যকলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
খ. মন্দিরে বলিদান:
বলি অর্থ: বিশেষ পূজোপকরণ।
দান অর্থ: ত্যাগ। অর্থাৎ দেবতার উদ্দেশ্যে বিশেষ ভাবে কিছু দান করার নাম বলিদান বা দেবতার উদ্দেশ্যে আত্মোৎসর্গ।
২. “যাঁরা স্বর্গগত তাঁরা এখনও জানে স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমি।”
এখানে কয়েকটি শরিয়ত বিরোধী কথা আছে।” যথা:
ক. যারা দেশের জন্য মৃত্যুবরণ করে ইসলামের দৃষ্টিতে তাদেরকে সরাসরি ‘স্বর্গবাসী’ (জান্নাতবাসী) বলা জায়েজ নাই। বিষয়টি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। কেউ যদি রাষ্ট্রে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা কিংবা ইসলামী রাষ্ট্রকে শত্রুর কবল থেকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ করে শত্রুর হাতে নিহত হয় তাহলে সে শহিদি মর্যাদা লাভ করবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে ইনশাআল্লাহ। অন্যথায় নয়।
খ. মুসলিমদের নিকট স্বর্গ (জান্নাত)-এর থেকে দেশ বা অন্য কিছু প্রিয় নয়। বরং মুমিন জীবনের সবচেয়ে প্রিয় অভীষ্ট লক্ষ্য হল, জান্নাত প্রাপ্তি।
৩. “আজি রক্ত কমলে গাঁথা মাল্যখানি বিজয় লক্ষ্মী দেবে তাঁদেরই গলে।”
কেউ যদি বিশ্বাস করে ‘বিজয়লক্ষ্মী’ বা বিজয় ও সৌভাগ্যের দেবী বিজয় দান করে তাহলে ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত মুরতাদে পরিণত হবে। কারণ তা আল্লাহর সাথে সরাসরি শিরক। এটি মূলত: হিন্দুয়ানি বিশ্বাস।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّهِ
“বিজয় তো আসে একমাত্র আল্লাহর নিকট থেকে।” [সূরা আনফাল: ১০]
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ, সৌদি আরব।