আভাস মাল্টিমিডিয়া

স্কুলের এক অনুষ্ঠানে আমরা নাটিকায় অভিনয় করি। এতে বিয়ের অভিনয় করা হয় এবং কবুল‌ও বলা হয়। এতে কি বাস্তবে বিয়ে হয়েছে?


প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

স্কুলের এক অনুষ্ঠানে আমরা নাটিকায় অভিনয় করি। এতে বিয়ের অভিনয় করা হয় এবং কবুল‌ও বলা হয়। এতে কি বাস্তবে বিয়ে হয়েছে?
প্রশ্ন: স্কুলের এক অনুষ্ঠানে আমরা নাটিকায় অভিনয় করি। এতে বিয়ের অভিনয় করা হয় এবং কবুল‌ও বলা হয়। এতে কি বাস্তবে বিয়ে হয়েছে?
উত্তর: আমাদের জানা দরকার যে, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য শুধু ইজাব-কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ)ই যথেষ্ট নয়। এই ক্ষেত্রে আরও অন্যান্য রোকন ও শর্তাবলী রয়েছে। সেগুলো ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হবে না। যেমন: মেয়ের অভিভাবকের সম্মতি (অধিক বিশুদ্ধ মতে), বিয়েতে প্রতিবন্ধক হতে পারে এমন বিষয় না থাকা (যেমন: বর-কনের মধ্যে মাহরামের সম্পর্ক থাকা, মহিলার অন্য স্বামী থাকা ইত্যাদি), মোহর নির্ধারণ, দু জন ন্যায়-নীতিমান সাক্ষী থাকা ইত্যাদি।
সুতরাং নাটক-নাটিকা ও সিনেমা-থিয়েটারে এসব কথিত বিয়ের অভিনয়ে যদি উপরোক্ত শর্তাবলী যথার্থভাবে না পাওয়া যায় তাহলে বিয়ে শুদ্ধ হবে না। আর সাধারণত এসব ক্ষেত্রে উপরোক্ত শর্তাবলী সঠিকভাবে পাওয়া যায় না। যেমন: এ ক্ষেত্রে মেয়ের অভিভাবকের সম্মতি না থাকা, অথবা অভিনয়কারী মেয়েটির পূর্ব থেকেই স্বামী বিদ্যমান থাকা ইত্যাদি।
তবে হ্যাঁ, যদি এসব শর্তাবলী ঠিকভাবে পাওয়া যায় তাহলে বিয়ে শুদ্ধ বলে গণ্য হবে। কেননা হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ثَلَاثٌ جَدُّهُنَّ جَدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جَدُّ: النِّكَاحُ وَالطَّلَاقُ وَالرِّجْعَةُ
“তিনটি বিষয়ে কথাবার্তা গুরুতর বলেই বিবেচিত হবে- চাই তা গুরুত্বের সাথে বলা হোক বা রসিকতা বশত বলা হোক। যথা: বিয়ে, তালাক ও তালাক প্রত্যাহার।” [আবু দাউদ,তিরমিযি, সহিহুল জামে:৩০২৭-শাইখ আলবানি]
সুতরাং বিয়ে-তালাকের মত মানব জীবনের সিরিয়াস এবং অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাসি-তামাশা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এর সাথে মানুষের ইজ্জত-সম্ভ্রমের পাশাপাশি হালাল-হারাম সংক্রান্ত অনেক বিধিবিধান এবং পরস্পরের বিভিন্ন দেনা-পাওনা ও হক জড়িত। যেভাবে ইসলামের কোন বিধান নিয়ে কেউ যদি হাসি-তামাশা করে তাহলে সে ইসলাম থেকেই বের হয়ে যাবে। (মুরতাদ বা ইসলাম চ্যুত বলে পরিণত হবে)। এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন, সূরা তওবা-এর ৬৫ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা।
মোটকথা, সবকিছু নিয়ে হাসি- তামাশা করা সংগত নয়। অতএব এ বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।
শাইখ আলবানি রা.কে প্রশ্ন করা হয়: নাটক-অভিনয়ের মধ্যে কি বিয়ে সংঘটিত হবে?
তিনি বলেন,
نعم إذا توفرت الشروط العقد الشرعي يقع لأن الصحيح من قولي العلماء أن الهزل في النكاح وفي الطلاق وفي العتاق نافد واقع فإذا توفرت الشروط تحقق النكاح شاءوا أم أبوا-سلسلة الهدى والنور شريط رقم 201).
“হ্যাঁ, যদি আকদ সম্পন্ন হওয়ার শর্তাবলী পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া যায় তাহলে বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে। কারণ আলেমদের দুটি অভিমতের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ মতে বিয়ে, তালাক এবং দাস মুক্তির ক্ষেত্রে হাসি-মজাকও বাস্তবায়িত হবে। সুতরাং যদি শর্তাবলী সঠিকভাবে পাওয়া যায় তাহলে বিয়ে বাস্তবায়িত হয়ে যাবে-চাই তারা পছন্দ করুক অথবা না করুক।” [আল হুদা ওয়ান নূর সিরিজ। ক্যাসেট নম্বর: ২০১]
উল্লেখ্য যে, নাটক-সিনেমায় এসব কার্যক্রম হারাম। কেননা, এখানে বিয়ের মত মানব জীবনের এমন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি বিধানকে বিনোদন ও হাসি-তামাশার খোরাকে পরিণত করা হয়। তাছাড়া অভিনয় মানেই মিথ্যার আশ্রয়। এখানে অবাস্তবকে বাস্তব এবং অসত্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়াও এতে নানা ধরণের গর্হিত কাজ সংঘটিত হয়। সুতরাং নাটক-সিনেমার মধ্যে বিয়ে নিয়ে তামাশা বন্ধ হওয়া জরুরি। আল্লাহু আলম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

আভাস মাল্টিমিডিয়া

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


স্কুলের এক অনুষ্ঠানে আমরা নাটিকায় অভিনয় করি। এতে বিয়ের অভিনয় করা হয় এবং কবুল‌ও বলা হয়। এতে কি বাস্তবে বিয়ে হয়েছে?

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫

featured Image
প্রশ্ন: স্কুলের এক অনুষ্ঠানে আমরা নাটিকায় অভিনয় করি। এতে বিয়ের অভিনয় করা হয় এবং কবুল‌ও বলা হয়। এতে কি বাস্তবে বিয়ে হয়েছে?
উত্তর: আমাদের জানা দরকার যে, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য শুধু ইজাব-কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ)ই যথেষ্ট নয়। এই ক্ষেত্রে আরও অন্যান্য রোকন ও শর্তাবলী রয়েছে। সেগুলো ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হবে না। যেমন: মেয়ের অভিভাবকের সম্মতি (অধিক বিশুদ্ধ মতে), বিয়েতে প্রতিবন্ধক হতে পারে এমন বিষয় না থাকা (যেমন: বর-কনের মধ্যে মাহরামের সম্পর্ক থাকা, মহিলার অন্য স্বামী থাকা ইত্যাদি), মোহর নির্ধারণ, দু জন ন্যায়-নীতিমান সাক্ষী থাকা ইত্যাদি।
সুতরাং নাটক-নাটিকা ও সিনেমা-থিয়েটারে এসব কথিত বিয়ের অভিনয়ে যদি উপরোক্ত শর্তাবলী যথার্থভাবে না পাওয়া যায় তাহলে বিয়ে শুদ্ধ হবে না। আর সাধারণত এসব ক্ষেত্রে উপরোক্ত শর্তাবলী সঠিকভাবে পাওয়া যায় না। যেমন: এ ক্ষেত্রে মেয়ের অভিভাবকের সম্মতি না থাকা, অথবা অভিনয়কারী মেয়েটির পূর্ব থেকেই স্বামী বিদ্যমান থাকা ইত্যাদি।
তবে হ্যাঁ, যদি এসব শর্তাবলী ঠিকভাবে পাওয়া যায় তাহলে বিয়ে শুদ্ধ বলে গণ্য হবে। কেননা হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ثَلَاثٌ جَدُّهُنَّ جَدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جَدُّ: النِّكَاحُ وَالطَّلَاقُ وَالرِّجْعَةُ
“তিনটি বিষয়ে কথাবার্তা গুরুতর বলেই বিবেচিত হবে- চাই তা গুরুত্বের সাথে বলা হোক বা রসিকতা বশত বলা হোক। যথা: বিয়ে, তালাক ও তালাক প্রত্যাহার।” [আবু দাউদ,তিরমিযি, সহিহুল জামে:৩০২৭-শাইখ আলবানি]
সুতরাং বিয়ে-তালাকের মত মানব জীবনের সিরিয়াস এবং অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাসি-তামাশা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এর সাথে মানুষের ইজ্জত-সম্ভ্রমের পাশাপাশি হালাল-হারাম সংক্রান্ত অনেক বিধিবিধান এবং পরস্পরের বিভিন্ন দেনা-পাওনা ও হক জড়িত। যেভাবে ইসলামের কোন বিধান নিয়ে কেউ যদি হাসি-তামাশা করে তাহলে সে ইসলাম থেকেই বের হয়ে যাবে। (মুরতাদ বা ইসলাম চ্যুত বলে পরিণত হবে)। এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন, সূরা তওবা-এর ৬৫ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা।
মোটকথা, সবকিছু নিয়ে হাসি- তামাশা করা সংগত নয়। অতএব এ বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।
শাইখ আলবানি রা.কে প্রশ্ন করা হয়: নাটক-অভিনয়ের মধ্যে কি বিয়ে সংঘটিত হবে?
তিনি বলেন,
نعم إذا توفرت الشروط العقد الشرعي يقع لأن الصحيح من قولي العلماء أن الهزل في النكاح وفي الطلاق وفي العتاق نافد واقع فإذا توفرت الشروط تحقق النكاح شاءوا أم أبوا-سلسلة الهدى والنور شريط رقم 201).
“হ্যাঁ, যদি আকদ সম্পন্ন হওয়ার শর্তাবলী পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া যায় তাহলে বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে। কারণ আলেমদের দুটি অভিমতের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ মতে বিয়ে, তালাক এবং দাস মুক্তির ক্ষেত্রে হাসি-মজাকও বাস্তবায়িত হবে। সুতরাং যদি শর্তাবলী সঠিকভাবে পাওয়া যায় তাহলে বিয়ে বাস্তবায়িত হয়ে যাবে-চাই তারা পছন্দ করুক অথবা না করুক।” [আল হুদা ওয়ান নূর সিরিজ। ক্যাসেট নম্বর: ২০১]
উল্লেখ্য যে, নাটক-সিনেমায় এসব কার্যক্রম হারাম। কেননা, এখানে বিয়ের মত মানব জীবনের এমন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি বিধানকে বিনোদন ও হাসি-তামাশার খোরাকে পরিণত করা হয়। তাছাড়া অভিনয় মানেই মিথ্যার আশ্রয়। এখানে অবাস্তবকে বাস্তব এবং অসত্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়াও এতে নানা ধরণের গর্হিত কাজ সংঘটিত হয়। সুতরাং নাটক-সিনেমার মধ্যে বিয়ে নিয়ে তামাশা বন্ধ হওয়া জরুরি। আল্লাহু আলম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

আভাস মাল্টিমিডিয়া

Fonuder & Director: Kaji Asad Bin Romjan Head Office: The Holy Quran Islamic School Kalitola, Sadar, Dinajpur, Bangladesh. Call: 01710-649751 ই-মেইল: avasmultimedia@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আভাস মাল্টিমিডিয়া
স্কুলের এক অনুষ্ঠানে আমরা নাটিকায় অভিনয় করি। এতে বিয়ের অভিনয় করা হয় এবং কবুল‌ও বলা হয়। এতে কি বাস্তবে বিয়ে হয়েছে?
0:00 0:00
1.0x