হোয়াটসঅ্যাপের ইমোজি ও ফেরেশতা নির্দেশক প্রতীকের ব্যবহার সংক্রান্ত বিধান
হোয়াটসঅ্যাপের ইমোজি ও ফেরেশতা নির্দেশক প্রতীকের ব্যবহার সংক্রান্ত বিধান- শাইখ আব্দুল আজিজ ফারহানপ্রশ্ন: হোয়াটসঅ্যাপে যেসব ইমোজি বা প্রতীক ব্যবহার করা হয় যেমন বিভিন্ন ধরণের মুখাবয়ব, কিংবা ফেরেশতা বোঝাতে ডানাওয়ালা কোনো মেয়ের ছবি...এগুলো আদান-প্রদান করার বিষয়ে শরিয়তের বিধান কী?উত্তর:প্রিয় বোন, বারাকাল্লাহ ফীক (আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন)হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসেজ কিংবা অনুভূতির ভাব প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত সাধারণ ইমোজি বা প্রতীকী মুখাবয়ব পাঠাতে কোনো সমস্যা নেই। যদিও কিছু আলেম এটিকে নিষিদ্ধ মনে করেন তবে অধিকতর স্পষ্ট ও সঠিক মত হলো, এটি ব্যবহারে কোনো অসুবিধা নেই।কারণ এসব ইমোজি কোনো প্রাণী বা মানুষের প্রকৃত ছবি বা প্রতিচ্ছবি নয়। এগুলো মূলত কয়েকটি সাধারণ রেখা ও বিন্দুর সমষ্টি, যার মাধ্যমে সংক্ষিপ্তভাবে চোখ, নাক বা মুখের ইঙ্গিত করা হয় মাত্র। বাস্তবে মানুষের চেহারা যেভাবে গঠিত হয়, এটি মোটেও সেরকম নয়। তাই সাধারণ অনুভূতির প্রতীক হিসেবে ইমোজি ব্যবহারে কোনো বাধা নেই।তবে ফেরেশতাদের প্রসঙ্গ বোঝাতে দুই ডানাওয়ালা কোনো মেয়ের ছবি বা ইমোজি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ।ফেরেশতাদেরকে নারী রূপ দেওয়া বা আল্লাহর কন্যা মনে করা মুশরিকদের ভ্রান্ত আকিদা। কাফের-মুশরিকদের এই অসত্য ধারণাকে সমর্থন করে ফেরেশতা বোঝাতে ডানাওয়ালা নারীর ছবি ব্যবহার করা কোনো মুসলিমের জন্য জায়েজ হতে পারে না। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ সেইসব মুশরিকদের চরম নিন্দা করেছেন, যারা ফেরেশতাদেরকে নারী হিসেবে গণ্য করত এবং আল্লাহর সাথে কন্যাসন্তান সম্পর্কিত করত।তাছাড়া ফেরেশতাদের প্রকৃত গঠন আমাদের অজানা নয়। আল্লাহ তাআলা তাদের দুই, তিন, চার বা ততোধিক ডানা দান করেছেন; এমনকি হযরত জিবরিল (আলাইহিস সালাম)-এর ছয়শত ডানা রয়েছে। কাজেই কাল্পনিক কোনো নারীর ছবি দিয়ে ফেরেশতা রূপায়ন করা একাধারে মিথ্যাচার ও আকিদাগত অপরাধ।তাই সাধারণ ইমোজি ব্যবহারে শিথিলতা থাকলেও, ফেরেশতাদের প্রতীক হিসেবে ডানাওয়ালা নারীর ছবি ব্যবহার করা থেকে সম্পূর্ণ সতর্ক ও বিরত থাকা আবশ্যক।”[সোর্স: ইউটিউব চ্যানেল: قناة منهج الحق]উত্তর প্রদানে:আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানিদাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব