দিনাজপুর    সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
আভাস মাল্টিমিডিয়া

‘ভার্চুয়াল অটিজম’ কী? অতিরিক্ত মোবাইল ফোনের ব্যবহারে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ



‘ভার্চুয়াল অটিজম’ কী? অতিরিক্ত মোবাইল ফোনের ব্যবহারে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের কারণে শিশুদের মধ্যে সাময়িক ভুলে যাওয়া, মনোযোগের ঘাটতি এবং সামাজিক আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো নানা উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হচ্ছে ‘ভার্চুয়াল অটিজম’। 

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দীর্ঘ সময় মোবাইল, ট্যাবলেট বা টেলিভিশনের স্ক্রিনের সামনে কাটিয়ে দেওয়ার ফলে শিশুদের মানসিক, সামাজিক ও ভাষাগত বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 

এ সম্পর্কে স্পিচ থেরাপিস্ট ড. ফাইজা জানান, ভার্চুয়াল অটিজমের লক্ষণগুলো সাধারণ অটিজমের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। এর সাধারণ কিছু লক্ষণ হলো-

সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: শিশুরা চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ধীরে ধীরে নিজেদের গুটিয়ে নেয় এবং নিজস্ব এক জগতে মগ্ন থাকে।

যোগাযোগ ও ভাষার সমস্যা: শিশুদের কথা বলায় জড়তা বা বিলম্ব দেখা দেয় এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা কমে যায়।

আচরণগত পরিবর্তন: শিশুরা খিটখিটে মেজাজের হয়ে পড়ে এবং তাদের আচরণে একগুঁয়েমি বা জেদি ভাব প্রকাশ পায়।

মনোযোগের অভাব: কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে তারা চরম সমস্যার সম্মুখীন হয়। 

আরও পড়ুনআরও পড়ুনখাবার তালিকা থেকে চিনি একেবারে বাদ দিলে বিপাকীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনবে: গবেষণা

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও উদ্বেগ 

শিশু বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল জব্বার শিশুদের এই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমকে একটি ‘উদ্বেগজনক সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ২ থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের অভিভাবকরা যেন অত্যন্ত সতর্ক থাকেন। এই বয়সের শিশুরা স্ক্রিনে কী দেখছে, তা যেন অবশ্যই তাদের বয়সোপযোগী এবং শিক্ষণীয় হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যাটি মূলত পরিবেশগত এবং অতিরিক্ত প্রযুক্তি-নির্ভরতার কারণে সৃষ্টি হয়। তাই সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। 

অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ 

ভার্চুয়াল অটিজমের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের বেশ কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। এই যেমন- 

স্ক্রিন টাইম সীমিত করা: মোবাইল ফোন, টেলিভিশন এবং ভার্চুয়াল গেমসের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সীমিত করতে হবে। 

গুণগত সময় কাটানো: অভিভাবকদের উচিত শিশুদের ভার্চুয়াল জগতের ওপর ছেড়ে না দিয়ে নিজেরা তাদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানো এবং সরাসরি কথা বলা। 

মাঠের খেলাধুলায় উৎসাহ: মোবাইল গেমসের বিকল্প হিসেবে শিশুদের ঘরের বাইরের ক্রিয়াকলাপ এবং শারীরিক খেলাধুলায় অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। 

সূত্র: সামা টিভি 

বিষয় : ‘ভার্চুয়াল অটিজম’ কী? অতিরিক্ত মোবাইল ফোনের ব্যবহারে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

আপনার মতামত লিখুন

আভাস মাল্টিমিডিয়া

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


‘ভার্চুয়াল অটিজম’ কী? অতিরিক্ত মোবাইল ফোনের ব্যবহারে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের কারণে শিশুদের মধ্যে সাময়িক ভুলে যাওয়া, মনোযোগের ঘাটতি এবং সামাজিক আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো নানা উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হচ্ছে ‘ভার্চুয়াল অটিজম’। 

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দীর্ঘ সময় মোবাইল, ট্যাবলেট বা টেলিভিশনের স্ক্রিনের সামনে কাটিয়ে দেওয়ার ফলে শিশুদের মানসিক, সামাজিক ও ভাষাগত বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 

এ সম্পর্কে স্পিচ থেরাপিস্ট ড. ফাইজা জানান, ভার্চুয়াল অটিজমের লক্ষণগুলো সাধারণ অটিজমের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। এর সাধারণ কিছু লক্ষণ হলো-

সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: শিশুরা চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ধীরে ধীরে নিজেদের গুটিয়ে নেয় এবং নিজস্ব এক জগতে মগ্ন থাকে।

যোগাযোগ ও ভাষার সমস্যা: শিশুদের কথা বলায় জড়তা বা বিলম্ব দেখা দেয় এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা কমে যায়।

আচরণগত পরিবর্তন: শিশুরা খিটখিটে মেজাজের হয়ে পড়ে এবং তাদের আচরণে একগুঁয়েমি বা জেদি ভাব প্রকাশ পায়।

মনোযোগের অভাব: কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে তারা চরম সমস্যার সম্মুখীন হয়। 

আরও পড়ুনআরও পড়ুনখাবার তালিকা থেকে চিনি একেবারে বাদ দিলে বিপাকীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনবে: গবেষণা

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও উদ্বেগ 

শিশু বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল জব্বার শিশুদের এই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমকে একটি ‘উদ্বেগজনক সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ২ থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের অভিভাবকরা যেন অত্যন্ত সতর্ক থাকেন। এই বয়সের শিশুরা স্ক্রিনে কী দেখছে, তা যেন অবশ্যই তাদের বয়সোপযোগী এবং শিক্ষণীয় হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যাটি মূলত পরিবেশগত এবং অতিরিক্ত প্রযুক্তি-নির্ভরতার কারণে সৃষ্টি হয়। তাই সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। 

অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ 

ভার্চুয়াল অটিজমের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের বেশ কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। এই যেমন- 

স্ক্রিন টাইম সীমিত করা: মোবাইল ফোন, টেলিভিশন এবং ভার্চুয়াল গেমসের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সীমিত করতে হবে। 

গুণগত সময় কাটানো: অভিভাবকদের উচিত শিশুদের ভার্চুয়াল জগতের ওপর ছেড়ে না দিয়ে নিজেরা তাদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানো এবং সরাসরি কথা বলা। 

মাঠের খেলাধুলায় উৎসাহ: মোবাইল গেমসের বিকল্প হিসেবে শিশুদের ঘরের বাইরের ক্রিয়াকলাপ এবং শারীরিক খেলাধুলায় অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। 

সূত্র: সামা টিভি 


আভাস মাল্টিমিডিয়া

Fonuder & Director: Kaji Asad Bin Romjan Head Office: The Holy Quran Islamic School Kalitola, Sadar, Dinajpur, Bangladesh. Call: 01710-649751 ই-মেইল: avasmultimedia@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৯-২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আভাস মাল্টিমিডিয়া
‘ভার্চুয়াল অটিজম’ কী? অতিরিক্ত মোবাইল ফোনের ব্যবহারে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ
0:00 0:00
1.0x