দিনাজপুর    বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
আভাস মাল্টিমিডিয়া

হে মুসলিম, সাবধান! মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে হাদিস অস্বীকার করার ফিতনা

হে মুসলিম, সাবধান! মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে হাদিস অস্বীকার করার ফিতনাবর্তমান যুগে অগণিত ফিতনার মাঝে একটি বড় ফিতনা হলো, হাদিস অস্বীকার করার ফিতনা। এই হাদিস অস্বীকার কারীর দল তাদের নোংরা নখর বের করে সরাসরি ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হাদিসে রাসূলের উপর ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করেছে। এ জন্য তারা ফেসবুক, ওয়েবসাইট, ওয়াজ মাহফিল, সভা-সেমিনার ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের এই জঘন্য অপ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।সাধারণ মানুষকে তারা হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে সন্দিহান করে তুলছে। কিছু হাদিসের অপব্যাখ্যা করে তার মানহানি করছে। হাদিসকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছে। তারা বলতে চায়, শুধু কুরআন অনুসরণ করতে হবে; হাদিস মানার প্রয়োজন নাই। তারা হাদিস বা সুন্নাহ শব্দটি শুনতে চায় না। যার কারণে এরা নিজেদেরকে নাম দিয়েছে 'আহলে কুরআন'।এটি মূলত: ইসলামের দুশমনদের এক ঘৃণ্য চক্রান্ত। কারণ ইসলামের দুশমনরা ভালো করে জানে, হাদিস থেকে মুসলিম উম্মাহকে দূরে সরাতে পারলে বা হাদিসের ব্যাপারে মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারলে তাদেরকে খুব সহজে ইসলাম থেকে দূরে সারানো সম্ভব।সুবহান আল্লাহ! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যৎ বাণী কিভাবে সত্যে পরিণত হয়েছে!তিনি বলেছেন,ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه لا يوشك رجل شبعان على أريكته يقول عليكم بهذا القرآن فما وجدتم فيه من حلال فأحلوه وما وجدتم فيه من حرام فحرموه“জেনে রাখ, আমি কুরআন প্রাপ্ত হয়েছি এবং তার সাথে আরও অনুরূপ আরেকটি জিনিস (তা হল হাদিস)। অচিরেই দেখা যাবে, এক লোক ভরা পেটে তার খাটের উপর থেকে বলবে: তোমরা এই কুরআনকে আঁকড়ে ধর। এতে যে সকল বস্তু হালাল পাবে সেগুলোকে হালাল মনে কর, আর যে সব বস্তুকে হারাম পাবে সেগুলোকে হারাম মনে কর।“ [আবু দাউদ, মিকদাদ ইবনে মাদিকারাব থেকে বর্ণিত, সনদ সহীহ]উক্ত হাদিসটি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়তের সত্যতারস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। কারণ, নবুওয়তের যুগ পার হওয়ার পরপরই ইহুদিদের দোষর শিয়া-রাফেযী ও খারেজী সম্প্রদায়ের হাত ধরে ইসলামের ছত্র ছায়ায় বিভিন্ন দল-উপদল ও ফিরকা তৈরি হয়। সে সব ফিরকার মধ্যে একটি ফিরকা হল, হাদিস অস্বীকার কারী আহলে কুরআন ফিরকা। যাদের কুফরি ও ভ্রান্ত মতবাদ হল, কুরআনই যথেষ্ট এবং হাদিস ও সু্ন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করে।উনিশ শতকের শেষ দিকে এবং বিশ শতকের প্রথম দিকে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে নতুন করে এই ভ্রান্ত মতবাদের উৎপত্তি হয়। তারপর তা পাকিস্তানে জায়গা নেয়। এরপরে ক্রমান্বয়ে তা আরও বিভিন্ন মুসলিম দেশে সংক্রমিত হতে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশ তাদের জমজমাট কার্যক্রম রয়েছে। এমতের অনুসারীদের কেউ কেউ ইউরোপ-আমেরিকায় বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের এই বিষাক্ত মতবাদ প্রচার করে যাচ্ছে। ফেসবুকে গড়ে তুলেছে বড় বড় পেইজ ও গ্রুপ। আর এদের খপ্পরে পড়ে মাথা নষ্ট করছে এবং ঈমান হারাচ্ছে সাধারণ শিক্ষিত মানুষ। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী যারা দ্বীনের সহিহ জ্ঞান থেকে বঞ্চিত।- আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

হে মুসলিম, সাবধান! মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে হাদিস অস্বীকার করার ফিতনা
নোটিশ