1. admin@avasmultimedia.com : Kaji Asad Bin Romjan : Kaji Asad Bin Romjan
  2. melisenda@indexing.store : david06w10 :
  3. tilly@itchydog.store : karolynchappell :
  4. joannleslie6562@b.cr.cloudns.asia : magdacollick53 :
  5. hannasoliz3758@qiott.com : sheetaldubay7658gse :
বাথরুমে স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশা কি গুনাহর কাজ? - Avas Multimedia
শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০৪:২৭ অপরাহ্ন

বাথরুমে স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশা কি গুনাহর কাজ?

কাজী আসাদ বিন রমজান
  • প্রকাশের সময়ঃ রবিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১৬৬ বার দেখেছে

প্রশ্ন: বাথরুমে স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশা কি গুনাহর কাজ?
▬▬▬◍❂◍▬▬▬
উত্তর:
বাস্তবতা হল, যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের জিজ্ঞাসারাও পরিবর্তন হচ্ছে। বাথরুমে স্ত্রীসহবাস করার বিষয়টিও তেমনটি একটি প্রশ্ন। বর্তমানে অনেক মানুষই এ ব্যাপারে জানতে চায়। এটি খুবই স্বাভাবিক।
যাহোক, আমাদের অজানা নয় যে, পূর্ব যুগের পায়খানা/টয়লেট এবং আধুনিক যুগের বাথরুমগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। আধুনিক যুগে শহরের উন্নত বাড়িগুলোতে সাধারণত: বাথরুমগুলো মোজাইক, টাইলস, সিমেন্ট ইত্যাদি ব্যবহার করে অত্যন্ত পরিপাটি করে তৈরি করা হয় এবং তা খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখা হয়।

এ জাতীয় বাথরুমগুলোতে টয়লেটের পাশাপাশি গোসলের জন্য ঝর্ণা থাকে, কোথাও কোথাও বাথটব থাকে, হাতমুখ ধোয়ার বেসিন থাকে। বেসিনের সামনে আয়না রাখা হয় এবং বিভিন্ন কিছু দ্বারা সজ্জিত রাখা হয়। সেখানে পেশাব-পায়খানা বা ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ থাকে না বললেই চলে। মোটকথা, এগুলো দুর্গন্ধ ও জীবাণু মুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে রাখা হয়।
সুতরাং এমন পরিবেশে কেউ যদি বাথরুমে স্ত্রী মিলন করতে চায় তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তাতে কোনও সমস্যা নাই ইনশাআল্লাহ। হাদিসে এ ব্যাপারে কোনও নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয় নি। তবে নোংরা ও দুর্গন্ধময় টয়লেটে স্বামী-স্ত্রীর মিলন করা অনুচিত এবং একজন মুসলিম ব্যক্তির আত্মমর্যাদার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ।
যাহোক, আধুনিক বাথরুমগুলোতে স্ত্রী মিলনের ক্ষেত্রে কতিপয় বিষয় লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন:

✪ ১. বাথরুমে সহবাস করা নাজায়েজ না হলে তা থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকা ভালো। কারণ, তা সহবাসের উপযুক্ত স্থান নয়।

✪ ২. কেউ তা কোনও কারণে করতে চাইলে সহবাসের দুআ মুখে উচ্চারণ করে পড়বে না বরং মনে মনে বলবে। কারণ টয়লেটে দুআ, জিকির, তসবিহ, কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম ইত্যাদি সম্মান জনক বিষয়গুলো মুখে উচ্চারণ করা মাকরূহ। প্রখ্যাত তাবেঈ ইকরিমা রহ. বলেন, “টয়লেটে থাকা অবস্থায় মুখে উচ্চারণ করে যিকির করবে না তবে মনে মনে করতে পারে।” [আল আওসাত. ১/৩৪১]

✪ ৩. টয়লেটে প্রবেশের দুআগুলো (বিসমিল্লাহ..আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল খুবসি ওয়াল খাবাইস) পাঠ করবে। কেননা সেখানে শয়তান হাজির থাকে। দুআ পাঠ করে প্রবেশ করলে শয়তান বনি আদমের লজ্জা স্থান দেখতে পায় না। আর দুআ না পড়ে প্রবেশ না করলে সেখানে সহবাস পরিহার করা কর্তব্য। কারণ শয়তান তাদের ক্ষতি করতে পারে।

▪ আলী ইবনে আবি তালিব রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
سَتْرُ مَا بَيْنَ أَعْيُنِ الْجِنِّ وَعَوْرَاتِ بَنِي آدَمَ إِذَا دَخَلَ أَحَدُهُمْ الْخَلَاءَ أَنْ يَقُولَ بِسْمِ اللَّهِ
“যখন তোমাদের কেউ পায়খানায় প্রবেশ করবে তখন জিন শয়তানের চোখ ও বানী আদমের লজ্জা স্থানের মধ্যে পর্দা হল: বিসমিল্লাহ “আল্লাহর নামে প্রবেশ করছি” বলা। [সহীহ : তিরমিযী ৬০৬, সহীহুল জামি‘ ৩৫১১]
অর্থাৎ টয়লেটে প্রবেশের সময় ‘বিসমিল্লাহ’ পাঠ করলে জিন-শয়তানদের দৃষ্টির সামনে পর্দা ফেলে দেয়া হয়। ফলে তারা আর মানুষের লজ্জা স্থান দেখতে পায় না।

▪ অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ هذِهِ الْحُشُوْشَ مُحْتَضَرَةٌ فَإِذَا أَتى أَحَدُكُمُ الْخَلَاءَ فَلْيَقُلْ أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَاِبْنُ مَاجَةَ
যায়দ ইবনে আরকাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “এসব টয়লেটে জিন-শয়তানরা উপস্থিত হয়। সুতরাং তোমাদের যারা টয়লেটে যাবে তারা যেন এ দুআ পড়ে :
أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ.
“আ’উযু বিল্লাহি মিনাল খুবুসি ওয়াল খবায়িস”
“আমি আল্লাহর নিকট নাপাক নর-নারী জিন-শয়তান থেকে আশ্রয় চাই।”
[সহীহ : আবু দাউদ ৬, ইবনে মাজাহ্ ২৯৬, সহীহুল জামি‘ ২২৬৩।]

▪ সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটি বলেছে,
من آداب الإسلام أن يذكر الإنسان ربه حينما يريد أن يدخل بيت الخلاء أو الحمَّام ، بأن يقول قبل الدخول : ” اللهم إني أعوذ بك من الخبث والخبائث ” ، ولا يذكر الله بعد دخوله ، بل يسكت عن ذكره بمجرد الدخول .
“ইসলামের শিষ্টাচার হল, মানুষ যখন টয়লেট বা গোসলখানায় প্রবেশ করবে তখন তাদের প্রতিপালককে স্মরণ করবে এভাবে যে, প্রবেশের পূর্বে বলবে,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ
“আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস”
অর্থ: “হে আল্লাহ, তোমার নিকট নাপাক নর-নারী জিন-শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।” [বুখারি ও মুসলিম] আর প্রবেশ করার পর মুখে যিকির পাঠ করবে না বরং প্রবেশ করার সাথে সাথে যিকির পাঠ করা করা বাদ দিয়ে নীরবতা অবলম্বন করবে।” [ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৫/৯৩]
✪ ৪. কোনোভাবেই যেন তাদের লজ্জা স্থান বা মিলনের দৃশ্য অন্য মানুষ দেখতে না পায় সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে।
আল্লাহু আলাম
▬▬▬◍❂◍▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

এই পোষ্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সর্ম্পকিত আরোও দেখুন
© আভাস মাল্টিমিডিয়া সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯-২০২৪