[২২ শাওয়াল, ১৪৪৭ হি. মোতাবেক ১০ এপ্রিল, ২০২৬ পবিত্র হারামে মাক্কীর (কা‘বা) জুমআর খুৎবা প্রদান করেন শায়খ ড. ছালেহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু হুমাইদ হাফিযাহুল্লাহ।উক্ত খুৎবা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন ড. আব্দুল্লাহ বিন খোরশেদ। খুৎবাটি ‘মাসিক আল-ইতিছাম’-এর সুধী পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হলো।]
প্রথমখুৎবা:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—যিনি চিরস্থায়ী ও অবিনশ্বর, মহাপবিত্র রাজাধিরাজ। একমাত্র তাঁরই প্রশংসা, যিনি বিশ্বজগতকে সর্বোত্তম নিয়মে সৃষ্টি করেছেন। আমি তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর অগণিত নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যিনি সৃষ্টিজগতের মধ্যে সর্বোত্তম। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ, সম্মানিত ছাহাবীগণ এবং তাদের অনুসারীদের উপর অগণিত দরূদ, সালাম ও বরকত অবতীর্ণ করুন।
অতঃপর, হে মানুষসকল! আমি নিজেকে ও আপনাদেরকে আল্লাহভীতি অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি। সুতরাং আপনারা আল্লাহকে ভয় করে চলুন। গোপন ও প্রকাশ্য সকল অবস্থায় আল্লাহকে ভয় করুন। রাগ ও সন্তুষ্টি উভয় অবস্থায় সত্যকে আঁকড়ে ধরুন। দারিদ্র্য ও সচ্ছলতা উভয় অবস্থায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করুন। বন্ধু অথবা শত্রু সবার সাথে ইনছাফ বজায় রেখে চলুন।
আর জেনে রাখুন! জান্নাত ব্যতীত সব নেয়ামতই তুচ্ছ, আর জাহান্নামের বিপদের তুলনায় অন্য সব বিপদ কিছুই না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বণ্টনে সন্তুষ্ট থাকে, তার কিছু হারানোতে দুঃখ থাকে না। আর কেবল সেই অন্যের পাপকে অনেক বড় মনে করে, যে নিজের পাপকে ভুলে যায়। শিষ্টাচারই সর্বোত্তম উত্তরাধিকার, আর উত্তম চরিত্রই শ্রেষ্ঠ সঙ্গী। মহান আল্লাহ বলেন, ‘(হে নবী!) আপনি ক্ষমার নীতি গ্রহণ করুন, সত্য-সঠিক কাজের আদেশ দিন আর জাহেলদেরকে এড়িয়ে চলুন’ (আল-আ‘রাফ, ৭/১৯৯)।
হে মুসলিমগণ! আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহতে উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য রয়েছে উপদেশ, আর যারা তা থেকে বিরত থাকে তাদের জন্য রয়েছে সতর্কবার্তা। এটি আলোকিত হৃদয়কে জাগ্রত করে এবং সচেতন ব্যক্তিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ক্বলব প্রবৃত্তিকে দমন করার মাধ্যমেই তা জীবিত হয়, আর সত্যিকারের আল্লাহভীতি গাফলতিকে দূর করে এবং সতর্কতার তির অলসতাকে বিদূরিত করে। যে ব্যক্তি নিজের ভুলত্রুটি স্মরণ করে, সে অনুতপ্ত হয় এবং যে নিজের পরিণতি নিয়ে চিন্তা করে, সে দৃঢ়সংকল্প হয়।
অতএব, আপনারা উপদেশ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের হৃদয়কে জীবিত করুন, সতর্কবাণীর মাধ্যমে তা নমনীয় করুন এবং জ্ঞানগর্ভ কথায় তা আলোকিত করুন।
যদি আপনারা প্রতিপালকের অবাধ্য হয়ে চলে থাকেন, তবে ক্বিয়ামত দিবসের শাস্তিকে ভয় করুন। আর সর্বোপরি আপনারা উপদেশদাতাদের ভালোবাসুন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ স্বীয় কিতাবে পূর্ববতী কিছু জাতির নিন্দা করেছেন এবং তাতে তাদের মন্দ কথাকে সংরক্ষণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা বলল, তুমি আমাদের উপদেশ দাও অথবা না দাও, উভয়ই আমাদের জন্য সমান। এসব (কথাবার্তা বলা) পূর্ববর্তী লোকদের অভ্যাস ছাড়া আর অন্য কিছুই না। আর আমরা আযাবপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হব না’ (আশ-শুআরা, ২৬/১৩৬-১৩৮)। আর অন্য এক জাতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদেরকে সদুপদেশ দিয়েছি, কিন্তু সদুপদেশ দানকারীদের তোমরা পছন্দ কর না’ (আল-আ‘রাফ, ৭/৭৯)।
হে ভ্রাতৃমণ্ডলী! সৌভাগ্য তার জন্য, যে সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই নিজের ভুলগুলো সংশোধন করে নেয়। সুসংবাদ তার জন্য, যে আল্লাহভীতি অবলম্বন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে। অভিনন্দন তার জন্য, যে মন্দ কাজের পর ভালো কাজ করে।
আর ক্ষতিগ্রস্ত সে, যে নিজের আখেরাতের মূল্যবান বিষয়গুলো দুনিয়ার তুচ্ছ জিনিসের বিনিময়ে বিক্রি করে। আফসোস তার জন্য, যে আল্লাহর হক্বের ব্যাপারে অবহেলা করে।
এই দুনিয়া একটি সফর মাত্র, তাই জীবন নিয়ে কালক্ষেপণ থেকে সাবধান থাকুন। দুনিয়ার দিনগুলো দ্রুত চলে যাওয়াই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় উপদেশদাতা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর ক্বিয়ামতের ব্যাপারটি শুধু চোখের পলকের ন্যায় কিংবা তা আরও নিকটবর্তী। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান’ (আন-নাহল, ১৬/৭৭)।
মৃত্যু সর্বদা আমাদের দিকে ওত পেতে আছে, আর প্রতিনিয়তই তা জীবনগুলোকে কেড়ে নিচ্ছে। আমাদের চোখগুলো স্থির হয়ে আছে, আর অন্তরগুলো সৎকর্মের প্রতিযোগিতা থেকে বিমুখ! তবে কি আমাদের দৃষ্টিশক্তি অন্ধ হয়ে গেছে? নাকি আমরা নিজেদের বিপদাপদ থেকে নিরাপদ মনে করছি?
হে আল্লাহর বান্দাগণ! দুনিয়ার জীবন যেন আপনাদের প্রতারিত না করে, কারণ এর সুখস্বাচ্ছন্দ্য স্থায়ী নয়। আর দীর্ঘ আশা যেন আপনাদের ধোঁকায় না ফেলে, কারণ মৃত্যু অবধারিত।
আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আপনাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এবং যিনি তাঁকে প্রেরণ করেছেন তাঁর সম্পর্কে, কুরআন সম্পর্কে এবং যিনি তা নাযিল করেছেন তাঁর সম্পর্কে। প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার আমল অনুযায়ী প্রতিফল দেওয়া হবে।
জীবনই মূল পুঁজি এবং এর যে অংশ চলে গেছে, তা আর ফিরে আসবে না। আজকের দিন আমলের দিন, হিসাবের দিন নয় এবং আগামীকাল হবে হিসাবের দিন, আমলের সুযোগ থাকবে না।
সুতরাং এখনই কবর ও তার ভয়াবহতার জন্য প্রস্তুত হোন, ফেরেশতা ও তাদের প্রশ্নের জন্য প্রস্তুত হোন। কে আছে, যে তার আমলনামা ডান হাতে পাবে? আর কে আছে, যে তা বাম হাতে গ্রহণ করবে?
হে ভ্রাতৃমণ্ডলী! আপনারা যখন সংশোধন ও আত্মসমালোচনার অবস্থায় আছেন, তখন আল্লাহ তাআলার এই বাণীটি নিয়ে একটু চিন্তা করুন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর অবশ্যই তারা বহন করবে তাদের বোঝা এবং তাদের বোঝার সাথে আরো কিছু বোঝা। আর তারা ক্বিয়ামতের দিন অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে সে সম্পর্কে, যা তারা মিথ্যা বানাত’ (আল-আনকাবূত, ২৯/১৩)। এই আয়াতটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন। তারপর খেয়াল করুন সেই ব্যক্তির অবস্থা, যার অন্তরকে আল্লাহ গাফেল করে দিয়েছেন—সে মানুষের অধিকার হরণ করে, অন্যায়ভাবে তাদের সম্পদ ভোগ করে এবং অহেতুক তাদের সম্মানহানি করে (গীবত করে)।
আর লক্ষ্য করুন কিছু মানুষের অবস্থা, যারা বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই যেকোনো তথ্য শেয়ার করে, নিশ্চিত না হয়েই কথা বলে, সত্যতা যাচাই না করেই প্রচার করে এবং তদন্ত ছাড়াই ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেয়।
অতএব, এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করুন এবং ভাবুন, ক্বিয়ামতের দিন বান্দার কী অবস্থা হবে, যখন সে হঠাৎ দেখতে পাবে যে, তার আমলনামায় এমন ত্রুটিবিচ্যুতি ও গুনাহ লিপিবদ্ধ আছে, যা সে নিজে সরাসরি করেনি! তখন সে বহন করবে সেই কাজের পাপ, তা প্রচার করার পাপ, যারা তা বিশ্বাস করেছে তাদের পাপ, যারা তা শুনেছে তাদের পাপ, যারা তা দেখেছে তাদের পাপ, যাদেরকে তা বিভ্রান্ত করেছে তাদের পাপ, যাদের সংকল্প দুর্বল করেছে তাদের পাপ এবং যাদেরকে সত্য থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে বা মিথ্যাকে তাদের কাছে সুন্দর করে তুলেছে এসব কিছুর পাপ।
হে মুসলিমগণ! বিপদাপদের মধ্যেও দৃঢ় থাকাই আসল, সুস্থতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের সময়ে তো সবাই দৃঢ় থাকতে পারে। আর বিপদের মধ্যেও সন্তুষ্টি প্রকাশই প্রকৃত গুণ, আরাম-আয়েশের সময়ে তো এমনিতেই সবাই সন্তুষ্ট থাকে। যখন চাইতেই পাওয়া যায়, তখন সবাই আত্মবিশ্বাসী হতে পারে; কিন্তু যখন তা বিলম্বিত হয়, তখন কয়জনই বা আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারে?
বাহ্যিকভাবে সবাইকে ভালো মানুষ মনে হলেও, একান্ত নির্জনে আল্লাহই জানেন তারা কী করছে। আল্লাহ সেইসব মানুষের প্রতি রহম করুন, যাদের মনোবল উচ্চ, হৃদয় পবিত্র এবং যারা তাদের প্রতিপালকের বিধান মেনে চলে। কাজেই আপনারা তাদের মতো হওয়ার চেষ্টা করুন এবং তাদের কাজকে অনুসরণ করুন।
হে আল্লাহর বান্দা! মানুষের সন্তুষ্টির জন্য কখনো সত্যকে ছেড়ে দেবেন না, আর মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নিজেকে মুখোশে আড়াল করবেন না। শুনে রাখুন! বান্দার জন্য সবচেয়ে উত্তম রিযিক্ব হলো অন্তরের প্রশান্তি, আলোকিত বিবেক-বুদ্ধি, হৃদয়ের পবিত্রতা এবং নিরাপদ চিন্তা লাভ করা। আর সবচেয়ে উত্তম অর্জন হলো পিতা-মাতার দু‘আ এবং একজন খাঁটি ও আন্তরিক বন্ধুর সহানুভূতি পাওয়া। আর প্রকৃত সৎ ভাই তো সে-ই, যে আপনার অনুপস্থিতিতে শূন্যতা অনুভব করে, আপনি ভুল করলে আপনাকে সতর্ক করে এবং দু‘আ করার সময় আপনাকে ভুলে যায় না।
হে ভ্রাতৃমণ্ডলী! কৃপণ ব্যক্তি সম্পদ জমা করে, কিন্তু সে যা জমা করে তা অন্যের কাছে চলে যায়। আর পরনিন্দাকারী ব্যক্তি ভালো কাজ করে, কিন্তু তার ছওয়াব অন্যের কাছে চলে যায়। আল্লাহর আনুগত্যের কষ্ট ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তার প্রতিদান স্থায়ী; পক্ষান্তরে গুনাহের আনন্দ ক্ষণিক, কিন্তু তার শাস্তি স্থায়ী। ফুযাইল ইবনু ইয়ায রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, তোমার কাছে কোনো গুনাহ যত ছোট মনে হবে, আল্লাহর কাছে তা ততই বড়। আর তোমার কাছে যত বড় মনে হবে, আল্লাহর কাছে তা ততই ছোট।
হে আমার প্রিয়জনেরা! আপনাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর। আপনাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সে, যে কুরআন নিজে শেখে এবং অন্যকে শেখায়। আপনাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সে, যে নিজের পরিবারের কাছে সবচেয়ে উত্তম। আর মানুষের জন্য উপকারী ব্যক্তিই সর্বোত্তম মানুষ।
বন্ধুদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সে, যে তার বন্ধুর কাছে সবচেয়ে ভালো। প্রতিবেশীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সে, যে তার প্রতিবেশীর জন্য সবচেয়ে ভালো। আর আপনাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সে, যে ছালাতের কাতারে সবচেয়ে নম্র ও কোমলভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়।
অতএব, আপনারা সৎকাজের মাধ্যমে নিজেদের উপকার করুন। যাকাত ও দান-ছাদাক্বার মাধ্যমে আপনাদের সম্পদের সঠিক ব্যবহার করুন। আর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে তাদের ভুলত্রুটি উপেক্ষা করে উত্তম আচরণ করুন। ভালো কাজের দিকে দ্রুত অগ্রসর হোন, ইবাদতে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করুন। যা আপনাদের উপকারে আসে, তা অর্জনের চেষ্টা করুন; আল্লাহর কাছে বেশি বেশি সাহায্য চান এবং কখনোই নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করবেন না। কারণ শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে দুর্বল মুমিনের তুলনায় উত্তম ও অধিক প্রিয়, যদিও উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাকে সঠিক পথ দেখান, তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং তাকে রক্ষা করেন। যে ব্যক্তি নিশ্চিত জানে যে তাকে একদিন পরকালের পথে যাত্রা করতে হবে, সে অবশ্যই তার জন্য প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত থাকবে।
نفعني اللهُ وإيَّاكم بهديِ كتابِه، وبسنَّةِ نبيِّه محمدٍ صلى الله عليه وسلم
দ্বিতীয়খুৎবা:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সবকিছু অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। যে তাঁর হেদায়াত অনুসরণ করে, সে কখনো পথভ্রষ্ট হয় না এবং দুর্ভোগে পতিত হয় না। আমি তাঁর প্রশংসা করি, তিনি পবিত্র ও মহান। আমি তাঁর শুকরিয়া আদায় করি, তিনি একমাত্র কৃতজ্ঞতার উপযুক্ত।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, তিনি মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী। মহান আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর ছাহাবীগণের উপর দরূদ, সালাম ও বরকত নাযিল করুন।
অতঃপর, হে আমার বন্ধুগণ! আপনারা নিজেদের সমাজকে রক্ষা করুন, নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে সচেষ্ট হোন এবং এমন সব বিষয় থেকে সতর্ক থাকুন, যা আপনাদের ঐক্যে ফাটল ধরায়। কারণ এই সমাজে সুযোগসন্ধানী ও অন্যের ভুল অনুসন্ধানকারী লোকের অভাব নেই। নিশ্চয়ই মুনাফেক্ব ব্যক্তি অশ্লীলতা ও অনৈতিকতা ছড়ায়, আর সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি ছোট ভুলকেও বড় করে তোলে।
আপনারা আনুগত্য ও শৃঙ্খলার সাথে দৃঢ় থাকুন; কারণ যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে বের হয়ে যায় এবং জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তার মৃত্যু জাহেলিয়াতের মৃত্যুর ন্যায়। কাজেই আপনারা আল্লাহকে ভয় করে চলুন।
হে পরম করুণাময় আল্লাহ! আমাদের অন্তরগুলোকে তওবার আলোয় উদ্ভাসিত করুন, আপনার দিকে ফিরে আসার সৌভাগ্য দান করুন। আমাদের জন্য আপনার রহমত, কবুলিয়্যাত ও দু‘আ কবুলের দরজাগুলো উন্মুক্ত করে দিন।
হে দয়াময় প্রতিপালক! আমাদের ইবাদতসমূহ কবুল করুন, আমাদের প্রার্থনাগুলো গ্রহণ করুন, আমাদের আমলসমূহকে পরিশুদ্ধ করুন, আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন, আমাদের ত্রুটিবিচ্যুতিগুলো দূর করে দিন, আমাদের তওবা কবুল করুন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া বর্ষণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আপনার মতামত লিখুন