সেজদা অবস্থায় দুআ, সেজদায়ে শোকর এবং সেজদায়ে তিলাওয়াতের পদ্ধতি, দুআ ও আহকাম
▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬
প্রশ্ন: ১ নামাজে সেজদারত অবস্থায় দুয়া সবচেয়ে বেশি কবুল হয়। কিন্তু কীভাবে দুআগুলো পড়তে হবে? সিজদার তাসবিহ -সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা ৩ বার পড়ার পর কি দুআ পড়তে হবে এবং কোন কোন দুআ পড়তে হয়?
প্রশ্ন: ২ কুরআন তিলাওয়াত-এর সময় সেজদার আয়াত পেলে অথবা সেজদায় শোকর দিলে সেজদারত অবস্থায় কি শুধু ৩ বার সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা পড়লেই হবে না কি সেই সাথে অন্যান্য দুআও পড়া যাবে যেমন নামাজের সেজদা অবস্থায় পড়া হয়?
উত্তর:
নিম্নে সেজদা অবস্থায় দুআর পদ্ধতি, সেজদায়ে শোকর এবং সেজদায়ে তিলাওয়াতের পদ্ধতি, দুআ ও হুকুম-আহকাম সংক্ষেপে আলোচনা করা হল:
সেজদা অবস্থায় অধিক পরিমাণে দুআ করার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ، فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ
“সেজদারত অবস্থায় বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী থাকে। তাই সেজদারত অবস্থায় বেশি বেশি দুআ করো।” [সহীহ মুসলিম]
অন্য এক হাদিসে এসেছে :
أَلَا وَإِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَقْرَأَ الْقُرْآنَ رَاكِعًا، أَوْ سَاجِدًا، فَأَمَّا الرُّكُوعُ، فَعَظِّمُوا فِيهِ الرَّبَّ عَزَّ وَجَلَّ وَأَمَّا السُّجُودُ، فَاجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ، فَقَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ
“শুনে রাখো, রুকূ বা সেজদাবস্থায় তেলাওয়াত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। তাই রুকু অবস্থায় তোমরা তোমাদের রবের স্তুতি জ্ঞাপন করো আর সেজদাবস্থায় খুব দুআ করো। কেননা সেজদা অবস্থা দুআ কবুলের উপযুক্ত সময়।” [সহীহ মুসলিম]
যে কোন সালাতে সেজদা অবস্থায় প্রথমে হাদীসে বর্ণিত সেজদার একাধিক দুআ ও তাসবিহ এর মধ্য থেকে এক বা একাধিক দুআ ও তাসবীহ পাঠ করা। যেমন: সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা (তিন বা ততোধিক বার)
তারপর কুরআন-হাদিসের যত দুআ মুখস্থ আছে সেগুলো পাঠ করা। এমনকি নিজের প্রয়োজনের কথা তুলে ধরে নিজ ভাষায়ও দুআ করা যায়।
(এ ক্ষেত্রে নিজ ভাষায় দুআ করার ব্যাপারে ইতোপূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।)
▃▃▃▃▃▃▃▃
যে কোন সুসংবাদ বা দু:সংবাদ থেকে মুক্তির খবর পাওয়ার সাথে সাথে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায়ের উদ্দেশ্যে একটি সেজদা দেয়াকেই সেজদায়ে শোকর বা শুকরিয়া আদায়ের সেজদা বলা হয়।
এর পদ্ধতি হল, যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় সাথে সাথে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেজদায় লুটিয়ে পড়বে এবং এতে সেজদার বিভিন্ন দুআ ও তাসবিহ পাঠ করবে (যেমন: সুবহানা রাব্বিয়াআল আ’লা)।
▃▃▃▃▃▃▃▃
কুরআনের সেজদার আয়াত সমূহ (১৪টি মতান্তরে ১৫টি) পাঠ করলে সেজদা দেয়া সুন্নত। নিম্নে এর পদ্ধতি ও বিধিবিধান তুলে ধরা হল:
আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের বেলা তিলাওয়াতের সেজদাতে এই দু‘আ পাঠ করতেন:
سَجَدَ وَجْهِيَ لِلَّذِي خَلَقَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ
উচ্চারণ: সাজাদা ওয়াজহিয়া লিল্লাযী খালাকাহু ওয়া শাক্কা সাম’আহু ওয়া বাসারাহু বিহাওলিহী ওয়া কুওয়াতিহ।
অর্থ: “আমার চেহারা সেই মহান সত্তার জন্য সেজদা করলো যিনি নিজ শক্তি ও সামর্থ্যে একে সৃষ্টি করেছেন এবং এতে শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দান করেছেন।” [সহীহ। সহীহ আবু দাউদ/১২৭৩]
নিম্নোক্ত দুআটিও পড়া হাদিস সম্মত:
اللَّهُمَّ اكْتُبْ لِي بِهَا عِنْدَكَ أَجْرًا وَضَعْ عَنِّي بِهَا وِزْرًا وَاجْعَلْهَا لِي عِنْدَكَ ذُخْرًا وَتَقَبَّلْهَا مِنِّي كَمَا تَقَبَّلْتَهَا مِنْ عَبْدِكَ دَاوُدَ
‘‘হে আল্লাহ! এর মাধ্যমে আপনার নিকট আমার জন্য সওয়াব লিখে নিন। এর মাধ্যমে আমার পাপ দূরীভূত করুন, এটিকে আমার সঞ্চয় বলে গ্রহণ করুন এবং আমার থেকে এটিকে এভাবে কবুল করুন যেভাবে আপনি আপনার বান্দা দাউদ (আলাইহিস সালাম) থেকে কবুল করেছিলেন।’’
[হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে ইবনে আব্বাস রা. হতে। সুনান তিরমিযী (ইফা), অধ্যায়: ৬/ সফর, পরিচ্ছদ: সিজদা-এ কুরআনের দুআ। এ হাদিসটিকে কোন কোন মুহাদ্দিস জঈফ বলেছেন। তবে ইবনে খুযাইমা, হাকিম ও ইবনে হিব্বান প্রমুখ সহীহ বলেছেন এবং আলবানি হাসান বলেছেন।]
তারপর আল্লাহু আকবার বলে সেজদা থেকে উঠে পুনরায় সালাতের জন্য উঠে দাঁড়ানো।
কিন্তু যে যে সকল সালাতে উচ্চ আওয়াজে কিরাআত নেই সে সকল সালাতে (যেমন: জোহর ও আসর সালাত) ইমাম সেজদার আয়াত তেলাওয়াত করলেও সেজদা দিবে না। কারণ এতে মুক্তাদীদের সালাতে তালগোল লেগে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
كَانَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ عَلَيْنَا القُرْآنَ, فَإِذَا مر بِالسَّجْدَةِ كبر وَسَجَدَ وَسَجَدْنَا
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট কুরআন পাঠ করতেন। অত:পর তিনি সেজদার আয়াত এলে তাকবির দিয়ে সেজদা দিতেন; আমরাও সেজদা দিতাম।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে একমাত্র তাঁর উদ্দেশ্যে অধিক পরিমাণে সেজদার মাধ্যমে তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায়কারী নৈকট্য প্রাপ্ত বান্দা হিসেবে কবুল করে নিন। আমিন।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।