আভাস মাল্টিমিডিয়া

ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়েতে 'মালা বদল'


প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়েতে 'মালা বদল'
ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়েতে 'মালা বদল'
-------------------------
প্রশ্ন: বর্তমানে প্রচলিত মুসলিম সমাজে বিয়েতে বর কনেকে আর কনে বরকে মালা পরিয়ে দেয় (মালা বদল করে)। এটা ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ কি না জানতে চাই।
উত্তর:
মুসলিম সমাজে বিয়েতে এই 'মালা বদল' প্রথা ব্যাপাকভাব প্রচলিত না থাকলেও কোনও স্থানে তা প্রচলিত আছে। যাহোক, এ প্রথাটা মূলত: হিন্দু বিয়ের রীতি। হিন্দুদের ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী মতে মালা বদল এর মাধ্যমে বর ও কনে একে অন্যকে জীবনসঙ্গী হিসাবে মেনে নেয়।
হিন্দু বিয়ের নিয়মে বলা হয়েছে: "শুভ সময় এগিয়ে আসার সাথে সাথে নববধূ পরিবারের ৪-৫জন পুরুষ তার নিখুঁত পিড়ি (পীডি ) নিয়ে বসে থাকে। বরকে কেন্দ্র করে সাত বার কনেকে পিরিতে বসিয়ে ঘোরান হয়-যাতে নববধূ এবং বর সারাজীবন "নিরাপদে বেঁধে রাখা হয় পরস্পরের সাথে"।
অবশেষে, নববধূ এবং বরকে মুখোমুখি হতে হয় এবং কন্যার মুখের সামনে থেকে পান পাতা সরিয়ে ফেলার সময় দুইজনে দুজনের মুখমুখি হয়। একে শুভ দৃষ্টি বলা হয়। শঙ্খ ধ্বনি এবং "উলুধ্বনি"দিয়ে "মালা বদল"নামে অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয়।" (সূত্র: উইকিপিডিয়া)
আরো বলা হয়েছে, "সাজ বিয়েবিয়ের মূল পর্ব। এই পর্বেই কনে আর বরকে ৭ বার প্রদক্ষিণ করে বরণ করে নেয়। বরণ শেষে বর-কনে দু জনের দিকে শুভ দৃষ্টি দেয়। একই সময় মালা বদল করা হয়। পরে পুরোহিত মন্ত্র উচ্চারণ করে বর-কনের ডান হাত একত্রে করে কুশ দিয়ে বেধে দেন।" (সূত্র: bdmorning)
ইসলামের সাথে এই প্রথার দ্রুততম কোন সম্পর্ক নেই। বরং ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়ের অভিভাবকের সম্মতি সাপেক্ষে মোহরানা নির্ধারণপূর্বক দু জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ঈজাব-কবুল (প্রস্তাব এবং গ্রহন) এর মাধ্যমে একে অপরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
সুতরাং তথাকথিত এই 'মালা বদল' প্রথা মুসলিমদের জন্য পালন করা বৈধ নয়। অন্যথায় তা অন্য ধর্মের সাদৃশ্য অবলম্বন হিসেবে পরিগণিত হবে যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
"যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে।" [আবু দাউদ, সহীহুল জামি‘ ৬১৪৯, ইরওয়া ২৬৯১]
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অন্য ধর্মের অন্ধ অনুকরণ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
আল্লাহু আলাম।
------------------
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার সৌদি আরব।

আভাস মাল্টিমিডিয়া

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়েতে 'মালা বদল'

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়েতে 'মালা বদল'
-------------------------
প্রশ্ন: বর্তমানে প্রচলিত মুসলিম সমাজে বিয়েতে বর কনেকে আর কনে বরকে মালা পরিয়ে দেয় (মালা বদল করে)। এটা ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ কি না জানতে চাই।
উত্তর:
মুসলিম সমাজে বিয়েতে এই 'মালা বদল' প্রথা ব্যাপাকভাব প্রচলিত না থাকলেও কোনও স্থানে তা প্রচলিত আছে। যাহোক, এ প্রথাটা মূলত: হিন্দু বিয়ের রীতি। হিন্দুদের ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী মতে মালা বদল এর মাধ্যমে বর ও কনে একে অন্যকে জীবনসঙ্গী হিসাবে মেনে নেয়।
হিন্দু বিয়ের নিয়মে বলা হয়েছে: "শুভ সময় এগিয়ে আসার সাথে সাথে নববধূ পরিবারের ৪-৫জন পুরুষ তার নিখুঁত পিড়ি (পীডি ) নিয়ে বসে থাকে। বরকে কেন্দ্র করে সাত বার কনেকে পিরিতে বসিয়ে ঘোরান হয়-যাতে নববধূ এবং বর সারাজীবন "নিরাপদে বেঁধে রাখা হয় পরস্পরের সাথে"।
অবশেষে, নববধূ এবং বরকে মুখোমুখি হতে হয় এবং কন্যার মুখের সামনে থেকে পান পাতা সরিয়ে ফেলার সময় দুইজনে দুজনের মুখমুখি হয়। একে শুভ দৃষ্টি বলা হয়। শঙ্খ ধ্বনি এবং "উলুধ্বনি"দিয়ে "মালা বদল"নামে অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয়।" (সূত্র: উইকিপিডিয়া)
আরো বলা হয়েছে, "সাজ বিয়েবিয়ের মূল পর্ব। এই পর্বেই কনে আর বরকে ৭ বার প্রদক্ষিণ করে বরণ করে নেয়। বরণ শেষে বর-কনে দু জনের দিকে শুভ দৃষ্টি দেয়। একই সময় মালা বদল করা হয়। পরে পুরোহিত মন্ত্র উচ্চারণ করে বর-কনের ডান হাত একত্রে করে কুশ দিয়ে বেধে দেন।" (সূত্র: bdmorning)
ইসলামের সাথে এই প্রথার দ্রুততম কোন সম্পর্ক নেই। বরং ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়ের অভিভাবকের সম্মতি সাপেক্ষে মোহরানা নির্ধারণপূর্বক দু জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ঈজাব-কবুল (প্রস্তাব এবং গ্রহন) এর মাধ্যমে একে অপরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
সুতরাং তথাকথিত এই 'মালা বদল' প্রথা মুসলিমদের জন্য পালন করা বৈধ নয়। অন্যথায় তা অন্য ধর্মের সাদৃশ্য অবলম্বন হিসেবে পরিগণিত হবে যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
"যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে।" [আবু দাউদ, সহীহুল জামি‘ ৬১৪৯, ইরওয়া ২৬৯১]
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অন্য ধর্মের অন্ধ অনুকরণ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
আল্লাহু আলাম।
------------------
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার সৌদি আরব।

আভাস মাল্টিমিডিয়া

Fonuder & Director: Kaji Asad Bin Romjan Head Office: The Holy Quran Islamic School Kalitola, Sadar, Dinajpur, Bangladesh. Call: 01710-649751 ই-মেইল: avasmultimedia@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আভাস মাল্টিমিডিয়া
ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়েতে 'মালা বদল'
0:00 0:00
1.0x